নারায়ণগঞ্জে গণধর্ষণের পর হত্যার দায় স্বীকার করে ৩ আসামির ১৬৪ ধারায় জবানবন্দির পর ফিরে আসা স্কুলছাত্রী জিসামনি (১৫) আদালতে ২২ ধারায় জবানবন্দি দিয়েছে।
নিখোঁজ থাকাবস্থায় বিয়ে করা স্বামী ইকবাল হোসেনকে গ্রেপ্তার করে ৫ দিনের রিমান্ড চেয়ে আদালতে পাঠিয়েছে পুলিশ।
এদিকে চাঞ্চল্যকর এ ঘটনায় সুপ্রিম কোর্টের ৫ আইনজীবীর পক্ষে অ্যাডভোকেট শিশির মনির হাইকোর্টে রিভিশন মামলা দায়ের করলে হাইকোর্ট জিসামনি অপহরণ মামলার নথি তলব করেছেন।
জানা গেছে, মঙ্গলবার বিকেলে নারায়ণগঞ্জের সিনিয়র জুডিসিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আফতাবুজ্জামানের আদালতে নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইনের ২২ ধারায় জবানবন্দি দিয়েছে জিসামনি। বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন সদর মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. আসাদুজ্জামান।
দেশ রূপান্তরকে তিনি জানান, জিসামনির মেডিকেল টেস্ট করা হয়েছে। বিকেলে আদালতে ২২ ধারায় জবানবন্দি রেকর্ড করা হয়। পরে তাকে তার পরিবারের কাছে হস্তান্তর করা হয়।
জিসামনির স্বামী ইকবাল হোসেনকে গ্রেপ্তার করে ৫ দিনের রিমান্ড চেয়ে আদালতে পাঠানো হয়েছে বলেও জানান তিনি। আগামী বুধবার রিমান্ড শুনানি হবে।
এদিকে মঙ্গলবার দৈনিক দেশ রূপান্তরসহ বিভিন্ন গণমাধ্যমে ‘গণধর্ষণ ও হত্যার শিকার স্কুলছাত্রী ফিরলো ৪৫ দিন পর’ শীর্ষক সংবাদ প্রকাশের পর সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবী মোহাম্মদ শিশির মনির বিচারপতি এম. ইনায়েতুর রহিম এবং মো. মোস্তাফিজুর রহমানের সমন্বয়ে গঠিত দ্বৈত বেঞ্চের দৃষ্টি আকর্ষণ করেন । তখন আদালত আইনজীবী শিশির মনিরকে লিখিতভাবে আবেদন করতে বলেন।
মঙ্গলবার এ বিষয়ে হাইকোর্টের উক্ত দ্বৈত বেঞ্চে একটি রিভিশন মামলা দায়ের করা হয়। সুপ্রিম কোর্টের পাঁচজন আইনজীবীর পক্ষে অ্যাডভোকেট মোহাম্মদ শিশির মনির রিভিশনটি দায়ের করেন। উক্ত পাঁচজন আইনজীবী হলেন মো. আসাদ উদ্দিন, মো. জোবায়েদুর রহমান, মো. আশরাফুল ইসলাম, মো. আল রেজা আমির এবং মো. মিসবাহ উদ্দিন।
ঘটনার বিবরণে বলা হয়, গত ৪ জুলাই ২০২০ তারিখে পঞ্চম শ্রেণির ছাত্রী জিসামনি নিখোঁজ হয়। গত ৬ আগস্ট নিখোঁজ স্কুলছাত্রীর বাবা জাহাঙ্গীর হোসেন নারায়ণগঞ্জ সদর মডেল থানায় অপহরণ মামলা দায়ের করেন। মামলার পরিপ্রেক্ষিতে পুলিশ মো. আব্দুল্লাহ (২২), রকিব হোসেন (১৯) এবং নৌকার মাঝি খলিল মিয়া (৩৬) নামে তিনজনকে গ্রেপ্তার করেন। তারা আদালতে ১৬৪ ধারায় স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি প্রদান করে।
স্বীকারোক্তিতে তারা বলে যে, তারা পঞ্চম শ্রেণির ছাত্রী জিসাকে গণধর্ষণের পর হত্যা করে লাশ শীতলক্ষ্যা নদীতে ভাসিয়ে দেয়। জবানবন্দি গ্রহণের পর আসামিদের জেলে পাঠানো হয়।
কিন্তু ২৩ আগস্ট জিসামনিকে খুঁজে পাওয়া গেছে। জিসা বর্তমানে নারায়ণগঞ্জ সদর থানা-পুলিশের হেফাজতে হয়েছে। এখন প্রশ্ন দেখা দিয়েছে, আসামিরা কীভাবে ধর্ষণ ও হত্যা সম্পর্কিত স্বীকারোক্তি দিয়েছে। যেখানে জিসা অক্ষত অবস্থায় ফেরত এসেছে!
আইনজীবী শিশির মনির সাংবাদিকদের জানান, রিভিশনে নারায়ণগঞ্জ সদর মডেল থানায় দায়েরকৃত মামলা এবং মামলা পরবর্তী প্রক্রিয়ার শুদ্ধতা, বৈধতা এবং যৌক্তিকতা সম্পর্কে প্রশ্ন তোলা হয়েছে। উক্ত আবেদনে আদালতে উক্ত মামলার নথি তলব করে পরীক্ষাপূর্বক উপযুক্ত আদেশ প্রদানের প্রার্থনা করা হয়েছে। আবেদনটিতে নারায়ণগঞ্জের জেলা প্রশাসক, চিফ জুডিসিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট, পুলিশ সুপার, সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা, মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা, বাদী এবং আসামিগণকে বিবাদী করা হয়েছে।
এদিকে জিসা মনির বাবা জাহাঙ্গীর হোসেন দেশ রূপান্তরকে বলেন, জবানবন্দি রেকর্ড করার পর মেয়েকে বাড়িতে নিয়ে আসছি। মেয়েকে যেহেতু পেয়ে গেছি, তাই মামলা তুলে নেব।
জেলা পুলিশ সুপার মোহাম্মদ জায়েদুল আলম জানিয়েছেন, এ ঘটনায় ৩ সদস্যের তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে।