জনপ্রিয় হচ্ছে মাটিছাড়া চাষাবাদ

রাজধানীতে জনপ্রিয় হয়ে উঠছে হাইড্রোপনিকস পদ্ধতিতে চাষাবাদ। এই পদ্ধতিতে মাটিছাড়া স্বল্প আয়তনের জায়গায় (২ স্কয়ায় ফিট) সবজি আবাদ করে পরিবারের চাহিদা মেটানো সম্ভব।

গ্রিন সেভার্স নামের একটি প্রতিষ্ঠান নগরীতে গাছগাছালির চিকিৎসার পাশাপাশি ছাদে বাগান করা নিয়ে কাজ করে। তারা করোনাকালে গত তিন মাসে অন্তত ৪৫ জনকে হাইড্রোপনিকস পদ্ধতিতে বাগান করে দিয়েছে।

গতকাল বুধবার মিরপুরে গ্রিন সেভার্সের কার্যালয়ে গিয়ে কথা হয় প্রতিষ্ঠানটির কর্মকর্তাদের সঙ্গে। তারা জানান, সবুজের সঙ্গে নগরবাসীর সংযোগ ঘটাতেই এ উদ্যোগ নিয়েছেন তারা। গ্রাহকরা চাহিদা দেওয়ার পর তার ছাদে পুরো হাইড্রোপনিকস পদ্ধতি দাঁড় করানো হয়। শুধু ছাদ নয়, বাড়ির বেলকনি এমনকি ঘরেও এই পদ্ধতিতে সবজি চাষ করা সম্ভব।

এনএফটি মডেলের আওতায় মাত্র দুই স্কয়ার ফিট জায়গায় ছয় থেকে ১২টি গাছ লাগানো যায়। পানিপ্রবাহ চলমান এবং স্বচ্ছ থাকায় এডিস মশা, কেঁচো ও শামুক বংশবিস্তার করতে পারে না। গাছের শক্তির জন্য শুধু পানিতে বছরে দুই থেকে তিনবার পুষ্টি (নিউট্রিয়েন্ট) যোগ করতে হয়।

গ্রিন সেভার্সের প্রতিষ্ঠাতা আহসান রনি দেশ রূপান্তরকে বলেন, ‘জায়গার অভাব ও বাগান পরিচর্যার সুযোগ যারা পান না, তাদের জন্য হাইড্রোপনিকস পদ্ধতি বেশি কার্যকর। মাত্র দুই থেকে তিন হাজার টাকায় এই বাগান করা সম্ভব। এই পদ্ধতিতে মূলত পল্লবিত সবজি (লিফি ভেজিটেবল) টমেটো,  ব্রোকলি, ক্যাবেজ, লেটুস, শিম, বরবটির চাষ ভালো হয়।’ তিনি আরও বলেন, ‘মাটি থেকে মূলত ফসল ও গাছপালায় রোগ ছড়ায়। এই পদ্ধতিতে মাটি না থাকায় রোগ-বালাইয়ের কোনো সম্ভাবনা নেই। সার কিংবা কীটনাশকও ছিটাতে হয় না। ফলে অনায়াসে বিষমুক্ত সবজি পাওয়া যায়।’