নারায়ণগঞ্জে স্কুলছাত্রী কিশোরীকে (১৩) ‘গণধর্ষণ ও হত্যা’ মামলায় আসামিরা স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দির দেওয়ার পর ওই কিশোরীর ফিরে আসার ঘটনায় মামলা, জবানবন্দির শুদ্ধতা ও বৈধতার প্রশ্ন তুলে হাইকোর্টে রিভিশন মামলা হয়েছে।
মঙ্গলবার পাঁচজন আইনজীবীর পক্ষে বিচারপতি এম ইনায়েতুর রহিম ও বিচারপতি মো. মোস্তাফিজুর রহমানের সমন্বয়ে গঠিত হাইকোর্ট বেঞ্চে আবেদনটি করেন আইনজীবী মোহাম্মদ শিশির মনির।
আবেদনে ফৌজদারি কার্যবিধি অনুযায়ী বিষয়টি পর্যালোচনা করে মামলার নথি তলব ও উপযুক্ত আইনি আদেশের আরজি জানানো হয়েছে। আবেদনকারী পাঁচ আইনজীবী হলেন- মো. আসাদ উদ্দিন, মো. জোবায়েদুর রহমান, মো. আশরাফুল ইসলাম, মো. আল রেজা আমির এবং মো. মিসবাহ উদ্দিন।
ধর্ষণের পর হত্যা করে নদীতে মরদেহ ফেলে দেওয়া নিয়ে আদালতে স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দির পর স্কুলছাত্রী ৪৯ দিন পর জীবিত প্রত্যাবর্তনের চাঞ্চল্যকর ঘটনার বিষয়টি গত সোমবার হাইকোর্টের নজরে আনেন অ্যাডভোকেট শিশির মনির। আদালত তখন আইনজীবীকে এ বিষয়ে লিখিত আবেদন করতে বলে। বুধবার এ বিষয়ে শুনানি হতে পারে বলে দেশ রূপান্তরকে জানান শিশির মনির।
মামলার নথিপত্রের বরাতে তিনি জানান, গত ৪ জুলাই পঞ্চম শ্রেণির ছাত্রী ওই ছাত্রী নিখোঁজ হওয়ার পর ৬ আগস্ট তার বাবা জাহাঙ্গীর হোসেন নারায়ণগঞ্জ থানায় অপহরণ মামলা করেন। এরপর পুলিশ আব্দুল্লাহ (২২), রকিব (১৯) ও খলিল (৩৬) নামে তিনজনকে গ্রেপ্তার করে। রিমান্ডের পর আদালতে তিনজন ফৌজদারি কার্যবিধির ১৬৪ ধারায় স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দেয়। পরে তাদের কারাগারে পাঠানো হয়।
জবানবন্দিতে তারা জানান, কিশোরীকে গণধর্ষণের পর হত্যা করে মরদেহ শীতলক্ষ্যা নদীতে ভাসিয়ে দেওয়া হয়। কিন্তু ২৩ আগস্ট জানা যায় কিশোরীকে খুঁজে পাওয়া গেছে এবং পুলিশ হেফাজতে রয়েছে।
অ্যাডভোকেট শিশির মনির বলেন, ওই কিশোরী অক্ষত অবস্থায় ফিরে এসেছে। কিন্তু প্রশ্ন হলো কীভাবে তিনজনের নামে মামলা হলো, কীভাবে তারা আদালতে স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দিলেন এবং কীভাবে তা রেকর্ড হলো? এটি পর্যালোচনা করে উপযুক্ত আইনি আদেশের জন্য হাইকোর্টের কাছে আরজি জানিয়েছি।