জড়তা নেই তামিমের

মোস্তাফিজুর রহমান বা ফিজ গতকাল নেটে বোলিং শুরু করেছেন। এতদিন পর কিছুটা জড়তা থাকা স্বাভাবিক। কিন্তু ওয়ানডে অধিনায়ক তামিম ইকবাল টানা দ্বিতীয় দিন ব্যাট হাতে নেট সেশন করতে নেমে নিজেই অবাক। জড়তা এতটাই কম! মিরপুরে গতকাল একক অনুশীলন শেষে সেই বিস্ময়টাই মিডিয়ায় প্রকাশ করে গেলেন তামিম। সঙ্গে জানিয়ে গেলেন, দীর্ঘদিন পর জাতীয় দল মাঠে ফিরলেও আসন্ন শ্রীলঙ্কা সফরের ৩ টেস্ট ও ৩ টি-টোয়েন্টির সিরিজে বাংলাদেশের খুব ভালো সুযোগ আছে।

‘আসলে অনেক দিন পর প্র্যাকটিস শুরু করলাম। প্রায় চার-পাঁচ মাস পর। ব্যাটিংয়ের ক্ষেত্রে যতটা জড়তা থাকবে মনে করেছিলাম বিস্ময়করভাবে ততটা খারাপ অবস্থা না আমার। আমার কাছে মনে হয় যে ব্যাটিংটা মোটামুটি ঠিকই আছে। আর ফিটনেসের দিক থেকেও মোটামুটি ভালো আছেÑ’ জানালেন তামিম। ১৬ আগস্ট মাঠে অনুশীলন শুরু করেছেন এই বাঁহাতি ব্যাটসম্যান।

সেই মার্চের মাঝামাঝি সময় থেকে করোনা সংক্রমণ ঠেকাতে ঘরে বন্দি ছিলেন তামিম। অবশ্য নিয়ম মেনে ফিটনেস ট্রেনিং করে গেছেন। কিন্তু ঘরের ট্রেনিং আর মাঠের ট্রেনিংয়ের মধ্যে বিস্তর ফারাক। সেই ব্যবধান কমিয়ে আনবেন ধীরে ধীরে। তবে সবচেয়ে ভালো ব্যাপার হলো, মনের মধ্যে একটা ভালো অনুভূতি হচ্ছে তামিমের। বাংলাদেশের সেরা ওপেনার বলছিলেন, ‘ট্রেড মিল বলেন কিংবা বাসায় যেসব কাজ করি সেগুলো এই রোদে বা মাঠে করায় একটু ভিন্নতা আছে। এটা মানিয়ে নিতে হয়তো আরও সপ্তাহখানেকের মতো লাগবে। সপ্তাহখানেক পর হয়তো আরও একটু ভালো অবস্থায় থাকব। যেভাবে নিয়ম মেনে সবকিছু আমরা করছি তাতে আমার কাছে সবই ইতিবাচক লাগছে।’

ঘরে আটকে যাওয়া ক্রিকেটারদের সঙ্গে নিয়মিত যোগাযোগ ছিল কোচিং স্টাফদের। ক্রিকেটারদের জন্য সাপ্তাহিক রুটিন দেওয়া থাকত। হতো সেশন। ওটা যে বন্দি জীবনে খেলোয়াড়দের কতটা সহায়তা করেছে তা উল্লেখ করে তামিম বললেন, ‘এই চার মাসে বিসিবিও কিছু সেশন ঠিক করে দিয়েছিল আমাদের যেন আমরা মানসিকভাবে ভালো অবস্থায় থাকি। ব্যক্তিগতভাবে আমিও দুই-তিনটি সেশন করেছি। আমার কাছে মনে হয় এগুলো অবশ্যই সাহায্য করেছে।’ কিন্তু খেলোয়াড়দের মাঠের খেলা ছেড়ে ঘরে বসে থাকার মতো কঠিন কাজ কিছু হতে পারে না। তাই কথার শেষে এই ফুটনোট দিয়ে দেন তামিম, ‘চার মাস সময়টা সহজ ছিল না।’

কিন্তু অবশেষে ফেরা গেছে। এখনো গ্রুপ করে বা দলগতভাবে অনুশীলন শুরু হয়নি। সেপ্টেম্বরের মাঝামাঝি সময়ে ক্যাম্প শুরু হবে। তখন ক্রিকেটারদের হোটেলে থাকতে হবে। দীর্ঘদিন বাইরের পরিবেশ থেকে প্রায় বিচ্ছিন্ন থাকতে হবে তাদের। ২৩ সেপ্টেম্বর শ্রীলঙ্কা উড়ে যাওয়ার কথা। ওখানে এক মাসের ক্যাম্প। কঠোর সেই ট্রেনিংয়ের পর ২৪ অক্টোবর শ্রীলঙ্কার সঙ্গে প্রথম টেস্ট শুরুর সম্ভাব্য দিন।

তার আগে এর মধ্যে ক্রিকেটাররা ফিটনেস ও স্কিলের দিক দিয়ে যতটা এগিয়েছেন তার মধ্যে ইতিবাচক ব্যাপার দেখেন তামিম। সিরিজের আগে এখনো হাতে সময় আছে। সেটা ভালো ব্যাপার তার কাছে। আর সবচেয়ে ভালো হলো জাতীয় দল এখন জানে তাদের অ্যাসাইনমেন্ট বা সামনের মিশন কী।

‘আশা করি আমরা এভাবে এগোতে থাকব। আর এখন যেহেতু আমরা জানি যে আমাদের খেলা শুরুর একটা তারিখ আছে, আমরা জানি আমাদের খেলা কখন শুরু হবে, তাই সবাই নিজেদের মতো প্রস্তুতি নিচ্ছে টেস্টে খেলার জন্য।’ শ্রীলঙ্কায় খেলা ১২ টেস্টের মধ্যে ১০টিতে হার বাংলাদেশের। একটি ড্র। একটি জয়। খুব সুখের কথা হলো ২০১৭-এর শেষ সফরের শেষ ম্যাচটাতেই বাংলাদেশের দারুণ এক জয়ের সুখস্মৃতি। সব মিলে এই প্রতিপক্ষের সঙ্গে খেলা ২০ টেস্টে ওই একটাই জয়। তারপরও সেটা এক উজ্জীবনী মন্ত্রের মতো।

কিন্তু মহামারীর এই ধাক্কা কাটিয়ে যেখানে সবচেয়ে দুর্বল বাংলাদেশ সেই টেস্টে ভালো করা সম্ভব? তামিমের মতে খুব সম্ভব। ‘আমাদেরকে নিশ্চিত করতে হবে যে ওখান থেকে বের হয়ে এসে যেন তাড়াতাড়ি মানসিকভাবে ভালো অবস্থায় চলে আসি। কারণ আমাদের একটা বড় সফর আসছে সামনে।’ মানসিক দৃঢ়তার দিকটা নিশ্চিত করার ডাক দিয়ে শ্রীলঙ্কা সফর নিয়ে প্রচণ্ড আশায় বুক বেঁধে উপসংহার টানেন তামিম, ‘আমি বিশ্বাস করি যে আমাদের খুব ভালো সুযোগ আছে।’