‘মি টু’ অভিযোগের জন্যই ডিপ্রেশনে ভোগেন সুশান্ত!

আবারও সামনে এল সুশান্তের নামে ওঠা MeToo বিতর্ক। এবার এই প্রসঙ্গে মুখ খুললেন তার প্রেমিকা রিয়া চক্রবর্তী। আর তার নিশানায় সুশান্ত সিং রাজপুতের শেষ নায়িকা নবাগতা সঞ্জনা সাংঘি।

ভারতীয় সংবাদমাধ্যমকে দেওয়া সাক্ষাত্‍কারে রিয়া চক্রবর্তী বলেন, ‘আমার মনে হয় MeToo বিতর্কের পর থেকেই সুশান্তের উপর মানসিক চাপ সৃষ্টি হয়েছিল। ও মনে করত এই সবের পিছনে কারও হাত রয়েছে। আমি জানি না সুশান্ত কাদের সন্দেহ করত। ওর বিশ্বাস ছিল, সঞ্জনা সাংঘির আড়ালে থেকে কেউ কলকাঠি নেড়েছিল। সঞ্জনা সাংঘি অভিযোগ করেছিলেন সুশান্ত নাকি তাকে হেনস্থা করেছিলেন। MeToo অভিযোগ সুশান্তকে ভীষণভাবে আঘাত করেছিল। সেই সময়ে সঞ্জনা একবারও মুখ খোলেননি। এই ঘটনার প্রায় দেড় মাস পরে সঞ্জনা সত্যিটা বলেন। কিন্তু তত দিনে সুশান্তে মানসিক অবস্থা খুবই খারাপ হয়ে গিয়েছিল। নিজেকে নির্দোষ প্রমাণ করতে অবশেষে সুশান্তকে তার ও সঞ্জনার ব্যক্তিগত WhatsApp চ্যাট সামনে আনতে হয়েছিল।’

রিয়া চক্রবর্তীর এই অভিযোগের উত্তরে এবার গর্জে উঠলেন সঞ্জনা সাংঘি। শনিবার এক সংবাদমাধ্যমকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে সঞ্জনা স্পষ্ট জানিয়ে দিলেন, ‘দেখুন সত্যি বলতে কি একজন নারী হিসেবে যা যা বলার সবটাই আমি বলে দিয়েছি। ২৫টির বেশি সাক্ষাত্‍কারে এই বিষয়ে যাবতীয় প্রশ্নের উত্তর দিয়েছি। আমার নতুন করে আর কিছুই বলার নেই। এই মুহূর্তে এমন দাবি নিয়ে মাথা ঘামানো আমার পক্ষে সম্ভব নয়।’

তবে রিয়াই প্রথম নন। এর আগে কঙ্গনা রানাওয়াতও সঞ্জনাকে প্রশ্নের কাঠগড়ায় দাঁড় করিয়েছিলেন। সঞ্জনাকে তিনি পালটা প্রশ্ন করেছিলেন, ‘সুশান্তের সঙ্গে তার এতই যখন সুসম্পর্ক ছিল তখন সেই নিখাদ বন্ধুত্বের কথা আগে কেন বলেননি সঞ্জনা? যখন সঞ্জনাকে ‘ধর্ষণ’ করার মিথ্যে অভিযোগ উঠেছিল সুশান্তের বিরুদ্ধে তখন কেন চুপ ছিলেন তিনি?’

প্রসঙ্গত, সঞ্জনা একটি সাক্ষাত্‍কারে জানিয়েছিলেন, কেন এই রকম মিথ্যে রটনা সেদিন সুশান্তের বিরুদ্ধে রটানো হয়েছিল। সঞ্জনা বলেন, ‘ওই ঘটনার পর সবাই ভেবেছিলেন যে একমাত্র সুশান্তই সমস্যায় পড়েছিলেন। কিন্তু জেনে রাখুন সমস্যায় পড়েছিলাম আমিও। আমি জানতাম ও আমায় কী বোঝাতে চেয়েছে আর আমি ওকে কি বলতে চেয়েছিলাম। শুধু আমরাই জানি সত্যিটা কি। আমরা যখন শ্যুটিং করছিলাম তখন এ রকম বেশ কিছু কুরুচিকর খবর প্রকাশিত হয়। সুশান্ত আমায় বলেছিল এসবে কান না দিতে। বিশ্বাস করুন, যারা এ রকম কুরুচিপূর্ণ খবর লেখেন তাদের আমি কোনো সম্মান করি না। অনেকেই চেষ্টা করেছিল আমার আর সুশান্তের বন্ধুত্বে চিড় ধরাতে। কিন্তু আমাদের বন্ধুত্বে এর কোনও প্রভাব পড়েনি। এখনো আমাদের বন্ধুত্ব একইরকম আছে। সেই সময় সুশান্ত আমাকে বলেছিল আমাদের যে কথাগুলো হয়েছে যেখান থেকে এত সমস্যার সূত্রপাত সেই চ্যাট সবার সামনে তুলে ধরি? আমি বলেছিলাম হ্যাঁ করো। কিন্তু তারপরও একদল লোক ওকে ভুল বুঝেছিল।’