করোনা পরিস্থিতিতে লকডাউনের ফলে কাজ হারিয়ে অনেকেই সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে স্বনির্ভর হতে চাইছেন। অনেকে সোশ্যাল মিডিয়ায় পণ্য বিক্রি করতে গিয়ে প্রতারণাও শিকার হচ্ছেন।
সম্প্রতি ভারতের পশ্চিমবঙ্গের রাজধানী কলকাতায় বেশ কয়েকটি অনলাইন প্রতারণার অভিযোগ পেয়েছে পুলিশ।
শুক্রবার কলকাতা পুলিশ জানায়, গত ১০ দিনে পণ্যের অর্ডার দিয়ে প্রতারণার ফাঁদ পাতার ৪২টির বেশি অভিযোগ জমা পড়েছে লালবাজারে। প্রায় সব ক্ষেত্রেই পণ্যের মূল্য পরিশোধের নামে মোবাইল কিউআর (কুইক রেসপন্স) কোড স্ক্যান করিয়ে ব্যাংক থেকে টাকা হাতিয়ে নেয়া হয়েছে।
রানাঘাটের বাসিন্দা এক তরুণী জানান, সম্প্রতি তিনি কয়েক জন বান্ধবীকে নিয়ে অনলাইনে শাড়ি বিক্রি করা শুরু করেন। তিনি বলেন, শাড়ির ছবি আমরা সোশ্যাল মিডিয়ায় পোস্ট করি। সম্প্রতি এক ব্যক্তি সেই পোস্ট দেখে ১০টি শাড়ি কিনতে চান। দাম ঠিক হয় সাড়ে আট হাজার টাকা। ওই ব্যক্তি দাম অনলাইনে মেটাতে চান। তরুণী জানিয়েছেন, তার এক বন্ধুর ব্যাংক অ্যাকাউন্টে টাকা পাঠানোর কথা হয়। ওই ব্যক্তি এর পরে একটি কিউআর কোড পাঠিয়ে স্ক্যান করতে বলেন। তারা দ্বিধা প্রকাশ করায় ওই ব্যক্তি বলেন, বিশ্বাস হচ্ছে না! কোডটি স্ক্যান করে দেখুন, ১ টাকা পাবেন। তরুণীর দাবি, কিউআর কোডটি স্ক্যান করার আগেই তার বন্ধুর অ্যাকাউন্টে ১ টাকা চলে আসে। এর পরে ওই ব্যক্তির পাঠানো কিউআর কোড নির্দ্বিধায় স্ক্যান করতেই ১০ হাজার টাকা অ্যাকাউন্ট থেকে উধাও হয়ে যায়।
যাদবপুরের বাসিন্দা রিয়া সরকার নামে এক তরুণী জানান, জার্মান সিলভারের গয়না বানিয়ে সোশ্যাল মিডিয়ায় পোস্ট করে তিনি বিক্রি করেন। গত জুলাইয়ের শুরু থেকে প্রচুর অর্ডার আসতে শুরু করে। তখনই এক ব্যক্তি একসঙ্গে ৬০টি গয়না বানানোর অর্ডার দেন। মোট দাম দাঁড়ায় ২৬ হাজার টাকা। টাকা মেটানোর নামে কিউআর কোড পাঠিয়ে তার ব্যাংক অ্যাকাউন্ট থেকেও প্রায় ৪৮ হাজার টাকা তুলে নেওয়া হয়েছে বলে তরুণীর দাবি।
লকডাউনের মধ্যে গাড়িচালক স্বামীর কাজ না থাকায় মানিকতলার রাজা দীনেন্দ্র স্ট্রিটের বাসিন্দা সোমা ঘোষ মাস্ক বানিয়ে বিক্রি শুরু করেন। ছেলের পরামর্শে সোশ্যাল মিডিয়ায় ছবিও দেন। সেখানেই এক মহিলা তার থেকে ১৫০ টি মাস্ক কিনতে চান গত ১০ আগস্ট। দাম ঠিক হয় ৭৫০০ টাকা। ১৪ আগস্ট টাকা মেটানোর নামে কিউআর কোড পাঠিয়ে তার থেকেও ২০ হাজার টাকা তুলে নেওয়া হয়।
লালবাজার সাইবার থানার এক পুলিশ কর্মকর্তা বললেন, এই ধরনের প্রচুর অভিযোগ আসছে। ওই রকম কিউআর কোড ধরে জালিয়াতি রোধ সম্ভব নয়। এই ধরনের কিউআর কোড প্রতি মুহূর্তে বদলে যায়।
ইন্ডিয়ান স্কুল অব অ্যান্টি হ্যাকিংয়ের অধিকর্তা সন্দীপ সেনগুপ্ত বলেন, কিউআর কোড কাউকে টাকা পাঠানোর জন্য ব্যবহার হয়। কেউ সেই কোড স্ক্যান করে টাকা পাওয়ার আশা করলে মুশকিল। কিন্তু কোড স্ক্যান করার পরেও যে কোনও অ্যাপ টাকা পাঠানোর আগে ব্যবহারকারীর চূড়ান্ত ছাড়পত্র চায়। এ ক্ষেত্রে তা হচ্ছে কি না, সেটাই দেখার।
গোয়েন্দা বিভাগের এক কর্মকর্তার পরামর্শ, অনলাইন লেনদেনের সময়ে সন্দেহ হলে ব্যাংক ট্রান্সফার করতে বলুন। সেটা বেশি নিরাপদ।
সূত্র: আনন্দবাজার।