পড়ার সময় শরীরের যত্ন

একেকজনের পড়ার স্টাইল একেক রকম। তবে যেভাবেই পড় না কেন, শরীরের কোনো অংশে যাতে অতিরিক্ত চাপ না পড়ে সেদিকে খেয়াল রাখতে হবে। লিখেছেন ঢাকা বিশ^বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী মনির হোসেন

পায়ের আরাম আগে : বই পড়ার ক্ষেত্রে আমাদের অনেকেরই পায়ের দিকে খেয়াল থাকে না। দীর্ঘক্ষণ বই পড়ার জন্য বসলে অবশ্যই এ বিষয়ে খেয়াল রাখা দরকার। পা জোড়াকে এমন অবস্থায় রাখা যাবে না যাতে পায়ের রক্ত সঞ্চালন বন্ধ হয়ে যায়। এমন হলে কিছুক্ষণ পর পর পায়ে রক্ত সঞ্চালন বন্ধ হয়ে পা অসাড় হয়ে যেতে পারে।

হেলান দিয়ে পড়লে : পড়ার সময় মেরুদণ্ডের পূর্ণ আরাম চাই। ঘাড়ে ও পিঠে ব্যথার কারণে কিছুক্ষণ পরপর মনোযোগে ব্যাঘাত ঘটাতে না চাইলে মেরুদণ্ডকে সটান করে কিছুর সঙ্গে হেলান দিয়ে রাখো। সামনের দিকে ঝুঁকে বা চেয়ারের প্রান্তের দিকে বসে হেলান দেওয়া ঠিক নয়; সেটাও ক্ষতিকর। পুরো মেরুদণ্ড যেন সমান সাপোর্ট পায় সেটি নিশ্চিত করতে হবে। পিঠ বাঁকিয়ে হেলান দিলেও ব্যথা হবে।

চোখ বরাবর বই : স্মার্টফোনের এই যুগে আমাদের ঘাড় খানিকটা বাঁকা হয়ে গেছে বলতে হয়। তবে বইয়ের অবস্থান যদি চোখের সমান্তরালে থাকে তা হলে মেরুদণ্ডটিও থাকবে সোজা। চাইলে কয়েকটি বালিশ দিয়ে বাহুকে উঁচু করে রাখতে পারো। এটি হাতকে আরাম দেবে।

একটু বিরতি : সব কাজেই দরকার একটু বিরতির। বই পড়াও ব্যতিক্রম নয়। বিরতিহীন বইপড়া চোখের ওপর বাড়তি চাপ ফেলে। চোখ ফুলে যেতে পারে। কিছুক্ষণ পরপর বিরতি দাও। এক কাপ কফি বা চা খেয়ে আবার বুঁদ হয়ে যাও। তবে ভালো হয় যদি একটু হেঁটে আসা যায়। এতে বসে থাকার জড়তা কাটবে। রক্ত সঞ্চালনও স্বাভাবিক হবে।