চাঞ্চল্যকর সগিরা মোর্শেদ হত্যা মামলায় তার ভাশুরসহ চারজনের বিরুদ্ধে অভিযোগ গঠন নিয়ে শুনানির জন্য আগামী ২১ সেপ্টেম্বর দিন ঠিক করেছে আদালত।
রাজধানীর সিদ্ধেশ্বরীর ওই ঘটনায় করা মামলায় বুধবার অভিযোগ গঠন শুনানির দিন ছিল। তবে এক আসামি অসুস্থতার কারণ দেখিয়ে আদালতে উপস্থিত হননি। এ জন্য সময়ের আবেদন করেন তার আইনজীবী। ঢাকা মহানগর দায়রা জজ কে এম ইমরুল কায়েশ সময়ের আবেদন মঞ্জুর করে নতুন এ দিন ঠিক করেন।
গত ১৬ জানুয়ারি ঢাকা মহানগর হাকিম আদালতে সগিরার ভাশুরসহ চারজনকে আসামি করে ১ হাজার ৩০৯ পৃষ্ঠার অভিযোগপত্র (চার্জশিট) জমা দেন মামলার তদন্ত কর্মকর্তা পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশনের (পিবিআই) পরিদর্শক রফিকুল ইসলাম।
আসামিরা হলেন সগিরার ভাশুর ডা. হাসান আলী চৌধুরী, তার স্ত্রী সায়েদাতুল মাহমুদা ওরফে শাহীন, শ্যালক আনাস মাহমুদ ওরফে রেজওয়ান ও ভাড়াটে খুনি মারুফ রেজা। পরে গত ৯ মার্চ একই আদালত পিবিআইর দেওয়া চার্জশিট গ্রহণ করে।
মামলার অভিযোগ থেকে জানা যায়, সগিরা মোর্শেদ ১৯৮৯ সালে ভিকারুননিসা নূন স্কুল থেকে মেয়েকে আনতে সিদ্ধেশ্বরী রোডে পৌঁছালে মোটরসাইকেলে আসা ছিনতাইকারী তার হাতে থাকা স্বর্ণের চুড়ি ছিনিয়ে নেওয়ার চেষ্টা করে। এ সময় তিনি দৌড় দিলে তাকে গুলি করা হয়। পরে হাসপাতালে নেওয়ার পথে মারা যান তিনি। একই দিন রমনা থানায় মামলা করেন তার স্বামী আবদুস সালাম চৌধুরী। পরে মিন্টু ওরফে মন্টু ওরফে মরণ নামে একজনের বিরুদ্ধে আদালতে চার্জশিট দেয় পুলিশ।
১৯৯১ সালের ১৭ জানুয়ারি মন্টুর বিরুদ্ধে অভিযোগ গঠন করেন ঢাকার প্রথম অতিরিক্ত দায়রা জজ আদালতের বিচারক আবু বকর সিদ্দীক। সাক্ষ্যগ্রহণ করা হয় সাতজনের। সাক্ষীতে মারুফ রেজা নামে এক ব্যক্তির নাম আসায় অধিকতর তদন্তের আবেদন করে রাষ্ট্রপক্ষ। একই বছরের ২৩ মে অধিকতর তদন্তের আদেশ দেয় আদালত। এর বিরুদ্ধে হাইকোর্টে রিভিশন মামলা (১০৪২/১৯৯১) করেন মারুফ রেজা। ১৯৯১ সালের ২ জুলাই ওই তদন্তের আদেশ ও বিচারকাজ ছয় মাসের জন্য স্থগিত করে হাইকোর্ট। একই সঙ্গে তদন্তের আদেশ কেন বাতিল করা হবে না তা জানতে চেয়ে রুল জারি করে। ১৯৯২ সালের ২৭ আগস্ট ওই রুল নিষ্পত্তি না হওয়া পর্যন্ত মামলার বিচারকাজ স্থগিত থাকবে মর্মে আরেকটি আদেশ দেওয়া হয়।
২০১৯ সালের ২৬ জুন এ মামলার ওপর ২৮ বছর ধরে থাকা স্থগিতাদেশ তুলে নেয় হাইকোর্ট। একই সঙ্গে মামলাটি ৬০ দিনের মধ্যে পিবিআইকে অধিকতর তদন্ত শেষ করার নির্দেশ দেয়। একই বছর ২০ নভেম্বর পিবিআইর আবেদনে বিচারপতি এম ইনায়েতুর রহিম ও বিচারপতি মো. মোস্তাফিজুর রহমানের হাইকোর্ট বেঞ্চ তদন্তের জন্য তাদের আরও ৬০ দিন সময় দেয়।
এরপর পিবিআই বিভিন্ন জায়গায় অভিযান চালিয়ে চারজনকে গ্রেপ্তার করে। চারজনই হত্যার দায় স্বীকার করে বিচারিক আদালতে জবানবন্দি দেন।