কাজ ফেলে রেখেছেন ঠিকাদার ভোগান্তিতে ২৫ হাজার মানুষ

ঠিকাদারের গাফিলতির কারণে হবিগঞ্জের নবীগঞ্জ উপজেলার একটি রাস্তার নির্মাণকাজ শেষ না হওয়ায় প্রায় ২৫ হাজার মানুষ দুর্ভোগ পোহাচ্ছেন। একটু বৃষ্টি হলেই রাস্তাটি কাদাপানিতে একাকার হয়ে যায়। এলজিইডি নির্মাণকাজ শেষ করতে বারবার তাগিদ দিলেও ঠিকাদার তাতে কান দিচ্ছেন না।

এলজিইডি সূত্রে জানা গেছে, উপজেলার গজনাইপুর ইউনিয়নের গদার বাজার থেকে ইউনিয়ন পরিষদ কার্যালয় হয়ে (দেওপাড়া-শতক) পাকা সড়ক পর্যন্ত  ৭৮০ মিটার রাস্তা নির্মাণে ৫৪ লাখ ৪৭ হাজার ৯৬৪ টাকা ব্যয় ধরা হয়। কাজটি পায় ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান জেসান এন্টারপ্রাইজ। এলজিইডির তথ্য মতে, রাস্তার কাজ শুরু হওয়ার কথা গত বছরের ১৬ মে। কাজ শেষ করার কথা ছিল চলতি বছরের ২১ মে। কিন্তু আজও কাজ শেষ হয়নি। সামান্য বৃষ্টি হলেই কাদায় ভরে যায় রাস্তাটি। তখন যানবাহন চলাচল তো দূরের কথা হেঁটে চলাচলও কঠিন হয়ে পড়ে। ফলে ইউনিয়ন পরিষদ কার্যালয়ে সেবা নিতে যাওয়া মানুষও রাস্তায় ভোগান্তিতে পড়ছেন।

স্থানীয়রা জানান, গত বছরের নভেম্বর মাসে ঠিকাদার সড়ক নির্মাণের কাজ শুরু করেন। রাস্তায় ৬ ইঞ্চি পুরু বালু ব্যবহারের নির্দেশনা থাকলেও ঠিকাদার পার্শ্ববর্তী পাহাড় থেকে লাল মাটি এনে রাস্তায় ব্যবহার করতে থাকেন। পাহাড় কাটার কারণে এলাকাজুড়ে মানুষের মধ্যে ক্ষোভ তৈরি হয়। প্রশাসন মাটি আনতে বাধা দেয়। এরপরই রাস্তার নির্মাণকাজ বন্ধ রেখে দেন ঠিকাদার। এলাকাবাসী জানান, রাস্তা বেহাল দেখে ওই এলাকার এক সৌদি প্রবাসী রাস্তায় বালুভর্তি কিছু বস্তা ফেলেন। এতে ওই সময় রাস্তার ওপর দিয়ে হেঁটে চলাচলের সুযোগ হয়। কিন্তু সম্প্রতি অতিবৃষ্টিতে ওই বস্তাগুলোও নষ্ট হয়ে গেছে।

গজনাইপুর ইউপির চেয়ারম্যান ও উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি ইমদাদুর রহমান মুকুল দেশ রূপান্তরকে বলেন, আমার ইউনিয়নের বাসিন্দাসহ পার্শ¦বর্তী দুটি ইউনিয়নের প্রায় ২৫ হাজার মানুষ এই রাস্তাটি ব্যবহার করেন। ঠিকাদার কাজ ফেলে রাখায় জনগণের ভোগান্তির শেষ নেই। বেশ কয়েকবার এলজিইডিকে রাস্তার কাজ শেষ করার জন্য অনুরোধ করেছি। কিন্তু কাজের কাজ কিছুই হয়নি। কাজ অসমাপ্ত রাখায় আগের চেয়ে বেশি দুর্ভোগ পোহাতে হচ্ছে।’

এদিকে জেসান এন্টারপ্রাইজের স্থানীয় প্রতিনিধি নূরুল আমিন দেশ রূপান্তরকে বলেন, করোনার কারণে কাজ বন্ধ রয়েছে। ঠিকাদারের বিরুদ্ধে বিভিন্ন অনিয়মের বিষয়ে জানতে চাইলে তিনি এই প্রতিবেদককে সরাসরি সাক্ষাৎ করার কথা বলে মোবাইল ফোনের সংযোগ কেটে দেন।

এ প্রসঙ্গে নবীগঞ্জ উপজেলা প্রকৌশলী সাব্বির আহমেদ গতকাল সোমবার দেশ রূপান্তরকে বলেন, কাজের শুরুতেই ঠিকাদার বিভিন্ন অনিয়ম করতে থাকেন। তাকে ত্রুটিপূর্ণ কাজ মেরামত করার নির্দেশ দেওয়া হয়। কিন্তু তিনি কোনো কথা কানে নেননি। কাজ শেষ করার জন্য ইতিমধ্যে তিনটি চিঠি দেওয়া হয়েছে। কিন্তু কোনো সাড়া দিচ্ছেন না ঠিকাদার। এ অবস্থায় তার বিরুদ্ধে ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে অবহিত করব।