সুনামগঞ্জের তাহিরপুর উপজেলার বাদাঘাটে শারীরিক প্রতিবন্ধী এক শিশুকে নিয়ে মদ খাইয়ে টিকটক ভিডিও বানিয়ে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে দেওয়ার অভিযোগে ৮ জনকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ।
রবিবার রাতে শিশুটির বড়ভাই বাদী হয়ে ১০ জনের বিরুদ্ধে থানায় নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইন ও আইসিটি আইনে একটি মামলা দায়ের করলে তাদের গ্রেপ্তার করে পুলিশ।
আটককৃতরা হলো- উপজেলার কামড়া বন্দ গ্রামের আলম শেখ (২৩), তারেক (২২), দীপু (২২), রনি (১৭), বাদাঘাট গ্রামের আবদুল্লাহ (১৬), মোজাম্মেল হক (২২), সাগর (২১), পাগলপুর গ্রামের মনির মিয়া (১৯)। সোমবার দুপুরে আসামিদের কারাগারে পাঠানো হয়।
পুলিশ সূত্রে জানা যায়, কিছুদিন আগে উপজেলার বাদাঘাট বাজারের সততা স্টোরের মোজাম্মেল হকের ফেসবুক আইডি থেকে প্রশাসন ও সাংবাদিকদের দৃষ্টি আকর্ষণ করে শিশুটির ছবি ও একটি ভিডিও আপলোড করা হয়। ওই ভিডিওতে শিশুটি জানায় বাদাঘাটের কয়েক যুবক তাকে জোরপূর্বক মদ খাইয়ে বিভিন্ন রকমের টিকটক ভিডিও তৈরি করে তা ইউটিউবসহ সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে প্রচার করে। রবিবার এ ঘটনায় ভিকটিমের ভাই থানায় ১০ জনকে আসামি করে মামলা করলে রাতেই এদের ৮ জনকে গ্রেপ্তার করে পুলিশ। সোমবার আসামিদের আদালতে পাঠালে তাদের কারাগারে প্রেরণ করা হয়।
ভিকটিম শিশুটির ভাই জানান, জন্মের সময়ই শরিফ স্বাভাবিকের চেয়ে অনেকটা ছোট ছিল। স্থানীয় ডাক্তার-কবিরাজ দেখিয়ে অনেক টাকা পয়সা খরচ করেও শরিফকে স্বাভাবিক করা যায়নি। ছোটবেলা থেকেই সে বাড়ির বাইরে থাকে। অনেক চেষ্টা করেও তাকে বাড়ি নেওয়া যায় না। এই সুযোগে এলাকার ছেলেরা তাকে নিয়ে নানা ধরনের ভিডিও বানিয়ে ইন্টারনেটে দেয়। এ ছাড়া তাকে বিভিন্ন নেশা খাইয়ে এসব কাজ করে থাকে।
তাহিরপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মো. আতিকুর রহমান জানান, ভিকটিমের বড় ভাই বাদী হয়ে আটককৃত ৮ জনসহ মোট ১০ জনের বিরুদ্ধে থানায় একটি মামলা দায়ের করেছেন। আসামিদের আজ আদালতের মাধ্যমে জেল হাজতে প্রেরণ করা হবে। এ ছাড়া আর যারাই এ কাজে জড়িত তাদের আইনের আওতায় আনা হবে।