অর্ধেকে নেমেছে নমুনা পরীক্ষা

চট্টগ্রাম ও রাজশাহীতে করোনা শনাক্তের নমুনা পরীক্ষা অর্ধেকে নেমে এসেছে। স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞরা বলছেন, শুরুতে আক্রান্ত হয়েও মানুষ সেবা পায়নি। ফি আরোপ, পরীক্ষা ঘিরে দুর্নীতি ও আস্থাহীনতার কারণে এখন সবাই মুখ ফিরিয়ে নিয়েছে।

চট্টগ্রামে সর্বশেষ ২৪ ঘণ্টায় ৫৫৯টি নমুনা পরীক্ষায় ৫৮ জনের পজিটিভ এসেছে। জুলাইতে ৩০ হাজার ৯১২টি হলেও আগস্টে ১১ হাজার ৮৬৩টি নমুনা কম পরীক্ষা হয়েছে। চট্টগ্রাম জেলা সিভিল সার্জন কার্যালয়ের তথ্যে, চট্টগ্রাম মহানগরে ও উপজেলায় গত ২৭ মে থেকে ৩ জুন পর্যন্ত আট দিনে নমুনা পরীক্ষায় শনাক্তের হার ছিল ৩৫ দশমিক ১৬ শতাংশ। এরপর কমে গত ১ আগস্টে তা দাঁড়ায় ১৮ শতাংশে। বর্তমানে শনাক্ত ১০ দশমিক ৩৭ শতাংশে নেমে এসেছে। গত ২৬ মার্চ থেকে চট্টগ্রামে নমুনা পরীক্ষা শুরু হয়। গত ৩১ আগস্ট পর্যন্ত মোট ৭৯ হাজার ১২৮টি পরীক্ষা হয়। এর মধ্যে জুলাইতে ৩০ হাজার ৯১২টি হলেও আগস্টে হয়েছে ১৯ হাজার ৪৯টি। এক মাসের ব্যবধানে ১১ হাজার ৮৬৩টি নমুনা পরীক্ষা কমে গেছে।

জনস্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞ মুক্তিযোদ্ধা ডা. মাহফুজুর রহমান বলেন, ‘মানুষ শুরুতে ল্যাবে পরীক্ষা ও হাসপাতালে গিয়ে সেবা পাননি। পরীক্ষা ঘিরে দুর্নীতিতে আস্থাহীনতা তৈরি হয়েছে। ফলে উপসর্গ থাকলেও মানুষ এখন পরীক্ষা করছেন না। বাড়িতে থাকছেন। অ্যান্টিজেন পরীক্ষা শুরু হলে পরীক্ষার হার বাড়তে পারে।’

চট্টগ্রাম জেলা সিভিল সার্জন ডা. সেখ ফজলে রাব্বি বলেন, ‘চট্টগ্রামে এ পর্যন্ত ১৭ হাজার ১১০ জনের করোনা শনাক্ত হয়েছে। এদের মধ্যে ২৭২ জনের মৃত্যু হয়েছে। এখন সংক্রমণ কম, পরিস্থিতি ভালোর দিকে যাচ্ছে। এজন্য নমুনা পরীক্ষাও কম হচ্ছে।’

এদিকে রাজশাহীর ল্যাবে নমুনা পরীক্ষার কোনো চাপ নেই। নমুনা দেওয়ার দিনেই রিপোর্ট পাওয়া যাচ্ছে। দুটি ল্যাবে যে সক্ষমতা, প্রতিদিন সে পরিমাণে নমুনাও আসছে না। সংশ্লিষ্টরা বলছেন, রাজশাহীতে নমুনা পরীক্ষা এখন অর্ধেকে নেমে এসেছে। এজন্য ল্যাব দুটিতে কমিয়ে এক শিফটে পরীক্ষা করা হচ্ছে।

রাজশাহী জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ের তথ্যে, গত ৩০ জুলাই পর্যন্ত জেলায় ২ হাজার ৯৬৫ জনের নমুনা পরীক্ষা করা হয়। এরপরই কমতে থাকে। গত ৩১ আগস্ট পর্যন্ত ৪ হাজার ৮৬৪ জনের নমুনা সংগ্রহ করা হয়েছে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, মানুষের করোনাভীতি অনেকটাই কেটে গেছে। শুরুতে জ¦র-সর্দি হলেও সবাই নমুনা দিতে ল্যাবে ছুটতেন। এখন উপসর্গ থাকলেও সবাই বাড়িতে অবস্থান করছেন। পরীক্ষার প্রতি তাদের কোনো আগ্রহ নেই।

রাজশাহী মেডিকেল কলেজের ভাইরোলজি বিভাগের প্রধান ডা. সাবেরা গুলনাহার বলেন, ‘নমুনা সংকটে আমরা এক শিফট বন্ধ রেখেছি। প্রতিদিন যে সংখ্যক নমুনা পরীক্ষার সক্ষমতা রয়েছে, তাও আমরা পাচ্ছি না। বিষয়টি সিভিল সার্জন ও বিভাগীয় স্বাস্থ্য পরিচালককে জানানো হয়েছে।’

এ বিষয়ে রাজশাহী বিভাগীয় স্বাস্থ্য পরিচালক গোপেন্দ্রনাথ আচার্য বলেন, ‘এখন খুবই কম নমুনা আসছে। এজন্য পরীক্ষাও কম হচ্ছে। অথচ কয়েক দিন আগেও চাপ থাকায় ঢাকায় নমুনা পাঠিয়ে পরীক্ষা করাতে হয়েছে।’