উপনির্বাচনে আগ্রহ নেই বাম জোটের

শূণ্য হওয়া পাঁচ আসনের তিন আসনের উপনির্বাচনের তারিখ ঘোষণা করেছে নির্বাচন কমিশন। আওয়ামী লীগ বাদে অন্য দলগুলোর নির্বাচন নিয়ে তেমন তোড়জোড় দেখা যাচ্ছে না। একইভাবে উপনির্বাচনে অংশ নেওয়ার আগ্রহ নেই বাম গণতান্ত্রিক জোটের । জোটের নেতারা বলছেন, দেশের বর্তমান রাজনৈতিক পরিস্থিতিতে তাদের অংশ নেওয়ার সম্ভাবনা নেই।

গত রবিবার শূন্য হওয়া আসনে ভোট গ্রহণের সিদ্ধান্ত নেয় নির্বাচন কমিশন। ঢাকা-৫ ও নওগাঁ-৬ আসনে ভোট হবে আগামী ১৭ অক্টোবর। এছাড়া পাবনা-৪ আসনের উপনির্বাচনের ভোট ২৬ সেপ্টেম্বর। করোনা পরিস্থিতি ও বন্যার কারণে ঢাকা-১৮ ও সিরাজগঞ্জ-১ আসনের উপনির্বাচন আসন দুটি শূন্য হওয়ার পরবর্তী ৯০ দিনে ভোট গ্রহণের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।

আন্দোলনের অংশ হিসেবে একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে অংশ নেয় বাম গণতান্ত্রিক জোট। ওই নির্বাচনে ১৩১টি আসনে ১৪৭ জন প্রার্থী অংশ নেয়। নির্বাচনের দিন  ‘প্রহসনের নির্বাচন’ আখ্যা দিয়ে ফলাফল প্রত্যাখ্যান করে। পরবর্তী উপজেলা নির্বাচনও বয়কট করেছিল বামজোটভুক্ত দলগুলো। তবে ঢাকা সিটি নির্বাচনে সিপিবি বাদে জোটের অন্য কোনো দল অংশ নেয়নি।

বাম জোটের শীর্ষ নেতাদের দাবি, নির্বাচন কমিশনের পক্ষপাতমূলক অবস্থানের কারণে নির্বাচন ব্যবস্থা ভেঙে পড়েছে। রাজনৈতিক দলগুলো নির্বাচনে অংশ নিলেও জনগণের কোনো অংশগ্রহণ থাকে না। বর্তমান নির্বাচন কমিশন জনগণের আস্থা অর্জন করতে পারেনি। তাই এই নির্বাচন কমিশনের অধীনে নির্বাচনে যাবে না বামজোটভুক্ত দলগুলো। বাংলাদেশের কমিউনিস্ট পার্টির সাধারণ সম্পাদক মো. শাহ আলম দেশ রূপান্তরকে বলেন, নৈশকালীন ‘ভুয়া’ ভোটের অভিযানের মাধ্যমে নির্বাচনী প্রহসন সংঘটিত হয়েছে। দেশের নির্বাচনী ব্যবস্থা ভেঙে পড়েছে। নির্বাচনের ন্যূনতম পরিবেশকেও ধ্বংস করা হয়েছে। এই রকম একটা অবস্থায় নির্বাচনে যাওয়ার কোনো সম্ভাবনা নেই।

তিনি বলেন, ৩০ ডিসেম্বর  জাতীয় সংসদ নির্বাচন আমরা বয়কট করেছি। ওই দিন বিকেলে আমরা সংবাদ সম্মেলনে বলেছি এই নির্বাচন কমিশনের অধীনে আমরা নির্বাচনে যাব না। এটা অগের সিদ্ধান্ত। জোটেরও একই সিদ্ধান্ত ।

বাংলাদেশ সমাজতান্ত্রিক দল-বাসদের সাধারণ সম্পাদক খালেকুজ্জামান দেশ রূপান্তরকে বলেন, দেশে গণতন্ত্র তো পরের কথা ভোটতন্ত্রও নেই। এ  অবস্থায় শূন্য আসনের নির্বাচন জনগণের অংশগ্রহণ বা প্রত্যাশা কিছুই পূরণ হবে না। নির্বাচন কমিশন নিয়মমাফিক শূন্য আসন পূর্ণ করায় ব্যস্ত হয়ে উঠেছে। সেখানে সাধারণ জনগণ বা রাজনৈতিক দলগুলোর কোনো অবস্থান থাকছে না। তিনি বলেন, যে নির্বাচনে জনসাধারণের অংশগ্রহণের কোনো সুযোগ নেই, রাজনৈতিক দলগুলোর লেভেল প্লেয়িং ফিল্ড নেই সে নির্বাচনে আমাদের যুক্ত হওয়ারও কোনো চিন্তা নেই।

বামজোটের অন্যতম শরিক দল বাংলাদেশের বিপ্লবী ওয়ার্কার্স পার্টির সাধারণ সম্পাদক সাইফুল হক বলেন, এই নির্বাচনে যাওয়ার কোনো সুযোগ নেই। সাধারণ মানুষের ভোটাধিকার প্রয়োগে কমিশন কোনো আস্থা তৈরি করতে পারেনি। উল্টো সরকারের ভোট ডাকাতিতে সহায়ক ভূমিকা পালন করেছে। নির্বাচন কমিশনকে ঢেলে সাজাতে হবে। নির্বাচনে সবার জন্য সমান সুযোগ সৃষ্টি করতে হবে।