কাজের চাপে আত্মহত্যা করোনা চিকিৎসকের!

করোনার এই সংকটকালে ফ্রন্টলাইনে থাকা চিকিৎ‌সকরা সবচেয়ে চাপে আছেন। এমন পরিস্থিতিতে বিগত কয়েক মাসে বেশ কয়েকজন চিকিৎ‌সক আত্মহত্যা করেছেন।

এবার ভারতের কর্নাটকের এক চিকিৎ‌সক আত্মহত্যার পথ বেছে নিলেন। বৃহস্পতিবার নিজের বাড়িতেই আত্মহত্যা করেন কর্নাটক স্বাস্থ্য দপ্তরে কর্মরত ওই চিকিৎ‌সক।

স্বজনদের বরাত দিয়ে এই সময় জানিয়েছে, করোনা অতিমারীর জেরে বিগত কয়েক মাস ধরে যে চাপ তৈরি হয়েছিল, তা নিতে পারছিলেন না ওই চিকিৎ‌সক। হতাশাগ্রস্ত হয়ে পড়েছিলেন। সেই হতাশাই তাকে মৃত্যুর দিকে ঠেলে দেয়।

এদিকে রাজ্যের করোনা যোদ্ধার আত্মহত্যার খবর শুনে কর্নাটকের মুখ্যমন্ত্রী বিএস ইয়েদুরাপ্পা শুক্রবার উচ্চ পর্যায়ের তদন্তের নির্দেশ দেন।

আত্মঘাতী চিকিৎসকের নাম নগেন্দ্র এসআর। দুই দশকেরও বেশি সময় ধরে তিনি চিকিৎ‌সক হিসেবে কাজ করছিলেন। সম্প্রতি মাইসুরু জেলার নঞ্জনগুড স্বাস্থ্য দপ্তরে তাকে নিয়োগ দেওয়া হয়েছিল।

কেন্দ্রীয় সরকারের কভিড গাইডলাইনের উল্লেখ করে কর্নাটকের মুখ্যমন্ত্রী জানান, ডাক্তার এসআর নগেন্দ্রর পরিবারকে ৫০ লাখ টাকা ক্ষতিপূরণ দেওয়া হবে।

নগেন্দ্র ছিলেন নঞ্জনগুড অঞ্চলের স্বাস্থ্য কর্মকর্তা। মানবিকতার খাতিরে পরিবারের এক সদস্যকে চাকরি দেওয়ার কথাও ঘোষণা করেছেন ইয়েদুরাপ্পা।

আত্মঘাতী চিকিৎসকের সহকর্মী ও ঘনিষ্ঠ আত্মীয়রা জানান, রাজনৈতিক মহল ও ঊর্ধ্বতনের পক্ষ থেকে স্বাস্থ্যকেন্দ্রের ওপর প্রশাসনিক চাপ তৈরি করা হয়েছিল।

বেঙ্গালুরুর একাধিক স্বাস্থ্য কর্মকর্তা অভিযোগের সুরে বলেন, তাদের প্রত্যেককে দৈনিক কমপক্ষে ১০০টি করোনা পরীক্ষা করার টার্গেট দেওয়া হয়েছে। এতে চিকিৎসকদের ওপর ব্যাপক চাপ সৃষ্টি হয়েছে।