লিওনেল মেসি বার্সেলোনা ছাড়তে চান বলে অনেক দিন ধরেই গুঞ্জন। ২০২১ সালে চুক্তি শেষ হওয়ার পর আর তিনি বার্সায় থাকবেন না বলে এতদিন বলা হচ্ছিল। চ্যাম্পিয়ন্স লিগে বায়ার্ন মিউনিখের কাছে বিধ্বস্ত হওয়ার পর শোনা যায়, না চুক্তি শেষ পর্যন্ত নয়, এখনই কাতালান ক্লাব ছাড়তে চান মেসি।
এই প্রথম মেসি আনুষ্ঠানিকভাবে বার্সাকে জানিয়েছেন, তিনি ক্লাব ছেড়ে যেতে চান। এবং তা এখনই। এক ফ্যাক্স বার্তায় এ রকমটি ক্লাবকে মেসি জানিয়েছেন বলে খবর দিয়েছে বার্তা সংস্থা রয়টার্স ও এপি।
কিন্তু মেসির রিলিজ ক্লজ ধরা হয়েছে ৭০ কোটি ইউরো, যা করোনা পরবর্তী ফুটবল বিশ্বে বড় একটা অঙ্ক। এত অর্থ খরচ করে কোন ক্লাব এই মুহূর্তে মেসিকে নেবে তা এক বড় প্রশ্ন। বার্সেলোনার সাবেক তারকা পর্তুগালের লুইস ফিগো বলেছেন, অর্থনৈতিক কারণেও এই বছরে মেসির বার্সা ছেড়ে যাওয়া অসম্ভব, ‘তার রিলিজ ক্লজের শর্ত পূরণ করা যেকোনো ক্লাবের পক্ষে অসম্ভব। এই মুহূর্তে ট্রান্সফার মার্কেটে গতি নেই। চুক্তি অনুসারে কোনো ক্লাব মেসিকে অর্থও দিতে পারবে না।’
ইন্তার মিলান, পিএসজির পর ম্যানচেস্টার সিটির নাম শোনা যায়যাদের আগ্রহ আছে মেসির ব্যাপারে। মেসিও হয়তো বার্সেলোনা ছাড়লে সিটিতেই যেতে চাইবেন। একটা কারণ ক্লাবটির দায়িত্বে আছেন বার্সেলোনায় তার সাবেক কোচ পেপ গার্দিওলা। কিন্তু মেসিকে পেতে গিয়ে সিটিকে ভাবতে হবে ফিফার আর্থিক সংগতির বিষয়টি। এই কারণেই উয়েফার সঙ্গে ঝামেলা বেধেছিল ইংলিশ ক্লাবটির। দুই বছরের নিষেধাজ্ঞার খড়্গ নেমে এসেছিল তাদের ওপর। এখন মেসিকে দলে পেতে আবার আর্থিক সংগতির নীতি ভঙ্গের শঙ্কা থেকে যাচ্ছে। সিটি সে ব্যাপারে সচেতন। সরাসরি মেসির কথা না বললেও এসব নিয়ে ভাবার কথা বলেছেন ম্যান সিটির চেয়ারম্যান খালদুন আল মুবারক। তার কথা, ‘আমরা এ বিষয়ে সচেতন থাকব। কিন্তু দলের শক্তি বাড়াতে যা করা দরকার সেটা করব। এরই মধ্যে আমরা দুটি চুক্তি করেছিনাথান একে ও ফেরান তোরেসের সঙ্গে। আরও খেলোয়াড় নেব আমরা। নিজেদের পরিকল্পনা অনুযায়ী এগিয়ে যাব। তবে এই মুহূর্তে দলবদলের বাজারের বাস্তবতা নিশ্চয়ই আমাদের মাথায় থাকবে।’