সুশান্ত সিং রাজপুত মামলায় সিবিআই তদন্ত শুরু হয়েছে সম্প্রতি। তাদের জিজ্ঞাসাবাদের নিশানায় আছেন অভিনেতার বান্ধবী রিয়া চক্রবর্তী। এর আগে অন্য সংস্থার মুখোমুখি হন কয়েক দফা।
ইতিমধ্যেই রিয়ার বিরুদ্ধে বিষ খাইয়ে ছেলেকে খুন করার অভিযোগ তুলে গ্রেপ্তার করার দাবি জানিয়েছেন সুশান্তর বাবা। এমনকি দেশটির মিডিয়া বেশ আপত্তিকরভাবেই বাঙালি অভিনেত্রীর পিছু নিয়েছে।
এই পরিস্থিতিতে সংবাদমাধ্যমের মুখোমুখি হয়ে রিয়া উগরে দিলেন ক্ষোভ। পাশাপাশি সুশান্তর পরিবারের প্রতি সহমর্মী হওয়ার আবেদন করেছে। এনডিটিভিতে বলেন, “আমাকে ও আমার পরিবারকে ধ্বংস করার চেষ্টা করবেন না।” অন্যদিকে আর্থিক তছরুপের অভিযোগ নিয়ে ইন্ডিয়া টুডেকে বলছিলেন, “আমরা তো স্বামী-স্ত্রীর মতোই থাকতাম।সেই ভাবেই সুশান্ত ভালোবাসা থেকেই খরচ করত।” ব্যাখ্যা দিলেন সুশান্তর লাশ ছুঁয়ে ‘সরি বাবু’ মন্তব্যের।
রিয়া এ কথাও জানান, সুশান্ত মৃত্যু মামলায় ভিত্তিহীন অভিযোগে তাকে আক্রমণ করা হচ্ছে। এমনকি তার পরিবারকে ‘অসহনীয় মানসিক চাপের’ মুখোমুখি হতে হচ্ছে।
সুশান্তর বাবার অভিযোগের জবাবে রিয়া বলেন, “এটা অত্যন্ত দুঃখের বিষয় যে ছেলে হারানোর কষ্টে তারা আমার সম্পর্কে যা বলছেন— সেগুলো আমার ওপর কী প্রভাব ফেলবে তা বুঝতে পারছেন না। আমি তাদের ছেলেকে ভালোবাসতাম, আমার প্রতি কি তার কোনো মানবতা নেই? আমি তার ছেলের যত্ন নিতাম। অন্ততপক্ষে মানবতা বলে তো একটা কথা আছে, আপনি যদি আমাকে ওর বান্ধবী হিসেবে পছন্দ নাও করেন তাহলেও অন্তত আমার প্রতি তার ভালোবাসাকে তো শ্রদ্ধা করুন।”
রিয়া বলেন, মামলার মাধ্যমে তার মতো সাধারণ, নিরীহ, মধ্যবিত্ত পরিবারকে নষ্ট করার চেষ্টা চলছে। “সুশান্ত একজন অত্যন্ত ভালো ছেলে ছিলেন, যিনি গোটা পৃথিবীকে বদলাতে চেয়েছিলেন”, এও যোগ করলেন।
সুশান্তর পরিবার তার সঙ্গে সম্পর্কটিকে কোনো দিনই মানতে পারেনি বলে উল্লেখ করেন। মামলার বিষয়ে রিয়া বলেন, “আমি নিজে চাই যে সত্যিটা সামনে আসুক তবে আমাকে টার্গেট করে এটা করবেন না। কেন কেউ সুশান্তর বোন নিতুর কথা বলছে না? যে সপ্তাহে সুশান্ত মারা যান তার আগেই বোন তার কাছে আসে। যদি ও অসুস্থই থাকে তবে তিনি কেন ওকে ছেড়ে চলে গেলেন?”
রিয়া ক্ষোভ প্রকাশ করেন সুশান্ত ও তার ইউরোপ ট্রিপ নিয়ে যা নয় তাই বলা হচ্ছে। সুশান্তর সব টাকা যেন তিনিই নষ্ট করেছেন। বলেন, “সুশান্ত হাই লিভিং-এ বিশ্বাস করত। আমার প্যারিসে যাওয়ার কথা, ফ্যাশন শুটের জন্য। ওরা আমাকে যাতায়াত আর থাকার খরচ সব দিয়েছিল। সুশান্ত সে সব বাতিল করে বিজনেস ক্লাসে টিকিট কাটল। ইউরোপ ট্রিপ প্ল্যান করল। বড় হোটেলের খরচ ও-ই দিল। আমিও নিয়েছি। কেউ কেন বলবে আমি ওর টাকায় চলেছি? বরং বলব, এটা ওর সিদ্ধান্ত! আমরা তো স্বামী-স্ত্রীর মতোই থাকতাম। সেই ভাবেই সুশান্ত ভালোবাসা থেকেই খরচ করত।”
রিয়া তার স্মৃতি থেকে বলেন, শুধু তার সঙ্গেই নয়, বেশ অনেক দিন আগে বন্ধুদের সঙ্গে থাইল্যান্ড বেড়াতে গিয়ে ৭০ লাখ রুপি খরচ করেছিলেন সুশান্ত। প্রাইভেট জেট নিয়ে গিয়েছিলেন। রিয়া প্রশ্ন করেন, “কার কী বলার আছে বলুন তো সুশান্ত নিজের পয়সায় কীভাবে জীবন চালাবে? ওর থাইল্যান্ড ট্রিপ নিয়েও কি বলা হবে, তা হলে ওর বন্ধুরা জোর করে ওর টাকা নিয়েছিল? তা হলে আমার ক্ষেত্রে কেন বলা হচ্ছে?”
সম্পর্কের জটিলতা ধরে সুশান্তকে ছেড়ে আসার কয়েক দিন পর মৃত্যুর খবর পান এক বন্ধুর মাধ্যমে। “প্রথমে চুপ করেছিলাম। কান্না পাচ্ছিল। কিছুই করে উঠতে পারিনি। পরে যখন ওর শেষকৃত্যে যেতে চাইলাম তখন শুনলাম, ওর পরিবার আমার নাম বাদ দিয়ে দিয়েছে।” বলেন রিয়া।
কিন্তু একবারও সুশান্তকে দেখতে পাবেন না? “এই প্রশ্ন তাড়িয়ে বেড়াচ্ছিল। তাই মর্গে যাই। ওকে শেষ বার প্রণাম করতে চেয়েছিলাম। একজন ভারতীয় জানে এই প্রণামের কী মানে!” ‘সরি বাবু’ বলায় তৈরি হওয়া বিতর্ক নিয়ে রিয়া বললেন, “কী বা বলতে পারতাম? এত গুণী মানুষের এই পরিণতি? তার জন্য ‘সরি’। তার মৃত্যু তো প্রহসন হয়ে গেছে। সেই জন্য ‘সরি’। ওর মৃত্যু নিয়ে গল্প লেখা হচ্ছে। সেই জন্য সরি”, কান্নায় ভেঙে পড়েন রিয়া।