প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা নিজের এতিম হওয়ার কথা বলেন, অথচ তাদের ১২ বছরে শাসনামলে যারা এতিম হলো তাদের কথা বলেন না বলে অভিযোগ করেছেন বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম-মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী।
রবিবার জাতীয় প্রেসক্লাবে আব্দুস সালাম হলে জিয়াউর রহমান ফাউন্ডেশনের উদ্যোগে করোনা প্রতিরোধে জনসচেতনতা মূলক গান ও ভিডিও ক্লিপের মোড়ক উন্মোচন অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।
১৫ আগস্ট নিয়ে প্রধানমন্ত্রীর দেয়া বক্তব্যের কড়া সমালোচনা করে রিজভী বলেন, আগস্ট মাসে শেখ মুজিবুর রহমানসহ তার পরিবারের সদস্যরা নিহত হয়েছে এটা অত্যন্ত দুঃখজনক, আমরাও এটা মর্মান্তিক মনে করি। এইজন্য আপনি (প্রধানমন্ত্রী) এতিম হয়েছেন। আমরা অস্বীকার করছি না। কিন্তু ৭২ থেকে ৭৫ পর্যন্ত রক্ষী বাহিনীর গুলিতে হাজার হাজার বিরোধীদলীয় নেতা নিহত হয়েছেন যারা অনেকেই বিয়ে করেছিলেন, তাদের বাচ্চারা এতিম হয়েছেন, তাদের সম্পর্কে তো গতকাল আপনি কিছু বলেননি। এটাও তো বলা উচিত ছিল।
প্রধানমন্ত্রীর উদ্দেশে রিজভী আরও বলেন, আপনাদের সরকারের কারণে সারা দেশে যারা এতিম হলো তাদের কথা তো বলা উচিত ছিল শুধু নিজের কথা বলেন। আপনার শাসনামলে গত ১২ বছরে মিথ্যা ক্রসফায়ার, গুমের ঘটনায় যে সকল মানুষদের হত্যা করা হয়েছে তাদের ছেলে মেয়েরা এতিম হয়েছে তাদের কথা তো বলেননি।
বিএনপির এই নেতা বলেন, গোটা দেশকে খোকলা করা হয়েছে। জনগণের টাকা মেরে বিত্তবৈভব হয়েছে কার? আপনার আপনার দলের নেতা কর্মীদের। আপনি এতিমদের ভবিষ্যতের কথা বলেন কানাডার বেগম পাড়া আর মালয়েশিয়ার সেকেন্ড হোমে আপনার দলের নেতা কর্মীদের যত টাকা গিয়েছে সেই টাকা যদি যেতে না দিতেন, তাহলে সে টাকা দিয়ে দিয়েই বড় বড় এতিম খানা তৈরি করতে পারতেন। তাহলে তো এতিমদের শিক্ষা স্বাস্থ্য খাদ্য সব ব্যবস্থা করা যেত।
রিজভী বলেন, ঈদের পর থেকে করোনার প্রকোপ আরও বেড়েছে কিন্তু স্বাস্থ্যমন্ত্রী বলেছেন করোনা কমে গেছে। প্রতিদিন ব্রিফিং করে কম করে বললেও মানুষ কিছুটা জানতে পারছে কিন্তু সরকার মনে করছেন তারা বিব্রত হচ্ছেন এ জন্য ব্রিফিং বন্ধ করে দিয়েছে।
চোর-ডাকাত দুর্নীতিবাজ দিয়ে স্বাস্থ্য খাত ভর্তি বলে উল্লেখ করে রুহুল কবির রিজভী বলেন, এই খাত থেকে প্রতিদিনই দুর্নীতিবাজ বের হচ্ছে এবং আওয়ামী লীগের নেতা–কর্মীরা নকল মাস্ক, পিপিইসহ স্বাস্থ্য সরঞ্জাম সরবরাহে জালিয়াতি চক্র তৈরি করেছে এই স্বাস্থ্য মন্ত্রী থাকাকালীন অবস্থায়। স্বাস্থ্য খাতে যত দুর্নীতি হয়েছে সেগুলোর টাকা দিয়েই তো এতিমদের জন্য কোন ব্যবস্থা করা যেত।
এতিমদের প্রাপ্য টাকা দিয়ে আপনি প্রধানমন্ত্রী আপনার দলের নেতা–কর্মীদের ভবিষ্যৎ রচনার সুযোগ করে দিয়েছেন বলেও মন্তব্য করেন রিজভী।
আয়োজক সংগঠনের সভাপতি ডা. মো. আব্দুল করিমের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে আরও বক্তব্য দেন বিএনপির সহ তথ্য বিষয়ক সম্পাদক কাদের গণি চৌধুরী, নির্বাহী কমিটির সদস্য ওবায়দুর রহমান চন্দন, ব্যারিস্টার মীর হেলাল উদ্দিন, সালাউদ্দীন ভূঁইয়া শিশির, জাসাসের সহসভাপতি ইথুন বা্বু, সিনিয়র যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক জাকির হোসেন রোকন।