চাঁদপুরের কচুয়া উপজেলা পরিষদ চেয়ারম্যান শাহজাহান শিশিরের বিরুদ্ধে শিক্ষা প্রকৌশল অধিদপ্তরের প্রকৌশলীকে মারধর এবং ডিজিটাল নিরাপত্তা আইনে দায়েরকৃত পৃথক দুটি মামলায় জামিন নামঞ্জুর করে কারাগারে প্রেরণের নির্দেশ দিয়েছেন আদালত।
এদিকে প্রকৌশলীকে মারধরের মামলায় শাহজাহান শিশিরের দুই সহযোগী জহির ও হোসেন আদালতে জামিন চাইলে তা নামঞ্জুর করে তাদের কারাগারে প্রেরণের নির্দেশ দেওয়া হয়।
মঙ্গলবার দুপুরে চাঁদপুর সিনিয়র জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট সফিউল আজম এবং জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট মো. কামাল হোসেনের আদালতে জামিন আবেদন করলে উভয় আদালত তাকে জামিন নামঞ্জুর করে কারাগারে পাঠানো নির্দেশ দেন।
গত ২২ জুন চেয়ারম্যান শাহজাহান শিশিরের বিরুদ্ধে জাতির পিতার নামে প্রচারণা ও মতামত প্রদান এবং ফেইসবুকে মানহানিকর তথ্য প্রকাশের অভিযোগে চাঁদপুর পৌর এলাকার বাসিন্দা মো. রকিবুল ইসলাম স্বাধীন বাদী হয়ে চাঁদপুর মডেল থানায় ডিজিটাল নিরাপত্তা আইনে মামলা দায়ের করেন।
এছাড়া গত ১৯ জুলাই ‘কচুয়া বালিকা উচ্চ বিদ্যালয় নির্মাণকাজ পরিদর্শনকালে কচুয়া উপজেলা চেয়ারম্যান ও তার সহযোগীদের মারধরের শিকার হন প্রকৌশলী নূর আলম।
এই ঘটনায় ওইদিন রাতেই নুর আলম বাদী হয়ে কচুয়া থানায় চেয়ারম্যানসহ আরও দু’জনের বিরুদ্ধে মামলা দায়ের করেন। এই ঘটনায় চেয়ারম্যান শাজাহান ও তার দুই সহযোগী জামিন চাইতে গেলে আদালত তাদের জামিন নামঞ্জুর করেন।
মামলায় বাদী পক্ষের আইনজীবী ছিলেন অ্যাডভোকেট হেলাল উদ্দিন, অ্যাডভোকেট লতিফ শেখ, অ্যাডভোকেট আমান উল্যা এবং আসামি পক্ষের আইনজীবী ছিলেন অ্যাডভোকেট চৌধুরী আবুল কালাম আজাদ, অ্যাডভোকেট জহিরুল ইসলাম, অ্যাডভোকেট আহসান হাবিব।
প্রকৌশলীকে মারধরের ঘটনায় গত ২৩ জুলাই স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় মন্ত্রণালয় থেকে চেয়ারম্যান শাহজাহান শিশিরকে সাময়িক বরখাস্ত করা হয় এবং তার স্থলে প্যানেল চেয়ারম্যান সুলতানা খানমকে ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান হিসেবে দায়িত্ব দেয়া হয়।
ঘটনাটি তদন্ত করার জন্য নির্দেশ দেওয়া হয় স্থানীয় সরকার বিভাগ থেকে। নির্দেশ অনুযায়ী চট্টগ্রাম বিভাগীয় অতিরিক্ত কমিশনার ঘটনাটি তদন্ত করেন। বর্তমানে তদন্ত প্রতিবেদন স্থানীয় সরকার বিভাগে দাখিলের অপেক্ষা।