জাতীয় হকি দলের সাবেক তারকা খেলোয়াড় ও কোচ এহতেশাম সুলতান আর নেই। রাষ্ট্রীয় পুরস্কারপ্রাপ্ত এই ক্রীড়াবিদ সোমবার ভোর সাড়ে ৫টায় মিরপুরের একটি বেসরকারি হাসপাতালে ৭৪ বছর বয়সে শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন। মৃত্যুর অল্প কিছুদিন আগে সুলতানের লিভার ক্যানসার ধরা পড়ে। গত দু’দিন তিনি হাসপাতালেই চিকিৎসাধীন ছিলেন। মৃত্যুকালে স্ত্রী, এক ছেলে, দুই মেয়েসহ অসংখ্য গুণগ্রাহী রেখে গেছেন।
এহতেশাম সুলতানের ছোট ভাই জাতীয় ফুটবল দলের সাবেক অধিনায়ক ইমতিয়াজ সুলতান জনি। তার আরেক ভাই এলহাম সত্তর দশকে আবাহনীর গোলরক্ষক ছিলেন। জনির যমজ ডনও ফুটবল খেলতেন। এহতেশাম সুলতান নিজেও পিডব্লিউডির হয়ে ঢাকার প্রথম বিভাগে ফুটবল খেলেন। তবে হকিতেই খ্যাতির শিখরে পৌঁছান।
১৯৬২ থেকে হকি খেলেছেন পিডব্লিউডি, ন্যাশনাল ব্যাংক অব পাকিস্তান এবং ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের হয়ে। ১৯৭০-এ বিশ্ব চ্যাম্পিয়ন পাকিস্তানের প্রদর্শনী ম্যাচে অংশ নেন পূর্ব পাকিস্তানের হয়ে। ১৯৭৩-এ ভারতের নেহরু কাপে ও ১৯৭৮-এ ব্যাংকক এশিয়াডে বাংলাদেশ দলের প্রতিনিধিত্ব করেন। পাশাপাশি এহতেশাম ১৯৭৪ পর্যন্ত সর্বোচ্চ পর্যায়ে ফুটবল খেলেছেন রহমতগঞ্জ, আজাদ স্পোর্টিং, ইস্ট এন্ড, পাকিস্তান পিডব্লিউডি ও বিজেএমসির হয়ে। খেলোয়াড়ি জীবন শেষে ভারতের পাতিয়ালায় হকি কোচিংয়ের ওপর ডিপ্লোমা করেন। আশি ও নব্বই দশকের পুরোটা জুড়েই জাতীয় দল থেকে শুরু করে বহু ক্লাব দলকে কোচিং করান। হকির আন্তর্জাতিক আম্পায়ারও ছিলেন। ২০০২-এর বুসান এশিয়াডে হকির জাজ হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন। সংগঠক হিসেবেও এহতেশাম সুলতান কীর্তিমান। ১৯৯৩-৯৫ হকি ফেডারেশনের যুগ্ম সম্পাদক ছিলেন। এছাড়া সফল ভূমিকা ছিল তার আম্পায়ারস বোর্ডের সম্পাদক, কোচিং কমিটির সম্পাদক ও চেয়ারম্যান হিসেবে। ১৯৮৭ থেকে ২০০৯ সাল পর্যন্ত বিভিন্ন মেয়াদে কার্যনির্বাহী সদস্য হিসেবে ফেডারেশনের সঙ্গে যুক্ত ছিলেন। জাতীয় পুরস্কার, বাংলাদেশ ক্রীড়া লেখক সমিতির পুরস্কারসহ বহু সম্মাননায় ভূষিত হয়েছিলেন এহতেশাম সুলতান।
গতকাল বাদ জোহর মিরপুর ১২ নম্বরে স্থানীয় মসজিদে বাদ জোহর প্রথম জানাজা হয় এহতেশাম সুলতানের। এরপর তার মরদেহ নিয়ে আসা হয় দীর্ঘদিনের কর্মস্থল মওলানা ভাসানী হকি স্টেডিয়ামে। সেখানে বেলা ৩টায় দ্বিতীয় জানাজা শেষে তাকে মিরপুরের কালশি করবস্থানে দাফন করা হয়।