ঢাকা-৫ আসনকে মডেল সিটি বানানোর প্রত্যয় ব্যক্ত করলেন বঙ্গবন্ধু সৈনিক লীগের প্রথম জাতীয় সম্মেলন প্রস্তুতি কমিটির সদস্যসচিব, এশিয়ান গ্রুপ ও এশিয়ান টিভির চেয়ারম্যান আলহাজ্ব মো. হারুন-উর-রশীদ (সিআইপি)।
রবিবার রাজধানীর যাত্রাবাড়ীর আইডিয়াল হাই স্কুল অ্যান্ড কলেজ প্রাঙ্গণে জাতীয় শোক দিবস ও ২১ আগস্ট গ্রেনেড হামলা দিবস উপলক্ষে আলোচনা সভা, দোয়া ও মিলাদ মাহফিলে তিনি এ কথা বলেন।
ঢাকা-৫ আসনের উপনির্বাচনে আওয়ামী লীগ থেকে মনোনয়ন প্রত্যাশী হারুন-উর-রশীদ বলেন, ‘বঙ্গবন্ধুর আদর্শে উজ্জীবিত হয়ে মুক্তিযুদ্ধ করেছি, জাতির পিতার সুযোগ্য কন্যার নেতৃত্বে দেশজুড়ে এখন চলছে উন্নয়নের নানা যজ্ঞ। পদ্মা সেতু না হওয়ার জন্য এ দেশেরই কিছু লোক ষড়যন্ত্রে লিপ্ত হয়েছিল। কিন্তু প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার দৃঢ় মনোবলের কারণে পদ্মা সেতু এখন দৃশ্যমান। কর্ণফুলী টানেলসহ নানা উন্নয়নকাজ হচ্ছে সারা দেশে। ঢাকা-৫ আসন থেকে আমাকে যদি মনোনয়ন দেওয়া হয় তবে এই এলাকার উন্নয়নের অগ্রযাত্রাকে সামনের দিকে এগিয়ে নিয়ে যাব। ঢাকা-৫ আসনকে মডেল সিটি বানাতে চাই।’
মাদক, চাঁদাবাজির বিরুদ্ধে কাজ করবেন উল্লেখ করে হারুন-উর-রশীদ বলেন, ‘প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার নেতৃত্বাধীন আওয়ামী লীগ সরকার মাদক, চাঁদাবাজির বিরুদ্ধে জিরো টলারেন্স ঘোষণা করেছে। মাদকমুক্ত, চাঁদাবাজিমুক্ত এলাকা হিসেবে প্রতিষ্ঠিত করব ঢাকা-৫ আসনকে। আমি যদি যোগ্য বিবেচিত হই, নিশ্চয় আমাকে মনোনয়ন দেবেন’।
হাবিবুর রহমান মোল্লার মৃত্যুর পর শূন্য হওয়া এ আসনে ১৭ অক্টোবর উপনির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে। এ নির্বাচনে আওয়ামী লীগের মনোনয়নপত্র সংগ্রহ করেছেন হারুন-উর-রশীদ।
অনুষ্ঠানে বক্তব্য দেন দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণ প্রতিমন্ত্রী ডা. এনামুর রহমান।
তিনি বলেন, ‘জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানকে হত্যার মধ্য দিয়ে যারা যড়যন্ত্র করেছে, তারা এখনো ষড়যন্ত্র করে যাচ্ছে। জননেত্রী শেখ হাসিনাকে হত্যা চেষ্টার মধ্য দিয়ে বঙ্গবন্ধুর আদর্শকে মুছে দেওয়ার চেষ্টা করেছিল, তারা সেটা করতে পারেনি। শেখ হাসিনার নেতৃত্বে দেশ এগিয়ে যাচ্ছে। বঙ্গবন্ধুর আদর্শেই বাংলাদেশ এগিয়ে যাবে।’
হারুন-উর-রশীদকে শুভকামনা জানিয়ে এনামুর রহমান বলেন, ‘হারুন-উর-রশীদ তার কাজের মধ্য দিয়ে নিজের যোগ্যতা প্রমাণ করেছেন। তার জন্য শুভকামনা জানাই’।
অন্যান্যের মধ্যে বক্তব্য দেন ঢাকা-৪ আসনের সংসদ সদস্য সৈয়দ আবু হোসেন বাবলা, সংরক্ষিত আসনের সংসদ সদস্য শিরীন আহমেদ, ঢাকা মহানগর দক্ষিণ আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক হুমায়ুন কবির, রূপায়ণ গ্রুপের ভাইস চেয়ারম্যান মাহির আলী খাঁন রাতুল।
জাতীয় পার্টির সংসদ সদস্য সৈয়দ আবু হোসেন বাবলা বলেন, ‘আমাদের মাঝে রাজনৈতিক মতবিরোধ থাকতে পারে। কিন্তু বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানকে নিয়ে কোনো বিতর্ক নাই। বঙ্গবন্ধুর আদর্শকে ধারণ করে শেখ হাসিনা যেভাবে দেশকে এগিয়ে নিয়ে যাচ্ছেন, তা অনন্য দৃষ্টান্ত। যারা বঙ্গবন্ধুকে সপরিবারে হত্যা করেছে, শেখ হাসিনাকে হত্যার ষড়যন্ত্র করেছে, তাদের বিরুদ্ধে সজাগ থাকতে হবে’।
শিরীন আহমেদ বলেন, ‘ঘাতকরা ভেবেছিল, বঙ্গবন্ধুকে হত্যা করতে পারলে বাংলাদেশের আদর্শকে হত্যা করা যাবে। কিন্তু শেখ হাসিনা পথ হারাতে দেননি। শেখ হাসিনাকেও হত্যার চেষ্টা হয়েছে। কিন্তু শেখ হাসিনা জীবন বাজি রেখে দেশকে এগিয়ে নিয়ে যাচ্ছেন’।
মাহির আলী খাঁন রাতুল বলেন, ‘এই এলাকার উন্নয়নে হারুন-উর-রশীদ বিশেষ ভূমিকা রাখতে পারবেন বলেই আমি বিশ্বাস করি। তিনি সৎ মানুষ। আপনাদের সুখে-দুঃখে পাশে থাকবেন’।
আওয়ামী লীগ নেতা হুমায়ুন কবির বলেন, ‘মুক্তিযুদ্ধের পরবর্তী সময়ে যারা ১৫ আগস্টের খুনিদের আশ্রয়-প্রশ্রয় দিয়েছেন, তাদেরও শাস্তির আওতায় আনতে হবে’।
১৫ আগস্ট জাতীয় শোক দিবস ও ২১ আগস্ট গ্রেনেড হামলা দিবস উপলক্ষে হারুন-উর-রশীদ এর উদ্যোগে আয়োজিত এ অনুষ্ঠানে আরো বক্তব্য দেন আওয়ামী লীগ নেতা আইনাল হক মিন্টু, ইঞ্জিনিয়ার মাহমুদুল হাসান, মুজিবুর রহমান, ছাত্রলীগের সাবেক সহসভাপতি কামাল হাসান, যাত্রাবাড়ী আওয়ামী লীগের নেতা রানা, সিরাজ উদ্দিন সিরাজ, মনির হোসেন স্বপন, লিটন প্রমুখ।
কামাল হাসান বলেন, ‘হারুন-উর-রশীদ সাহেব কিছু নিতে আসেননি, দিতে এসেছেন। তিনি অর্থবিত্তের মালিক, জনগণের পাশে সবসময় দাঁড়িয়েছেন। করোনা পরিস্থিতিতেও তিনি যেভাবে মানুষের পাশে দাঁড়িয়েছেন তা অনন্য দৃষ্টান্ত’।
যাত্রাবাড়ী আওয়ামী লীগের নেতা রানা বলেন, ‘হারুন-উর-রশীদকে এই এলাকায় সংসদ সদস্য হিসেবে চাই, কারণ এলাকার উন্নয়নে তার কোনো বিকল্প নাই। দুঃসময়ে যারা যাত্রাবাড়ী আওয়ামী লীগের হাল ধরেছেন তাদের দাবি তাকে মনোনয়ন দেওয়া হোক’।
আয়োজনটি সঞ্চালনা করেন নুরুজ্জামান।