সাবেক ডিআইজি প্রিজন্স পার্থ বণিকের বিরুদ্ধে চার্জশিট গ্রহণ

বাসা থেকে ঘুষের ৮০ লাখ টাকা উদ্ধারের ঘটনায় দায়ের করা মামলায় গ্রেপ্তার সিলেটের সাবেক ডিআইজি (প্রিজন্স) পার্থ গোপাল বণিকের বিরুদ্ধে দুর্নীতি দমন কমিশনের (দুদক) দেওয়া চার্জশিট গ্রহণ করেছে আদালত।

সোমবার ঢাকা মহানগর দায়রা জজ কেএম ইমরুল কায়েশ চার্জশিট গ্রহণ করেন।

চার্জশিট গ্রহণ করে মামলাটি বিচারের জন্য ঢাকা বিশেষ জজ আদালত নং ১০ এ বদলি করেন তিনি।

এর আগে ২৪ আগস্ট দুদকের উপ-পরিচালক মো. সালাউদ্দীন আদালতে হাজির হয়ে পার্থ বণিকের বিরুদ্ধে চার্জশিট জমা দেন।

গত ২৮ জুলাই বিকেলে ধানমন্ডির ভূতের গলিতে পার্থ গোপাল বণিকের নিজ ফ্ল্যাট থেকে ৮০ লাখ টাকা উদ্ধার করা হয়। ওই সময় তাকে গ্রেপ্তার করে দুদক।

দুদকের পরিচালক (জনসংযোগ) প্রণব কুমার ভট্টাচার্য জানান, কারা অধিদপ্তরের ডিআইজি পার্থ গোপাল বণিক সরকারি চাকরিরত থেকে অর্পিত ক্ষমতার অপব্যবহার করে অবৈধ উপায়ে ঘুষ গ্রহণ করেন। তিনি জ্ঞাত আয়বহির্ভূত ৮০ লাখ টাকা আয় করেন এবং অবৈধ পন্থায় অর্জিত অর্থের অবস্থান গোপন করে পাচারের উদ্দেশ্যে নিজের বাসায় রাখেন।

টাকা উদ্ধারের পর সোমবার পার্থ গোপালের বিরুদ্ধে দণ্ডবিধির ১৬১ ধারাসহ ১৯৪৭ সালের দুর্নীতি প্রতিরোধ আইনের ৫ (২) ধারা এবং মানি লন্ডারিং প্রতিরোধ আইন ২০১২-এর ৪ (২) ধারায় মামলা করেন দুদকের তৎকালীন সহকারী পরিচালক মো. সালাউদ্দীন। দুদকের সমন্বিত জেলা কার্যালয় (সজেকা) ঢাকায় এ মামলাটি করা হয়েছে।

বাসা থেকে টাকা উদ্ধারের পর তার একটি প্রাইভেটকারও জব্দ করে দুদক। পরে দুদকের মামলায় গ্রেপ্তার দেখিয়ে পার্থ গোপালকে আদালতে পাঠানো হয়।

সংশ্লিষ্টরা জানিয়েছেন, গত বছরের ২৬ অক্টোবর চট্টগ্রাম কেন্দ্রীয় কারাগারের জেলার সোহেল রানা বিশ্বাসকে ময়মনসিংহে গ্রামের বাড়িতে যাওয়ার পথে রেলগাড়ি থেকে ৪৪ লাখ ৪৩ হাজার টাকা, ২ কোটি ৫০ লাখ টাকার এফডিআরের কাগজপত্র, ১ কোটি ৩০ লাখ টাকার চেক ও ১২ বোতল ফেনসিডিলসহ গ্রেপ্তার করে রেলওয়ে পুলিশ।

পরে অনুসন্ধানে চট্টগ্রাম কারাগারের তৎকালীন ডিআইজি পার্থসহ ৪৯ জন কর্মকর্তা-কর্মচারীর দুর্নীতির তথ্য পায় তদন্ত কমিটি। কমিটির প্রধান ছিলেন স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের অতিরিক্ত সচিব মনিরুল আলম।

এরপর কারাগারটির দুর্নীতিবাজ কর্মকর্তা-কর্মচারীদের বিষয়ে অনুসন্ধানে নামে দুদক। এর অংশ হিসেবে তাদের সম্পদের হিসাব বিবরণীও চাওয়া হয়। গত রবিবার দুদকের জিজ্ঞাসাবাদে বাসায় টাকা গচ্ছিত রাখার কথা স্বীকার করেন পার্থ। পরে দুদক টিম তার বাসা থেকে ৮০ লাখ টাকা উদ্ধার করে।