পনেরো আগস্টের খলনায়কেরা প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গেই আছেন: রিজভী

১৫ আগস্টের মর্মান্তিক হত্যাকাণ্ডের খলনায়কেরা প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে এখনো রয়েছেন বলে মন্তব্য করেছেন বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী।

রাজধানীর নয়াপল্টনে সোমবার দুপুরে বিএনপির কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে এক সংবাদ সম্মেলনে তিনি এ কথা বলেন।

রিজভী বলেন, ১৫ আগস্টের মর্মান্তিক হত্যাকাণ্ডের খলনায়কেরা প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গেই এখনো রয়েছেন। কিন্তু কোন অজানা রহস্যজনক কারণে প্রধানমন্ত্রী তাদের কথা বলেন না। ১৫ আগস্টের রক্তাক্ত ঘটনার সঙ্গে সঙ্গেই যারা কেবিনেট এবং সংসদ সদস্য থাকলেন তারা মরহুম শেখ মুজিবুর রহমানের কেবিনেট ও পার্লামেন্টে ছিলেন। এটি নতুন করে বলার আর প্রয়োজন নেই যে, আওয়ামী লীগের নেতারাই রক্তাক্ত লাশ ডিঙিয়ে নতুন করে শপথের মাধ্যমে মন্ত্রিসভা গঠন করে খন্দকার মোশতাকের নেতৃত্বে। খন্দকার মোশতাক ১৫ আগস্ট পর্যন্ত বাকশালের মন্ত্রী ছিলেন এবং বাকশালের পার্লামেন্টেই খন্দকার মোশতাক আহমেদ রাষ্ট্রপতি হওয়ার পর তার অধীনে কার্যক্রম চালাতে থাকে। খন্দকার মোশতাকের মন্ত্রিসভার শপথ পরিচালনা করেছেন বর্তমান প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা এইচ টি ইমাম।

আরও বলেন, ১৫ আগস্টের পর খন্দকার মোশতাকের সময়ে জাতীয় সংসদের স্পিকার এবং মন্ত্রী পরিষদের অনেক সদস্যই শেখ হাসিনার অধীনে রাজনীতি করেছেন। কিন্তু তাদের কখনো খলনায়ক তিনি বলেননি। জিয়াউর রহমান সরকারি চাকরি করতেন এইচ টি ইমামের মতোই। সেনাবাহিনী সরকারের একটি বিভাগ। তিনি ছিলেন সেনাবাহিনীর দ্বিতীয় ব্যক্তি, প্রথম ব্যক্তি নন। যিনি সেনাবাহিনীর প্রধান তার কোন দায় নেই, দায় নাকি জিয়াউর রহমানের! তৎকালীন সেনাপ্রধান জনাব শফিউল্লাহর হাতেই ছিল সমগ্র সেনাবাহিনীর কমান্ড। অথচ আওয়ামী লীগের এমপি হওয়ার কারণে তিনি অভিযুক্ত নন। কারণ যে যত অপরাধই করুক শেখ হাসিনার আনুগত্য করলে তার সাত খুন মাফ।

রিজভীর মতে, ১৫ আগস্টের সঙ্গে আওয়ামী লীগ নিজেরাই জড়িত তা দিবালোকের মতো যেমন সত্য ঠিক তেমনিই সুপরিকল্পিতভাবে ২১ আগস্টের সঙ্গেও আওয়ামী লীগের আপনজনরা জড়িত। ২১ আগস্টে বোমা হামলার পূর্বাপর ঘটনা পরম্পরাতে তা সুস্পষ্ট। অসংখ্য উদাহরণের মধ্যে একটি হচ্ছে- মুক্তাঙ্গন থেকে আওয়ামী কার্যালয়ে কেন তারা সভা স্থানান্তর করেছিলেন, সেই রহস্য সম্পর্কে তারা নির্বাক থাকেন।

তিনি বলেন, স্বাধীনতার পর থেকেই আওয়ামী বিরোধীদের নিশ্চিহ্ন করার রক্তাক্ত কর্মসূচি গ্রহণের উদাহরণ একমাত্র আওয়ামী সরকারের। বাম নেতা ও প্রখ্যাত মুক্তিযোদ্ধা সিরাজ সিকদারসহ সেই সরকারের আমলেই জাসদ ও বাম সংগঠনের হাজার হাজার নেতা-কর্মীকে হত্যার মধ্য দিয়ে খুনের রাজনীতির ঐতিহ্য তৈরি করে আওয়ামী লীগ। এর পরে যতবারই তারা ক্ষমতায় আসছেন ততবারই পুলিশের কাস্টডিতে বিরোধী দলের নেতা–কর্মীদের খুনসহ মিছিলে-জনসভায় আক্রমণ করে খুন করার নজির একমাত্র আওয়ামী লীগের। আর এবারের ১২ বছরের দুঃশাসনের সীমাহীন লুটপাট-টাকা পাচার-ব্যাংক লোপাটের পাশাপাশি বিচারবহির্ভূত হত্যা ও গুমের সমর্থক শব্দ হয়েছে আওয়ামী লীগ।

বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব বলেন, সরকারের আত্মম্ভরি ও বাধ্যকরণের নীতির কারণ হচ্ছে সব সেক্টরে তারা ব্যর্থ হয়েছে নিদারুণভাবে। অর্থনীতি অধোগতি, করোনা মোকাবিলায় ব্যর্থতা, হাসপাতালে করোনা রোগীর চিকিৎসা না থাকা, আইসিইউর অভাব, নমুনা পরীক্ষার দীর্ঘসূত্রতা, ফল পাওয়ার আগেই রোগীর মৃত্যুসহ স্বাস্থ্যব্যবস্থার বিপর্যয়, মৃত্যু ও রোগাক্রান্তের সংখ্যা বৃদ্ধি, ধ্বংসপ্রাপ্ত শিক্ষা, মানুষের জীবনের নিরাপত্তাহীনতা, কর্মসংস্থানের অভাব, লাখ-লাখ বেকার, দুর্নীতি, টাকা পাচার, ভৌতিক বিদ্যুৎ বিল, গ্যাস, সুপেয় বিশুদ্ধ পানির অভাব ও মূল্যবৃদ্ধি, আইন ও বিচার বিভাগকে হস্তগত করা, ক্যাসিনো, ভয়ংকর সামাজিক অবক্ষয়, নারী-শিশু নির্যাতন ও ক্রসফায়ারের জন্য এক মনুষ্যত্বহীন বর্বর চেহারা ফুটে উঠেছে বাংলাদেশের।

সঙ্গে যোগ করেন, এরা দেশের মানব জীবনকে ঝুঁকির মধ্যে ফেলে যে নৈরাজ্য সৃষ্টি করেছে সেটিকে ঢাকতেই ১৫ আগস্ট ও ২১ আগস্ট নিয়ে দেশের মাতৃভূমির মুক্তির জন্য ঝাঁপিয়ে পড়া মহান স্বাধীনতার ঘোষক শহীদ জিয়া ও গণতন্ত্র পুনরুদ্ধারের অবিসংবাদিত নেত্রী, সরকারের জুলুম ও নির্যাতনের শিকার বেগম খালেদা জিয়া এবং নির্যাতিত মজলুম নেতা জনাব তারেক রহমানের বিরুদ্ধে আওয়ামী মন্ত্রীরা ধৃষ্টতাপূর্ণ অবাস্তব গালগল্প ক্রমাগত বর্ণনা করে যাচ্ছে।

সরকারের সমালোচনা করে রিজভী বলেন, বর্তমান গণবিরোধী অত্যাচারের আরেকটি নমুনা পাটকল বন্ধ করে দেওয়া। সরকারি ২৫টি পাটকল এখন সম্পূর্ণ বন্ধ। পাটকল শ্রমিকেরা এখন রিকশা চালায় ও নৌকা বাইছে। বর্তমান করোনার সময়ে তারা মানবেতর জীবন-যাপন করছে। পাটকল শ্রমিকদের গোল্ডেন হ্যান্ডশেকের কথা বলা হলেও তাদের প্রাপ্য টাকা দেওয়া হয়নি। সরকারের পক্ষ থেকে নানা ধরনের আশ্বাস দেওয়া হলেও কোনোটাই পূরণে করা হয়নি বরং শ্রমিকেরা প্রতারিত হয়েছে বলে মনে করে।