আসামে বিজেপির মুখ্যমন্ত্রী প্রার্থী রাম মন্দিরের রায় দেয়া বিচারপতি গগৈ!

রাম মন্দির রায় দেয়া ভারতের সুপ্রিম কোর্টের সাবেক প্রধান বিচারপতি রঞ্জন গগৈ আগামী বিধানসভা নির্বাচনে আসামে বিজেপির মুখ্যমন্ত্রী পদপ্রার্থী হতে পারেন।

টাইমস অব ইন্ডিয়া জানায়, আসামের সাবেক মুখ্যমন্ত্রী ও কংগ্রেস নেতা তরুণ গগৈ বিষয়টি সামনে আনেন। তার দাবি, গোপন সূত্রে তিনি এই খবর পেয়েছেন।

কংগ্রেসের এ নেতা বলেন, ‘রাজনীতিতে সবই হয়। রঞ্জন গগৈর রাম মন্দির রায়ে বিজেপি অত্যন্ত খুশি। তারই পুরস্কার হতে পারে মুখ্যমন্ত্রী পদ।’

বিতর্ক এবং বিরোধীদের প্রবল প্রতিবাদের মধ্যে গত মার্চে রাজ্যসভার সাংসদ হন রঞ্জন গগৈ।

দেশটির রাষ্ট্রপতি রামনাথ কোবিন্দ সাবেক প্রধান বিচারপতি গগৈকে রাজ্যসভার সদস্য মনোনীত করেন। এ নিয়ে তাৎক্ষণিক দেশটির রাজনৈতিক মহলে বিতর্কের ঝড় ওঠে।

রঞ্জন গগৈকে সদস্য করার প্রতিবাদে রাজ্যসভা থেকে ওয়াকআউট করেন কংগ্রেস ও বহুজন সমাজ পার্টির সাংসদরা।

তরুণ গগৈ বলেন, ‘রাজনীতিতে এসে রাজ্যসভার মনোনয়ন গ্রহণ করলেন গগৈ। কেন তিনি রাজ্যসভার সদস্যপদ প্রত্যাখ্যান করলেন না? উনি সহজেই মানবাধিকার কমিশন বা এই জাতীয় কোনো সংস্থার চেয়ারম্যান হতে পারতেন। কিন্তু তা না করে উনি রাজনীতিতে প্রবেশ করলেন। ওনার রাজনৈতিক উচ্চাকাঙ্ক্ষা রয়েছে তাই উনি রাজ্যসভার মনোনয়ন গ্রহণ করেছেন।’

তিনি বলেন, ‘আমি জানতে পেরেছি বিজেপি আসামে মুখ্যমন্ত্রী পদপ্রার্থীদের যে তালিকা প্রস্তুত করেছে, তাতে রঞ্জন গগৈর নাম রয়েছে। আমার অনুমান তিনিই বিজেপির আগামী নির্বাচনের মুখ্যমন্ত্রী পদপ্রার্থী।’

আগামী বিধানসভা নির্বাচনে প্রার্থী হবেন না বলে জানান তরুণ গগৈ। বরং তিনি বিধানসভা নির্বাচনে ক্ষমতাসীন বিজেপিকে ক্ষমতাচ্যুত করার জন্য অ-বিজেপি দলগুলোকে নিয়ে মহাজোট গঠনের পক্ষে কাজ করছেন।

এদিকে সাবেক বিচারপতি গগৈকে নিয়ে কংগ্রেস নেতার দাবি প্রসঙ্গে আসামে বিজেপি মুখপাত্র রূপম গোস্বামী জানান, ‘তরুণ গগৈর মন্তব্য বিষয়ে কোনো কথা বলতে চাই না। উনি বোধয় পার্টির বাইরের লোক হয়েও পার্টি সম্পর্কে বেশি খোঁজখবর রাখেন।’

অবসরের আগমুহূর্তে অযোধ্যার বাবরি মসজিদের জমিতে রাম মন্দির নির্মাণের নির্দেশ সম্বলিত বিতর্কিত রায় দেন প্রধান বিচারপতি গগৈর নেতৃত্বাধীন পাঁচ সদস্যের বেঞ্চ।

গগৈর অবসর নেওয়ার পরই তার রাজনীতিতে আসা নিয়ে জোর বিতর্ক সৃষ্টি হয়। রাজ্যসভায় মনোনয়ন নিয়ে প্রশ্ন ও ক্ষোভ প্রকাশ করেন তারই এককালের সহকর্মী মদন লোকুর।

বিরোধীদের অভিযোগ, বিচারপতি থাকাকালীন সরকারকে সুবিধা পাইয়ে দিয়েছেন গগৈ। আর এখন তারই পুরস্কার পাচ্ছেন তিনি।