মিয়ানমারের সামরিক জান্তার নির্যাতনের মুখে রাখাইন থেকে মুসলিম সংখ্যালঘু গোষ্ঠী রোহিঙ্গাদের বাংলাদেশে পালিয়ে আসার তিন বছর পূর্তি হচ্ছে মঙ্গলবার। দিনটিতে রোহিঙ্গা ক্যাম্পে অং সান সুচির নোবেল পুরস্কার প্রত্যাহারের দাবি সংবলিত কিছু পোস্টার দেখা গিয়েছে।
তবে দিবসটি উপলক্ষে কক্সবাজারের উখিয়া-টেকনাফের ৩৪টি রোহিঙ্গা শিবিরে কোন ধরনের কর্মসূচি পালিত হয়নি। তবে ক্যাম্পের অভ্যন্তরে থাকা দোকানপাট বন্ধ ছিল। এমনকি অন্যান্য দিনের তুলনায় এনজিও সংস্থায় কর্মরত কর্মকর্তা-কর্মচারীদের উপস্থিতর হার কম দেখা গেছে।
তবে দিবসটি উপলক্ষে ক্যাম্পের বিভিন্ন বাড়িতে বিচ্ছিন্নভাবে অং সান সুচির ছবি সংবলিত লিফলেট সাইজের পোস্টার দেখা গিয়েছে। পোস্টারে মিয়ানমারে গণহত্যা চালানোর ঘটনায় সুচিকে সন্ত্রাসী দাবি করে শান্তিতে প্রদত্ত নোবেল প্রাইজটি প্রত্যাহারের দাবি জানিয়েছেন রোহিঙ্গারা। এছাড়া উখিয়া-টেকনাফের রোহিঙ্গা ক্যাম্পে নিজ নিজ বাড়িতে রোজা রেখে গণহত্যার বিচার প্রার্থনা করেছেন তারা।
উখিয়া-টেকনাফের ৩৪টি রোহিঙ্গা ক্যাম্পে বসবাস করছেন ১২ লাখের অধিক রোহিঙ্গা। এসব রোহিঙ্গাদের মিয়ানমারে ফেরত পাঠাতে বাংলাদেশ নানাভাবে চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে। তিন বছর পার হলেও এখনো পর্যন্ত একজন রোহিঙ্গাকেও মিয়ানমারে ফেরত পাঠানো সম্ভব হয়নি। এ সময় রোহিঙ্গাদের প্রত্যাবাসনের জন্য গঠিত জয়েন্ট ওয়ার্কিং গ্রুপ দফায় দফায় এ নিয়ে বৈঠকে বসেছে। কূটনৈতিক তৎপরতাও অব্যাহত রয়েছে।
রোহিঙ্গারা জানিয়েছেন, মিয়ানমার সরকার তাদের নাগরিকত্ব ও নিজেদের ভিটে-বাড়ি ফেরত দিলে জাতিসংঘের ফোর্সের মাধ্যমে নিরাপত্তা নিশ্চিত করলে তারা স্বদেশে ফিরে যেতে প্রস্তুত। তারা রোহিঙ্গাদের ওপর চালানো গণহত্যারও বিচার দাবি করেন।
বাংলাদেশ সরকারের প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করে রোহিঙ্গারা বলেন, এই দেশের সরকার ও স্থানীয় জনসাধারণ আশ্রয় না দিলে আমরা প্রাণে বাঁচতাম না। সারা জীবন এদেশের সরকার ও স্থানীয়দের কাছে ঋণী থাকব। এ দেশে আসার পর থেকে তারা আমাদের বিভিন্নভাবে সাহায্য সহযোগিতা করে আসছেন। তারা তাদের ঘরবাড়ি ও ভিটে বাড়িতে আশ্রয় দিয়েছেন। অনেক রোহিঙ্গারা এখনো তাদের বসতবাড়িতে জীবন যাপন করছে।
উখিয়ার কুতুপালং ক্যাম্পের ইনচার্জ খলিলুর রহমান খান বলেন, আমার আওতাধীন তিনটি ক্যাম্পে কোন ধরনের কর্মসূচি পালন করার খবর পাওয়া যায়নি।
উখিয়া কুতুপালং রোহিঙ্গা ক্যাম্পের জাফর আলম বলেন, বিচ্ছিন্নভাবে কিছু কিছু রোহিঙ্গা অং সান সুচির ছবিসহ ছোট পোস্টার টাঙ্গিয়ে এক ধরনের প্রতীকী প্রতিবাদ জানিয়েছেন। তারা সুচির শান্তিতে পাওয়া নোবেল পদকটি প্রত্যাহারের দাবিও জানান।
রোহিঙ্গা নেতা সিরাজুল মোস্তাফা বলেন, এদিন অন্যান্য দিনের তুলনায় রোহিঙ্গারা ঘর থেকে কম বের হয়েছে। আমাদের পক্ষ থেকে কোন ধরনের কর্মসূচি পালন করা হয়নি।
বালুখালি রোহিঙ্গা ক্যাম্পের হেড মাঝি আবু তাহের বলেন, ক্যাম্পের প্রায় সব দোকানপাট বন্ধ। রোজা ও কোরআন পড়ে দিন পার করছে রোহিঙ্গারা।
কুতুপালং এর লম্বাশিয়া রোহিঙ্গা ক্যাম্পের ইনচার্জ মাহফুজুর রহমান বলেন, সারা দিন ৫ সদস্যের একটি টিম ক্যাম্পে টহলরত অবস্থায় ছিলাম। কোথাও কোন কর্মসূচি নজরে আসেনি। পোস্টার বিষয়ে কোন কিছু জানাতে পারেননি তিনি।
সোমবার এক সভায় উখিয়া উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান ও উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি অধ্যক্ষ হামিদুল হক চৌধুরী বলেন, রোহিঙ্গা প্রত্যাবাসনের জন্য সরকার আপ্রাণ চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে, কিন্তু কতিপয় স্বার্থান্বেষী এনজিও রোহিঙ্গা প্রত্যাবাসনে বিরোধিতা করার কারণে তা বাস্তবায়ন হচ্ছে না। রোহিঙ্গারা যেন দ্রুত মিয়ানমারে ফেরত যেতে পারে সে ব্যাপারে সবাইকে ঐক্যবদ্ধ হয়ে কাজ করতে হবে। এতে বিশেষ করে লোকাল এনজিওকে গুলোকে অগ্রণী ভূমিকা পালন করতে হবে বলে তিনি জানান।