‘মুশফিকুর রহিম ফাউন্ডেশন’ যাত্রা শুরু করল এক মহতী উদ্যোগের মাধ্যমে। বাংলাদেশের সেরা ব্যাটসম্যান মুশফিকের এই দাতব্য সংস্থা সম্প্রতি বন্যাদুর্গত অসহায় মানুষের পাশে দাঁড়িয়েছে। ৩০০ পরিবারের মাঝে ত্রাণসামগ্রী বিতরণের মধ্য দিয়ে শুরু হলো ‘মুশফিকুর রহিম ফাউন্ডেশন’ এর আনুষ্ঠানিক যাত্রা।
করোনাভাইরাস মহামারী বাংলাদেশে হানা দেওয়ার পর থেকে মুশফিক কঠিন পরিস্থিতির মধ্যে পড়া অনেক মানুষকে সাহায্য করেছেন। নিজের প্রথম ডাবল সেঞ্চুরির ব্যাটও নিলামে বিক্রি করে ত্রাণের অর্থ তুলেছেন। কভিড-১৯ এর ঘরবন্দি সময়েই নিজের নামে চ্যারিটি ফাউন্ডেশন গড়ে তোলেন বাংলাদেশের সাবেক অধিনায়ক। এই সময়ের উপযোগী চমৎকার এক কাজ দিয়ে শুরু হলো ফাউন্ডেশনের যাত্রা।
এই খবর গতকাল নিজের ফেইসবুক অফিশিয়াল পেইজে জানিয়ে দীর্ঘ একটি পোস্ট লিখেছেন মুশফিক। বেশ আবেগঘন পোস্ট। ‘যতদূর চোখ যায়, শুধু পানি আর পানি। দিগন্তে সবুজের হাতছানি। ভরাট যৌবনা নদীর বুক চিরে এগিয়ে চলা পালতোলা নৌকা আর মাছরাঙার জলকেলি। দর্শানার্থীদের জন্য চোখ ঝলসানো সৌন্দর্য, আর নদীর দুপাশে বসবাসরত মানুষের জন্য মূর্তিমান আতঙ্ক। ‘মড়ার উপর খাঁড়ার ঘা’-এর মতো অবস্থা এখন। সেটাই উল্লেখ করে মুশফিক লিখেছেন, ‘একে করোনার ছোবল, তার ওপর বন্যার নির্যাতন। স্বাভাবিক জীবনে হঠাৎ ছন্দপতন। সমস্ত ফসল, বসতবাড়ি পানির নিচে, ভয়ালদর্শন স্রোতে গ্রামের অনেকখানি নদীগর্ভে।’
এই মানুষগুলো লড়াকু। কিন্তু পরিস্থিতির কারণে আজ তাদের পাশে দরকার সামর্থ্যবান মানুষের দাঁড়ানো। ‘চিরকাল খেটে খাওয়া মানুষগুলো আজ বড্ড অসহায়। নিয়তি মেনে নেওয়া সজল চোখে, আজ শুধুই সাহায্যের আকুতি।’ বন্যা পরিস্থিতিতে এমন একটা কাজ করা যে নিজের দায়িত্বের মধ্যে পড়ে সেটাও জানাতে ভুল হয়নি মুশফিকের, ‘সব খবর জেনে সিদ্ধান্ত নেই, এই মানুষগুলোর কাছে আমার, সামান্য সম্মান মোড়ানো ভালোবাসা পৌঁছাতেই হবে। এটা আমার দায়িত্ব। এর পরের গল্পটা, শুধুই মুখে হাসি ফোটানোর গল্প।’
কয়েকশ পরিবারের হাজারো মানুষের মুখে হাসি ফুটল এম-১৫ ফাউন্ডেশনের কারণে। আরও নির্দিষ্ট করে বললে মুশফিকের কারণে। এমন একটি ফাউন্ডেশন গড়ে মানুষের জন্য আমৃত্যু কাজ করে যাওয়ার স্বপ্নটা অনেক আগে থেকে দেখে আসছেন বাংলাদেশের ক্রিকেট ইতিহাসে অনেক রেকর্ড গড়া উইকেটরক্ষক ব্যাটসম্যান। ‘আলহামদুলিল্লাহ। মহান আল্লাহর অশেষ কৃপায়, গত দুদিন আগে, বগুড়া জেলার সারিয়াকান্দি থানার বোহাইল ইউনিয়নের অন্তর্গত বোহাইল গ্রাম ও ধারাভার্ষা চরে, বন্যাদুর্গত ৩০০ পরিবারের মাঝে ত্রাণসামগ্রী বিতরণের মাধ্যমে আমার স্বপ্নের গঁংযভরয়ঁৎ জধযরস ঋড়ঁহফধঃরড়হ আনুষ্ঠানিক যাত্রা শুরু করে।’ এর সঙ্গে কৃতজ্ঞতা জানিয়ে মুশফিক শেষ করেছেন পোস্টটা, ‘ত্রাণ বিতরণের যাবতীয় কাজ সুষ্ঠুভাবে পরিচালনার জন্য বাংলাদেশ রেড ক্রিসেন্ট সোসাইটি বগুড়া ইউনিটের স্বেচ্ছাসেবকদের প্রতি ভালোবাসা ও সম্মান জানাচ্ছি।’