খুলনা সিটি করপোরেশন (কেসিসি) ২০২০-২১ অর্থবছরের জন্য ৫০৪ কোটি ৩১ লাখ ২২ হাজার টাকার বাজেট ঘোষণা করেছে। প্রস্তাবিত বাজেটে রাজস্ব খাতে ১৬৬ কোটি ৯৫ লাখ ৫৭ হাজার এবং উন্নয়ন খাতে ব্যয় ধরা হয়েছে ৩৩৭ কোটি ৩৫ লাখ ৬৫ হাজার টাকা।
বুধবার দুপুরে নগর ভবনের শহীদ আলতাফ মিলনায়তনে সিটি মেয়র তালুকদার আবদুল খালেক এ বাজেট ঘোষণা করেন।
২০১৯-২০ অর্থবছরে বাজেটের লক্ষ্যমাত্রা ছিল ৮৬৫ কোটি ৫৪ লাখ ৩ হাজার টাকা। সংশোধিত বাজেটে এই আকার দাঁড়িয়েছে ৫৮২ কোটি ৭১ লাখ ৫৭ হাজার টাকা। লক্ষ্যমাত্রা অর্জনের হার ৬৭ দশমিক ৩২ শতাংশ।
মেয়র বলেন, ‘বাজেটে এবারও নতুন কর আরোপ করা হয়নি। বকেয়া পৌরকর আদায়, নবনির্মিত সব স্থাপনার ওপর প্রচলিত নিয়মে কর ধার্য এবং উৎস সম্প্রসারণের মাধ্যমে আয় বৃদ্ধির পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে।’
তিনি আরও বলেন, ‘কেসিসি একটি সেবামূলক প্রতিষ্ঠান। কেবল সরকারি বা বিদেশি সাহায্য ও ঋণের ওপর নির্ভরশীল থাকতে পারে না। নিজস্ব আয়ের ওপর নির্ভর করে নিজের পায়ে দাঁড়াতে হবে।’
বাজেটে কেসিসির নিজস্ব সংস্থাপন ব্যয় মিটিয়ে এবং ব্যয় সংকোচন করে রাজস্ব তহবিল থেকে বিভিন্ন উন্নয়নমূলক খাতে মোট ৫১ কোটি ৬৪ লাখ ৫০ হাজার টাকা বরাদ্দ রাখা হয়েছে। রাজস্ব খাতে ৩৯ কোটি ৪৯ লাখ ৫০ হাজার, অবকাঠামো ও রাস্তাঘাট উন্নয়ন এবং রক্ষণাবেক্ষণে ১২ কোটি ১৫ লাখ টাকা এবং মানববর্জ্য উন্নয়ন ও মশক নিধনে ৬ কোটি ৯৫ লাখ ২০ হাজার টাকা বরাদ্দ রাখা হয়েছে।
এডিপির জন্য থোক বরাদ্দ রাখা হয়েছে ৭০ কোটি ২৮ লাখ ২০ হাজার টাকা। এই বরাদ্দ থেকে পূর্ত খাতে ৪২ কোটি ২৫ লাখ টাকা এবং নগরীর বিশেষ প্রয়োজনে জরুরি পানির চাহিদা মেটানোর জন্য গভীর-অগভীর নলকূপকে সাবমারসিবল পাম্পে রূপান্তর খাতে ২ কোটি ২৫ লাখ টাকা বরাদ্দ রাখা হয়েছে। এ ছাড়া ভেটেরিনারি খাতে ৫০ লাখ টাকা, জনস্বাস্থ্য খাতে ১০ কোটি ২০ লাখ টাকা ও কঞ্জারভেন্সি খাতে ১৫ কোটি ৮ লাখ ২০ হাজার টাকা বরাদ্দ রাখা হয়েছে।
বর্তমানে সিটি এলাকায় বিভিন্ন দাতা সংস্থার ১০টি উন্নয়ন প্রকল্প চলমান। এসব প্রকল্পে ২০২০-২১ অর্থবছর ৮৭ কোটি ৭ লাখ ৪৫ হাজার টাকার উন্নয়ন সহায়তা পাওয়ার আশা করা হচ্ছে। এডিপিতে দুটি প্রকল্পে ১৮০ কোটি টাকা বরাদ্দ রাখা হয়েছে বলে জানান মেয়র তালুকদার আবদুল খালেক।