চট্টগ্রামে মুক্তিযোদ্ধাদের সমাবেশ ও মানববন্ধনে বাঁশখালীর সংসদ সদস্য মোস্তাফিজুর রহমান চৌধুরীর অনুসারীরা হামলা চালিয়েছে বলে অভিযোগ উঠেছে। এতে মুক্তিযোদ্ধা কমান্ডার, সাংবাদিকসহ ১৪ জন আহত হয়েছেন বলে জানা গেছে।
সোমবার (২৪ আগস্ট) সকাল সাড়ে ১১টার দিকে চট্টগ্রাম প্রেসক্লাবের সামনে আয়োজিত মানববন্ধন ও বিক্ষোভ সমাবেশ এ হামলা চালানো হয়।
চট্টগ্রাম মহানগর মুক্তিযোদ্ধা সংসদ কমান্ডার মোজাফফর আহমদ দেশ রূপান্তরকে বলেন, বঙ্গবন্ধু হত্যার পর প্রথম প্রতিবাদকারী বাঁশখালীর মুক্তিযোদ্ধা মৌলভী সৈয়দকে মুক্তিযোদ্ধা বলে অস্বীকার এবং বাঁশখালীতে কোনো মুক্তিযুদ্ধ হয়নি বলে বাঁশখালীর এমপির মোস্তাফিজুর রহমান চৌধুরীর এমন বক্তব্যের প্রতিবাদে সকাল থেকে মুক্তিযোদ্ধা ও মুক্তিযোদ্ধা সন্তান কমান্ডের উদ্যোগে শান্তিপূর্ণভাবে মানববন্ধন চলছিল। এসময় হঠাৎ কয়েকটি গাড়ি ভর্তি লোকজন এসে আমাদের ওপর হামলা চালায়। এতে আমাদের ১০ জনের বেশি মুক্তিযোদ্ধা আহত হয়েছেন।হামলাকারীরা সবাই বাঁশখালীর এমপি মোস্তাফিজুর রহমান চৌধুরীর অনুসারী। মুক্তিযোদ্ধার ওপর হামলা কোনভাবেই মেনে নেয়া হবে না।
মুক্তিযোদ্ধা ও মুক্তিযোদ্ধা সন্তান কমান্ড সূত্রে জানা যায়, মুক্তিযোদ্ধাদের সমাবেশ চলাকালীন লাঠিসোঠা নিয়ে হঠাৎ করে ৪০/৫০ জনেরও বেশি লোকজন এসে হামলা করে এবং ব্যানার ও মাইক ভেঙে নেয়। মহানগর মুক্তিযোদ্ধা কামান্ডার মোজ্জাফফর অাহমদ, বাঁশখালী কমান্ডার অাবুল হাশেম, সাতকানিয়া কমান্ডার অাবু তাহের, মুক্তিযোদ্ধা অাজিমুল ইসলাম ভেদু, জেলা মুক্তিযোদ্ধা কমান্ডার অর্থ অাবদুর রাজ্জাক, মৌলভী সৈয়দের ভাতিজা জয়নাল অাবেদীন, জহির উদ্দীন মো. বাবর, ইমরানুল ইসলাম তুহিন, সাবেক ছাত্রলীগ নেতা আবু সাদাত মো. সাইয়েম, মোব্বাশের হোসেন সোহান, কামরুল হুদা পাভেল। এছাড়াও চট্টগ্রাম প্রেস ক্লাব সাধারণ সম্পাদক চৌধুরী ফরিদ, ফটো সাংবাদিক আকতার হোসেন ও হায়দার আলী আহত হয়েছেন।
এদিকে, হামলায় জড়িত মো. এনাম (৩০) কে ঘটনাস্থল থেকে আটক করেছে পুলিশ। আহতরা নগরের বিভিন্ন হাসপাতালে চিকিৎসা নিচ্ছে বলে জানা গেছে।
প্রত্যক্ষদর্শীরা আরো জানায়, হামলার নেতৃত্বে থাকা বাঁশখালী পৌরসভার মেয়র শেখ সেলিমুল হক চৌধুরীকে মুক্তিযোদ্ধার সন্তান কমান্ডের সদস্যরা লাঠিসোটা নিয়ে মেরে মাটিতে লুঠিয়ে ফেলে। পরে পালিয়ে যান তিনি।
প্রত্যক্ষদর্শী ও হামলায় আহত জহির উদ্দিন মো. বাবর দেশ রূপান্তরকে বলেন, বঙ্গবন্ধু হত্যার প্রথম প্রতিবাদকারী, আমার চাচা মৌলভী সৈয়দকে মুক্তিযোদ্ধা নয় বলে অসম্মান করার প্রতিবাদে মুক্তিযোদ্ধারাসহ আমরা শান্তিপূর্ণভাবে সমাবেশ করছিলাম। এসময় হঠাৎ ৪০-৫০ জন যুবক লাঠিসোঠা নিয়ে সমাবেশে হামলা চালায়।
বাঁশখালীর এমপি মোস্তাফিজুর রহমান চৌধুরীর অনুসারীরা এ হামলা চালিয়েছে উল্লেখ করে তিনি আরো বলেন, বাঁশখালী পৌরসভার মেয়র শেখ সেলিমুল হক চৌধুরী, এমপির পিএস তাজুল ইসলাম, এমপির এপিএস মোস্তাফিজুর রহমান রাসেল, পৌরসভার কাউন্সিলর দিলীপ চক্রবর্তী শিবু, আবদুর রহমান, পৌর যুবলীগের আহবায়ক হামিদ উল্লাহ, জিল্লুল শরীফী এই বর্বরোচিত হামলার নেতৃত্ব দেন। আমি এই ন্যাক্কারজনক হামলার বিচার চাই।
এ প্রসঙ্গে কোতোয়ালী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোহাম্মদ মহসীন দেশ রূপান্তরকে বলেন, প্রেস ক্লাবের সামনে মুক্তিযোদ্ধাদের সমাবেশে হামলার খবর পেয়ে পুলিশ ফোর্স পাঠানো হয়েছে। পুলিশ গিয়ে পরিস্থিতি সামাল দিয়েছে। ঘটনাস্থল থেকে এনাম নামে এক যুবককে গ্রেফতার করা হয়েছে। এখন পরিস্থিতি শান্ত হয়েছে। হামলায় জড়িতদের গ্রেফতারে অভাযান চলছে