রাজধানীর মিটফোর্ড হাসপাতাল থেকে পালিয়ে যাওয়া কয়েদি মিন্টু মিয়াকে (২৬) বাবুবাজার ব্রিজের নিচ থেকে হাতকড়া পরা অবস্থায় উদ্ধার করেছে কারা কর্তৃপক্ষ। শনিবার দুপুরে তাকে উদ্ধার করা হয়। এর আগে ভোর সাড়ে ৪টার দিকে তিনজন কারারক্ষীকে ফাঁকি দিয়ে রাজধানীর মিটফোর্ড হাসপাতাল থেকে পালিয়ে যান কয়েদি মিন্টু মিয়া।
মিন্টু পালানোর ঘটনায় দায়িত্বে অবহেলার কারণে ৩ কারারক্ষীকে বরখাস্ত করা হয়েছে। এ ঘটনায় ঢাকার কারা কর্তৃপক্ষ বাদী হয়ে রাজধানীর কোতোয়ালি থানায় একটি মামলা করেছে বলে জানিয়েছেন ওসি মো. মিজানুর রহমান।
মিন্টু টাঙ্গাইলের গোপালপুর থানার মাদক মামলার আসামি। তিনি টাঙ্গাইল জেলা কারাগারে ছিলেন। শ্বাসকষ্টজনিত সমস্যা নিয়ে স্থানীয় হাসপাতালে ভর্তি হন তিনি। সেখান থেকে উন্নত চিকিৎসার জন্য তাকে কেরানীগঞ্জের ঢাকা কেন্দ্রীয় কারাগারে স্থানান্তর করা হয়।
শুক্রবার ঢাকা কেন্দ্রীয় কারাগার থেকে চিকিৎসার জন্য তাকে মিটফোর্ড হাসপাতালে পাঠানো হয়। সেখান থেকে কৌশলে পালিয়ে যান তিনি। পালানোর ১০ ঘণ্টার মধ্যে তাকে ফের গ্রেপ্তার করে কারা কর্তৃপক্ষ।
মিটফোর্ড হাসপাতালের পরিচালক ব্রিগেডিয়ার জেনারেল কাজী মো. রশীদ-উন-নবী দেশ রূপান্তরকে বলেন, শুক্রবার সন্ধ্যায় মিন্টু মিয়া নামের ওই কয়েদি ভর্তি হয়েছিল। তার শ্বাসকষ্ট হচ্ছিল বলে জানায়। ভোরে বাথরুম যাওয়ার কথা বলে সে পালিয়ে যায়। তার পাহারায় দুজন কারারক্ষী ছিল। তারাই জানিয়েছে, মিন্টু মিয়াকে তারা খুঁজে পাচ্ছে না।
তিনি বলেন, ওই রোগী এর আগে ঢাকা মেডিকেলে চিকিৎসা নেয়। সেখানে ভর্তিও ছিল সে।
ঢাকা কেন্দ্রীয় কারাগারের সিনিয়র জেল সুপার ইকবাল কবীর চৌধুরী দেশ রূপান্তরকে বলেন, ‘মিন্টু কীভাবে পালাল তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে। আমাদের কারারক্ষীরাই তাকে ফের ধরেছে। পলায়নের ঘটনায় তিন কারারক্ষীকে দায়িত্বে অবহেলার কারণে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়েছে।
ঢাকা কেন্দ্রীয় কারাগারের জেলার মাহবুবুল ইসলাম বলেন, শনিবার দুপুর ২টায় কারারক্ষীরাই তাকে হ্যান্ডকাফ পরা অবস্থায় আটক করেন। সে বাবুবাজার এলাকায় হ্যান্ডকাফ পরে ঘোরাঘুরি করছে এমন তথ্য পেয়ে তাকে ব্রিজের নিচ থেকে উদ্ধার করেন কারারক্ষীরা।
তিনি বলেন, মাদক মামলার আসামি মিন্টু মিয়ার শ্বাসকষ্ট দেখা দিলে কারা তত্ত্বাবধানে শুক্রবার তাকে হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছিল। পালিয়ে যাওয়ার পরপরই তাকে উদ্ধারের জন্য কারাগারে পক্ষ থেকে বিশেষ ব্যবস্থা নেওয়া হয়। সে সূত্রে বিভিন্ন জায়গায় লোক নিয়োগ করা হয়। পরে বাবুবাজার ব্রিজের কাছে ঘোরঘুরি করা অবস্থায় তাকে পাওয়া যায়।