তিন সপ্তাহ ধরে হাসপাতালে ভর্তি আছেন ভারতের সাবেক রাষ্ট্রপতি প্রণব মুখার্জি। চিকিৎসকদের অক্লান্ত চেষ্টাতেও তার শারীরিক অবস্থার তেমন উন্নতি হলো না। হিন্দুস্তান টাইমস জানায়, বুধবার সকালের মেডিকেল বুলেটিনে উদ্বেগ আবার বাড়ল।
দিল্লি ক্যান্টনমেন্টের সেনা হাসপাতাল থেকে বলা হয়, ফুসফুসে সংক্রমণের জন্য সাবেক রাষ্ট্রপতির চিকিৎসা চলছে। কিন্তু মঙ্গলবারের তুলনায় তার মূত্রাশয় সংক্রান্ত জটিলতার সামান্য অবনতি হয়েছে। পাশাপাশি এখনো গভীর কোমায় আচ্ছন্ন আছেন প্রণব। ভেন্টিলেশনে রাখা হয়েছে তাকে।
গত ১০ আগস্ট দিল্লি ক্যান্টনমেন্টে রিসার্চ অ্যান্ড রেফারেল হাসপাতালে শারীরিক পরীক্ষার সময় ধরা পড়ে, প্রণবের মস্তিষ্কে রক্ত জমায় বেঁধে আছে। পাশাপাশি তার করোনাভাইরাস রিপোর্টও পজিটিভ আসে। সেদিনই জরুরি ভিত্তিতে অস্ত্রোপচার করা হয়।
অস্ত্রোপচারের পর থেকে তার অবস্থা সংকটজনক। তারপর থেকেই ভেন্টিলেশনে আছেন তিনি। কখনো কখনো শারীরিক অবস্থার সামান্য উন্নতি হয়েছে। কখনো আবার অবনতি হয়েছে। মঙ্গলবার হাসপাতালের তরফে জানানো হয়েছিল, প্রণব মুখার্জির শারীরিক অবস্থার কোনো পরিবর্তন হয়নি। এর পর বুধবার সকালের বুলেটিনে নতুন করে উদ্বেগ বেড়েছে।
গত ৯ আগস্ট রাতে বাথরুমে পড়ে গিয়ে কপাল ও রগে চোট পান প্রণব। পর দিন সকালে হাসপাতালে আনা হলে দেখা যায়, একাধিক শারীরিক জটিলতায় ভুগছেন তিনি।
বছর ছয়েক আগে হৃদ্যন্ত্রে ব্লকেজের সমস্যা দেখা দেওয়ার পর থেকেই নিয়মিত চিকিৎসকদের পর্যবেক্ষণে থাকেন প্রণব মুখার্জি।
১০ আগস্ট প্রণবের টুইটারে লেখা হয়, “অন্য একটি কারণে হাসপাতালে যাওয়ার পরে আমার কভিড-১৯ পরীক্ষা হয়েছিল। আজ রিপোর্ট পজিটিভ এসেছে। এই পরিস্থিতিতে অনুরোধ করছি, গত এক সপ্তাহে আমার সংস্পর্শে যারা এসেছিলেন, তারা যেন আইসোলেশনে যান এবং কভিড-১৯ পরীক্ষা করান।”
প্রণব মুখার্জি ২০১২ সাল থেকে ২০১৭ পর্যন্ত ভারতের রাষ্ট্রপতি ছিলেন। দেশটির প্রথম বাঙালি রাষ্ট্রপতি হন কংগ্রেসের এই প্রবীণ নেতা।