চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশনের (চসিক) গাড়িগুলোতে জ্বালানি তেল ব্যবহারে স্বচ্ছতা ও চুরি ঠেকাতে সরবরাহকারী প্রতিষ্ঠান পরিবর্তন করা হয়েছে। আর চসিকের যান্ত্রিক শাখায় জ্বালানি তেল সংগ্রহ ও বিতরণ যাচাই-বাছাইয়ে একটি কমিটি করা হয়েছে। সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন, এর মাধ্যমে জ্বালানি তেল ব্যবহারে দুর্নীতি রোধ করা যাবে। চসিকের নবনিযুক্ত প্রশাসক মো. খোরশেদ আলম সুজন দায়িত্ব নেওয়ার পরদিন গত ৭ আগস্ট চসিকের একটি অ্যাম্বুলেন্স থেকে তেল চুরির দায়ে কাজল চন্দ্র সেন নামে এক চালককে বরখাস্ত করা হয়। এরপরই যান্ত্রিক শাখার কর্মকাণ্ডে নজর দেয় ও খোঁজখবর নিতে থাকে কর্র্তৃপক্ষ।
চসিক প্রশাসক মো. খোরশেদ আলম সুজন দেশ রূপান্তরকে বলেন, চসিকের নিজস্ব যেসব যানবাহন আছে, সেগুলোর নামে প্রতিদিন হাজার হাজার লিটার তেল ব্যবহারের হিসাব আসছে। আসলেই এত বেশি তেল প্রয়োজন কি না তা আমরা খতিয়ে দেখছি। সম্প্রতি করপোরেশনের এক অ্যাম্বুলেন্স চালক তেল চুরির সময় ধরা পড়েছে। তাছাড়া দায়িত্ব নেওয়ার পর থেকে যান্ত্রিক শাখার বিরুদ্ধে নানা অনিয়মের অভিযোগ আসছে। এসব বিষয় বিবেচনায় এনে প্রথমে তেল ব্যবহারের স্বচ্ছতা নিয়ে একটা কৌশল নিয়েছি।
সুজন আরও বলেন, চসিকের যানবাহনগুলোতে ব্যবহারের জন্য আগে যেসব জ্বালানি তেল মেঘনা পেট্রোলিয়াম থেকে নেওয়া হতো, সেখান থেকে সরবরাহ কিছুদিনের জন্য বন্ধ রেখে আরেকটি প্রতিষ্ঠান থেকে সরবরাহ করা হবে। এরপর প্রতিদিন কী পরিমাণ তেল ব্যবহৃত হবে, তা জানতে পারব। তখন স্বচ্ছতা নিশ্চিত হতে পারব। দুর্নীতি পেলেই সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেব। খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, চসিকের ২০১৮-১৯ অর্থবছরের প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে, ওই অর্থবছরে পেট্রল, ডিজেলসহ নানা আনুষঙ্গিক খরচ হয়েছে ২৫ কোটি টাকা। আর চলতি অর্থবছরের বাজেটে এ খাতে বাজেট ধরা হয়েছে ৩০ কোটি টাকা।
এ প্রসঙ্গে চসিকের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা (সিইও) মুহাম্মদ সামসুদ্দোহা দেশ রূপান্তরকে বলেন, চসিকের যান্ত্রিক শাখায় জ্বালানি তেল সংগ্রহ ও বিতরণ যাচাই-বাছাইয়ে ইতিমধ্যে একটি কমিটি করা হয়েছে। কমিটিতে চসিকের তত্ত্বাবধায়ক প্রকৌশলী কামরুল ইসলামকে প্রধান করে নির্বাহী প্রকৌশলী আবু সাদ মো. তৈয়ব ও প্রধান হিসাবরক্ষণ কর্মকর্তাকে সদস্য করা হয়েছে। স্টক ভেরিফিকেশন করে এ কমিটিকে সাত দিনের মধ্যে প্রতিবেদন দিতে বলা হয়েছে। পাশাপাশি সরবরাহকারী প্রতিষ্ঠান মেঘনা পেট্রোলিয়ামকে জ্বালানি তেল সরবরাহ বন্ধ রাখতে বলা হয়েছে। নবনিযুক্ত প্রশাসকের নির্দেশনায় হাক্কানি ফিলিং স্টেশন থেকে কিছুদিন জ্বালানি তেল সংগ্রহের সিদ্ধান্ত হয়েছে।
এ বিষয়ে চসিকের যান্ত্রিক বিভাগের তত্ত্বাবধায়ক প্রকৌশলী সুদীপ বসাক দেশ রূপান্তরকে বলেন, পাজেরো, ট্রাক, মিনি ট্রাক, অ্যাম্বুলেন্স, এস্কেভেটর, মোটরসাইকেলসহ চসিকের নিজস্ব ৮৪৪টি যানবাহনে অকটেন ও ডিজেল ব্যবহৃত হয়। এছাড়া চসিকের অধীনে ১৯টি জেনারেটর ব্যবহৃত হয়। চসিকের এসব যানবাহন ও জেনারেটরে প্রতিদিন প্রায় সাড়ে ৮ হাজার লিটার ডিজেল ও অকটেন ব্যবহৃত হয়।