এমপি-মেয়রকে নিয়ে ফেইসবুকে পোস্ট

চুয়াডাঙ্গায় ১১ নেতাকর্মীর নামে পাল্টাপাল্টি মামলা

চুয়াডাঙ্গা-১ আসনের সাংসদ সোলায়মান হক জোয়ার্দ্দার ছেলুনের বক্তব্যের ভিডিও বিকৃত করে ও পৌর মেয়র ওবায়দুর রহমান চৌধুরী জিপুর বিরুদ্ধে অপবাদ দিয়ে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে পোস্ট দেওয়ার ঘটনায় ডিজিটাল নিরাপত্তা আইনে পাল্টাপাল্টি মামলা হয়েছে।

গতকাল বুধবার সকালে জেলা ছাত্রলীগের সহ-সভাপতি সাহাবুল হোসেন ও জেলা স্বেচ্ছাসেবক লীগের সদস্য মাফিজুর রহমান মাফি চুয়াডাঙ্গা সদর থানায় পাল্টাপাল্টি দুটি মামলা করেন। সাহাবুল হোসেনের দায়ের করা মামলায় ছাত্রলীগ নেতা রকিবুল ইসলাম নিপ্পনসহ ৬ জনের নাম উল্লেখসহ অজ্ঞাতনামা আরও ৪০-৫০ জনকে আসামি করা হয়েছে। এজাহারে উল্লেখ করা হয়েছে, গত ১৩ আগস্ট জেলা শিল্পকলা একাডেমি চত্বরে ‘অস্থায়ী পুলিশ ক্যাম্পের ভবিষ্যৎ নির্ধারণে ওয়ার্কশপ’ শীর্ষক আলোচনা সভায় অংশ নেন সাংসদ সোলায়মান হক জোয়ার্দ্দার ছেলুন। সেখানে প্রধান অতিথি হিসেবে তিনি ১৬ মিনিট ৫৪ সেকেন্ড বক্তব্য দেন। কিন্তু ওই বক্তব্য কাটছাঁট এবং সম্পাদনা করে ৩০ সেকেন্ডের একটি অসত্য ও বিকৃত ভিডিও সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ফেইসবুকে প্রচার করা হয়।

অপরদিকে মাফিজুর রহমান মাফি জেলা ছাত্রলীগের সহ-সভাপতি সাহাবুল হোসেনসহ ৫ জনের নামে মামলা করেন। মামলার এজাহারে তিনি উল্লেখ করেন, গত ১৭ আগস্ট ভিজিএফের চাল নিয়ে চুয়াডাঙ্গা পৌর মেয়র ওবায়দুর রহমানের নামে মিথ্যা ও মানহানিকর তথ্য প্রচার করা হয়। আসামিরা তাদের  ফেইসবুক ওয়ালে মেয়রের নামে ভিত্তিহীন অপবাদ দিয়ে কুরুচিপূর্ণ স্ট্যাটাস পোস্ট করেছেন। এ বিষয়ে চুয়াডাঙ্গা সদর থানার ওসি আবু জিহাদ ফকরুল আলম খান জানান, চুয়াডাঙ্গায় আওয়ামী লীগের দুটি গ্রুপ দুই ধারায় বিভক্ত। গত ২৮ জুলাই ঈদুল আজহা উপলক্ষে গরিব অসহায়দের মধ্যে ভিজিএফের চাল বিতরণ নিয়ে পৌর মেয়রের কার্যালয়ে এমপি এবং মেয়রের সমর্থকদের মধ্যে বেশ অস্বস্তিকর পরিবেশের সৃষ্টি হয়। এ ঘটনার পরিপ্রেক্ষিতে মেয়র এবং এমপি পক্ষের সমর্থকরা পৌরসভার সামনে পাল্টাপাল্টি মানববন্ধনের মাধ্যমে একে অপরের বিরুদ্ধে বিষোদগার করেন। এসব ঘটনা নিয়ে এবং বিভিন্ন অনুষ্ঠানের বক্তব্য বা বক্তব্যের আংশিক কাটছাঁট করে কিংবা বিকৃতভাবে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে দুই গ্রুপেরই কিছু রাজনৈতিক কর্মী বা নেতাকে জেলার গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তিদের নিয়ে বাজে মন্তব্য করতে দেখা গেছে। এ বিষয়ে দুটি গ্রুপই পাল্টাপাল্টি মামলা করেছে।