চার বছরেও শেষ হয়নি ‘চিটাগাং সিটি আউটার রিং রোড’ প্রকল্পের অধীনে কর্ণফুলীর তীর ঘেঁষে নগরীর পতেঙ্গা সমুদ্রসৈকত থেকে ফৌজদারহাট পর্যন্ত ১৭ কিলোমিটার দীর্ঘ সড়ক কাম বাঁধ নির্মাণ। সর্বশেষ চলতি বছরের জুনে ২ হাজার ৪২৬ কোটি টাকা ব্যয়ে প্রকল্পের নির্মাণকাজ শেষ হওয়ার কথা ছিল।
কিন্তু ভূমিসংক্রান্ত জটিলতায় প্রায় এক কিলোমিটার দীর্ঘ ফিডার (শাখা) রোডের কাজ শুরুই হয়নি। ব্লক বসানোসহ প্রায় ২৫ শতাংশ কাজ বাকি। ফলে আরও এক বছর (জুন, ২০২১) প্রকল্পের মেয়াদ বাড়ানো হয়েছে।
এ বিষয়ে প্রকল্প পরিচালক ও সিডিএর প্রধান প্রকৌশলী হাসান বিন শামস দেশ রূপান্তরকে বলেন, ‘করোনার কারণে প্রায় তিন মাস কাজ বন্ধ। ভূমিসংক্রান্ত জটিলতার সঙ্গে ফিডার রোডের ক্ষতিপূরণ নিয়ে ঝামেলার সুরাহা হয়নি। এজন্য নির্ধারিত সময়ে কাজ শেষ করা যায়নি। আগামী বছরের জুন পর্যন্ত প্রকল্পের মেয়াদ বাড়ানো হয়েছে।’
তিনি আরও বলেন, ‘ইতিমধ্যে জনদুর্ভোগ বিবেচনায় সড়কটিতে প্রাথমিকভাবে যান চলাচলের অনুমতি দেওয়া হয়েছে। আশা করছি, ফিডার রোড নির্মাণ, ব্লক বসানো, সাগরিকা অংশে ফ্লাইওভার নির্মাণসহ বাকি ২৫ শতাংশ কাজ বর্ধিত সময়ে শেষ হবে।’
সিডিএর কর্মকর্তারা জানান, প্রায় দুই বছর জাইকা নগরীর পতেঙ্গা সমুদ্রসৈকত থেকে ফৌজদারহাট পর্যন্ত বেড়িবাঁধের ওপর আউটার রিংরোড নির্মাণের সম্ভাব্যতা যাচাই করে অর্থের জোগান দিতে সম্মত হয়। পরে ২০০৭ সালে বাংলাদেশ সরকারের সঙ্গে জাইকার চুক্তি হয়। ২০১৬ সালের জুলাইতে নির্মাণকাজ শুরু হয়। সিডিএর তত্ত্বাবধানে ওই সময় প্রকল্পের ব্যয় ৮৬৫ কোটি টাকা ব্যয় ধরা হলেও পরে দুবার সংশোধন করে দাঁড়ায় প্রায় আড়াই হাজার কোটি টাকা।
সিডিএর প্রকৌশলী ও উপপ্রকল্প পরিচালক রাজীব দাশ বলেন, ‘প্রকল্পের অধীনে সমুদ্রপৃষ্ঠ থেকে প্রায় ৩০ ফুট উঁচু সড়ক ও ১১টি সস্নুইসগেইট নির্মাণ করা হয়েছে। সাগরের পানি যাতে বাঁধের ওপর সরাসরি আঘাত করতে না পারে সেজন্য দেওয়া হয়েছে বেষ্টনী দেয়াল ও সিমেন্টের ব্লক। ৭৫ ভাগ কাজ শেষ হয়েছে।’
তিনি আরও বলেন, ‘প্রকল্পটি নগরীর দক্ষিণ কাট্টলী থেকে সংযোগ রোডের মাধ্যমে স্টেডিয়ামের পাশ দিয়ে সাগরিকায় পোর্ট কানেকটিং রোড ও পতেঙ্গা থেকে কর্ণফুলী নদীর তলদেশে নির্মাণাধীন টানেলের সঙ্গে যুক্ত হওয়ার কথা। এজন্য সাগরিকা অংশে একটি ফ্লাইওভার নির্মাণ করা হচ্ছে। এটি বাস্তবায়িত হলে নগরীর যানজট কমবে। পাশাপাশি সড়ক দিয়ে চট্টগ্রাম বন্দর ও বিমানবন্দরগামী সব ধরনের যানবাহন অনায়াসে যাতায়াত করতে পারবে।’