১৯৯২ সালে চ্যাম্পিয়নস লিগ শুরুর পর এই প্রথম সেমিফাইনাল স্পেন, ইতালি ও ইংল্যান্ডের কোনো দল নেই! শনিবার চতুর্থ কোয়ার্টার ফাইনালে ম্যানচেস্টার সিটিকে ৩-১ গোলে হারিয়ে শেষ কোপটা মেরেছে ফ্রান্সের অলিম্পিক লিওঁ। ইংলিশ ধনকুবের ক্লাবটির হারের আগে স্পেনের দুই প্রতিনিধি বার্সেলোনা ও আতলেতিকো মাদ্রিদ হেরেছে জার্মানির দুই ক্লাব বায়ার্ন মিউনিখ ও লাইপজিগের কাছে। ইতালি থেকে কোয়ার্টার ফাইনালে উঠে আসা আতালান্তাকে বিদায় করেছে পিএসজি।
চ্যাম্পিয়নস লিগের আগের সংস্করণ ইউরোপিয়ান কাপ বিবেচনায় নিলে স্পেন, ইতালি ও ইংল্যান্ডের প্রতিনিধিত্ব ছিল না একবারই- ১৯৯১ সালে। সেবার সেমিতে উঠেছিল বায়ার্ন মিউনিখ, স্পার্তাক মস্কো, রেডস্টার বেলগ্রেড ও মার্শেই।
আগামীকাল প্রথম সেমিতে পিএসজি খেলবে জার্মান ক্লাব আরবি লাইপজিগের সঙ্গে। পরদিন বায়ার্ন মিউনিখের প্রতিপক্ষ লিওঁ।
লিওঁ ৩-১ : ম্যানসিটি
লিসনের এস্তাদিও হোসে আলভালাদেতে প্রথমার্ধে গোল হজমের পর দ্বিতীয়ার্ধের মাঝামাঝি সময়ে সমতায় ফেরে ম্যানচেস্টার সিটি। নড়েচড়ে বসেছিল সবাই। কিন্তু শেষদিকে আট মিনিটের ব্যবধানে দুই গোল করে জয় ছিনিয়ে নেন মুসা দেম্বেলে। ২০০৯-১০’র পর আবারও চ্যাম্পিয়নস লিগের সেমিতে জায়গা করে নেয় লিওঁ।
২৪ মিনিটে ম্যাচের প্রথম ভালো সুযোগটি থেকে গোল আদায় করে নেয় লিওঁ। মাঝমাঠ থেকে বল পেয়ে ডি-বক্সের দিকে এগোতে থাকা একাম্বিকে দেখে সামনে এগিয়ে আসেন সিটির গোলরক্ষক এদারসন। একাম্বি শট নেওয়ার আগেই ট্যাকল করেন এরিক গার্সিয়া। কিন্তু দুর্ভাগ্য সিটির। আলগা বল পেয়ে যায় ম্যাক্সওয়েল করনেট। আইভরি কোস্টের এই ফরোয়ার্ডের বাঁ পায়ের শট পোস্টে লেগে জালে জড়ায়।
প্রথমার্ধের শেষদিকে সমতায় ফিরতে পারত সিটি। ৪২ মিনিটে রহিম স্টার্লিংয়ের পাসে ডি-বক্সের ভেতরে ফাঁকায় বল পেয়েও গোল করতে পারেননি রদ্রি। তার দুর্বল শট সহজেই লুফে নেন লিওঁ গোলরক্ষক অ্যান্থনি লোপেস। বিরতির পর চাপ বাড়ায় ইংলিশ ক্লাবটি। সেই ধারাবাহিকতায় ৬৯ মিনিটে স্কোরলাইন ১-১ করেন বেলজিয়ামের মিডফিল্ডার ডি ব্রুইন। স্টার্লিংয়ের বাড়ানো বলে দূরের পোস্টে লক্ষ্যভেদ করেন তিনি।
খেলার ধারার বিপরীতে ৭৯ মিনিটে গোল করে আবার এগিয়ে যায় লিওঁ। মাঝমাঠে সিটি বল হারালে তা নিয়ে হুসেইম আউয়ার বাড়ান দেম্বেলেকে। অনেকখানি দৌড়ে ডি-বক্সের বাইরে থেকে জাল কাঁপান তিনি। ৮ মিনিট পর আবার গোল দেম্বেলের। মাঝমাঠে সিটি আবার বল হারালে এগিয়ে গিয়ে শট নেন আউয়ার। কিন্তু ভুল করে ফেলেন এডারসন। সহজ বল লুফে নিতে ব্যর্থ হলে ফায়দা তুলে নেন ফরাসি স্ট্রাইকার দেম্বেলে।