নির্মাণকাজ শেষ হওয়ার দুই মাস না যেতেই ভাঙতে শুরু করেছে পটুয়াখালীর কলাপাড়ার নিজামপুরের বন্যা নিয়ন্ত্রণ বাঁধ।
ফলে এক যুগের পানিবন্দি দশা থেকে এলাকাবাসী মুক্তির যে স্বপ্ন দেখেছিল তা ভেস্তে যেতে বসেছে। নতুন করে দেখা দিয়েছে পানিবন্দির শঙ্কা। আর এ জন্য পানি উন্নয়ন বোর্ডের অপরিকল্পিত প্রকল্প প্রণয়নসহ ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানের নিম্নমানের কাজকে দায়ী করছেন এলাকাবাসী।
খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, ২০০৭ সালে ঘূর্ণিঝড় সিডরের আঘাতে ভেঙে যায় পটুয়াখালীর কলাপাড়ার নিজামপুরের ৫ কিলোমিটার বন্যা নিয়ন্ত্রণ বাঁধ। এরপর ৫ দফা নির্মাণ ও পুনঃনির্মাণ কাজ হলেও তা টেকসই না হওয়ায় ফি বছরই ভেঙে যায়।
এতে বছরের প্রায় ছয় মাস দু’দফা জোয়ারের পানিতে বন্দি হয়ে পড়ে সাগর মোহনার নিজামপুর, সুধীরপুর, কমরপুর ও নজীবপুর (একাংশ) গ্রামের প্রায় সাত হাজার মানুষ।
নদীতে বিলীন হয়ে যায় এসব এলাকার প্রায় এক হাজার একর ফসলি জমি, শতাধিক বসতভিটা। বছরের পর বছর অনাবাদি থাকে ৩ হাজার একর ফসলি জমি। বসতভিটাসহ জীবন-জীবিকা হারিয়ে পানিবন্দি এলাকাবাসী পার করে মানবেতর জীবন।
এলাকাবাসীর দুর্ভোগ লাঘবে পানি উন্নয়ন বোর্ড ২ কোটি ৮৪ লাখ টাকা ব্যয়ে ৮৮৫ মিটার বাঁধের নির্মাণ কাজ হাতে নেয়। খান ট্রেডার্স, রূপালী কনস্ট্রাকশন, মেসার্স আবুল কালাম আযাদ, কোহিনুর এন্টারপ্রাইজসহ চারটি ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান জুন ২০২০ সালে বেড়িবাঁধের র্নিমাণ কাজ সম্পন্ন করে। এর মধ্যে খান ট্রেডার্স দুটি গ্রুপে যথাক্রমে ১ কোটি ১২ লক্ষ টাকা ও ৫৫ লক্ষ টাকা, রূপালী কনস্ট্রাকশন ৫৩ লাখ টাকা, মেসার্স আবুল কালাম আযাদ ৫৯ লাখ টাকা, কোহিনুর এন্টারপ্রাইজ ৫০ লাখ টাকার কাজ করে।
প্রথমে মাটি ভরাট করে নদীর পাড়ের স্লোপে বালু-সিমেন্ট মিশ্রিত জিও ব্যাগ প্রতিস্থাপন করা হয়। এর মধ্যে নিজামপুরে দুটি অংশে প্রায় ১ কিলোমিটার, সুধীরপুর ও কমরপুরের প্রায় দেড় কিলোমিটাররে জিও ব্যাগ দেয়া হয়নি।
স্থানীয়দের অভিযোগ, ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানের মানহীন কাজের কারণে দু’মাস না যেতেই বাঁধের নিজামপুরের দরজার খাল ও নিজামপুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়সহ কমরপুরের ২টি পয়েন্টে ও সুধীরপুরের একটি অংশে দেখা দিয়েছে তীব্র ভাঙন। এখনো জমাট বাঁধেনি জিও ব্যাগের বালু-সিমেন্ট।
নিজামপুরের আশ্রাব মৃধা, নুর জামাল, হানিফ চৌকিদার বলেন, ২০০৭ সালে প্রথম বাঁধের নির্মাণ কাজ করার সময় সুধীরপুরের ১ কিলোমিটার অংশে বালু-পাথর-সিমেন্টের ব্লক দেয়া হয়। যা এখনো অক্ষত রয়েছে। সেখানকার নদী পাড়ে চর পড়তে শুরু করেছে। এরপরে চার দফা মাটির কাজ করা হলেও তা বর্ষা মৌসুমেই ভেঙে যায়।
সুধীরপুর এলাকার ইউনুচ চৌকিদার, মনির চৌকিদার দেশ রূপান্তরকে বলেন, বড় বড় নেতা, অফিসার আমাদের দুর্ভোগ দেখে যায়। স্থায়ী সমাধানের আশ্বাস দেয়। কিন্তু নামেমাত্র মেরামত কাজ হয়।
পানি উন্নয়ন বোর্ডের কলাপাড়া সার্কেলের উপ-বিভাগীয় প্রকৌশলী মুসফিকুর রহমান শুভ দেশ রূপান্তরকে বলেন, অপরিকল্পিত প্রকল্প প্রণয়নসহ নিম্নমানের কাজের কারণে বাঁধে ভাঙন সৃষ্টি হয়েছে এমন অভিযোগ সঠিক নয়। মূলত ঘূর্ণিঝড় আম্পানে বাঁধ ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। ক্ষতিগ্রস্ত অংশ দ্রুত মেরামতের জন্য পদক্ষেপ নেয়া হচ্ছে।