বেলারুশে বিতর্কিত নির্বাচনে জিতে প্রবল বিক্ষোভের মুখে দেশটির প্রেসিডেন্ট অ্যালেক্সান্ডার লুকাশেঙ্কো। তার বিরুদ্ধে ভোটচুরির অভিযোগ এনেছে জনগণ।
বিবিসি জানায়, লুকাশেঙ্কোকে হটাতে রবিবার লাখও মানুষ রাস্তায় নেমে আসে। কাজ ফেলে বিক্ষোভ যোগ দেয় কারখানার শ্রমিকেরা।
পুনর্নিবাচনে দাবিতে বিক্ষোভে যোগ দিয়েছেন রাষ্ট্রীয় টেলিভিশনের কর্মীরাও। তারা সেন্সরশিপ এবং নির্বাচনের ফলাফলের প্রতিবাদ করছেন।
কর্মীরা অফিস না আসায় টিভিতে পুরনো সব অনুষ্ঠান পুনঃপ্রচার করা হচ্ছে।
এদিকে পরাজিত বিরোধী দলীয় নেত্রী সভেতলানা তিখানোভস্কায়া ঘোষণা দেন, তিনি বেলারুশকে নেতৃত্ব দিতে প্রস্তুত আছেন।
সেইসঙ্গে নতুন করে সুষ্ঠু নির্বাচনের জন্য একটি আইনি ব্যবস্থা গড়ে তোলার আহ্বান করেন তিনি।
সোমবার লিথুয়ানিয়া থেকে ভিডিও বার্তায় তিখানোভস্কায়া বিক্ষোভে বাধা না দিতে নিরাপত্তাবাহিনীর সদস্য ও কর্মকর্তাদের প্রতি আহ্বান জানান।
তিনি বলেন, এখন যদি তারা সরে দাঁড়ায় তাহলে তাদের অতীত আচরণ ক্ষমা করে দেয়া হবে।
গত সপ্তাহে রবিবারের বিতর্কিত প্রেসিডেন্ট নির্বাচনের পর থেকে শুরু হওয়া এই বিক্ষোভে প্রায় ৬ হাজার ৭০০ মানুষ গ্রেপ্তারের শিকার হয়েছে। এর মধ্যে গুলিবিদ্ধ হয়ে ও পুলিশি হেফাজতে মারা গেছেন কয়েকজন বিক্ষোভকারী।
আটককৃতদের উপর পুলিশের ভয়াবহ নির্যাতন, মারধর ও ধর্ষণের হুমকির অভিযোগ তুলেছে আন্তর্জাতিক মানবাধিকার সংগঠনগুলো।
অন্যদিকে, প্রেসিডেন্ট লুকাশেঙ্কো রবিবার পৃথক সমাবেশ থেকে তার সমর্থকদের 'দেশ ও স্বাধীনতা' রক্ষার ডাক দিয়েছেন। রাশিয়ার সাথে তিনি ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক বজায় রেখে চলেছেন।
লুকাশেঙ্কো ক্ষমতায় আছেন একনাগাড়ে ১৯৯৪ সাল থেকে। তাকে বলা হয় 'ইউরোপের শেষ স্বৈরাচার'। তার দাবি, তিনি থাকলে বেলারুশে সরকারের স্থায়িত্ব থাকবে।
নির্বাচনী কর্তৃপক্ষের ঘোষণায় ৮০ শতাংশের বেশি ভোটের ব্যবধানে জিতেন লুকাশেঙ্কো। বিরোধী সমর্থকরা এই ফল প্রত্যাখান করে এবং ভোটচুরির অভিযোগে বিক্ষোভে নামে। নিরাপত্তা বাহিনীর সঙ্গে সংঘর্ষে এ বিক্ষোভ সহিংস রূপ নেয়।
তবে প্রধান বিরোধী দলের নেত্রী সভেতলানা তিখানোভস্কায়া সহিংসতা বন্ধের আহ্বান জানান। যদিও নিজে সাত ঘন্টা আটক অবস্থায় থাকার পর মুক্তি পেয়ে পালিয়ে লিথুয়ানিয়ায় আশ্রয় নেন তিনি।