দুর্নীতি দমন কমিশনের (দুদক) চেয়ারম্যান ইকবাল মাহমুদ বলেছেন, জাতির পিতা বরাবরই দুর্নীতির বিরুদ্ধে দীপ্ত উচ্চারণ করেছেন। তার অনেক ভাষণে উঠে এসেছে ঘুষ-দুর্নীতির বিরুদ্ধে দীপ্ত শপথ। তাই আসুন, আমরা দৃঢ়ভাবে শপথ নিই, আমরা নিজেরা দুর্নীতিমুক্ত থেকে দুর্নীতি দমনে আমাদের আইনি দায়িত্ব নির্মোহভাবে পালন করব। তাহলেই জাতির পিতার প্রতি প্রকৃত শ্রদ্ধা প্রদর্শন করা হবে।
তিনি শনিবার দুদকের প্রধান কার্যালয়ে জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের ৪৫ তম শাহাদত বার্ষিকী ও জাতীয় শোক দিবস উপলক্ষে আয়োজিত এক আলোচনা সভায় এ কথা বলেন।
ইকবাল মাহমুদ বলেন, ১৫ আগস্ট জাতির ললাটে কলঙ্কের তিলক এঁকে দিয়েছে খুনিরা। প্রজন্ম থেকে প্রজন্মান্তরে এ কলঙ্কের তিলক বয়ে বেড়াতে হবে। এই জঘন্য হত্যাকাণ্ডের প্রতিবাদ করে আমি বা আমরা রাজপথে নামি নাই, এটাই আমাদের লজ্জা। খুনিদের বিচার করে সেই লজ্জার আংশিক মোচন হতে পারে, কিন্তু পরিপূর্ণ মোচন কখনই হতে পারে না।
তিনি আরও বলেন, অনেকে আমাদের সমালোচনা করেন। আমরা প্রথম থেকেই সমালোচনাকে সাধুবাদ জানাই। আমরা সমালোচনা থেকে শিক্ষা নিয়ে আত্মসমালোচনা করে আত্মশুদ্ধির পথে এগোতে চাই।
আলোচনায় দুদক কমিশনার ড. মো. মোজাম্মেল হক খান জাতির পিতার ৫৫ বছরের বর্ণাঢ্য জীবনে কখনো মুজিব ভাই, কখনো বঙ্গবন্ধু, জুলিও কুড়ি কখনো জাতির পিতা সবই হয়েছেন। জীবনের সিংহভাগ কারাগারে কাটিয়েছেন। কারাগারকে তিনি লাইব্রেরি মনে করতেন। রাজনীতির এই মহান কবি জীবনের প্রতিটি মুহূর্তটা কাজে লাগিয়েছেন। জাতির পিতার নৃশংস এই হত্যার সঙ্গে যারা জড়িত তাদের কারও কারও বিচার হয়েছে। কারও কারও স্বাভাবিক মৃত্যু হয়েছে। কিন্তু ইতিহাসে তারা বিশ্বাসঘাতক হিসেবে চিহ্নিত। তারা মীরজাফর, ঘষেটি বেগম বা ক্লাইভদের উত্তরসূরি।
অপর কমিশনার এ এফ এম আমিনুল ইসলাম বলেন, পাকিস্তানি শাসক গোষ্ঠী জাতির পিতাকে ফাঁসি দেওয়ার সাহস পায়নি। সেই জাতির পিতাকে এ দেশেরই বিপদগামী কতিপয় কুলাঙ্গারের হাতে জীবন দিতে হয়েছে।
দুদকের প্রশাসন অনুবিভাগের মহাপরিচালক মো. জহির রায়হানের সঞ্চালনায় আরও বক্তব্য রাখেন দুদক সচিব মুহাম্মদ দিলওয়ার বখ্ত, মহাপরিচালক আবদুন নূর মুহম্মদ আল ফিরোজ, মো. রেজানুর রহমান, পরিচালক সৈয়দ ইকবাল হোসেন। পরে বিশেষ মোনাজাত পরিচালনা করেন দুদক মহাপরিচালক (লিগ্যাল) মো. মফিজুর রহমান ভূঞা। আলোচনা সভায় অন্যান্যের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন মহাপরিচালক সাঈদ মাহবুব খান, একেএম সোহেল, মো. জাকির হোসেনসহ অন্যান্য কর্মকর্তারা।