শান্তি আলোচনার পথ সুগম করতে বন্দী তালেবান যোদ্ধাদের বাকি সদস্যদেরও ছেড়ে দেওয়ার কার্যক্রম শুরু করেছে আফগানিস্তান সরকার। এই ধাপে আরও কয়েক’শত বন্দীকে মুক্তি দেওয়া হচ্ছে বলে জানিয়েছে বার্তা সংস্থা এএফপি।
তালেবানবাহিনীর মুখপাত্র সুহেইল শাহীন এএফপিকে বলেন, “আমাদের বন্দীরা মুক্তি পেয়েছে। আন্ত:আফগান আলোচনা শুরুর এটা ইতিবাচক একটি পদক্ষেপ।”
আফগানিস্তান সরকার ও তালেবান বাহিনীর মধ্যে শান্তি আলোচনার পথ তৈরি করতে গত মার্চ থেকেই কথা হচ্ছিল। কিন্তু বন্দী বিনিময় নিয়ে সুরাহা না হওয়ায় আলোচনার বিষয়টি আর এগোচ্ছিল না।
দীর্ঘ টানাপোড়েন শেষে গত মাসে বাকি হাইপ্রোফাইল তালেবান বন্দীগুলোও ছাড়ার ব্যাপারে আফগানিস্তানের সর্বোচ্চ পরিষদ লয়া জিরগায় সিদ্ধান্ত হয়। সে অনুযায়ী বাকি বন্দীদেরও ছাড়া হচ্ছে।
তালেবানদের এক মুখপাত্র জানিয়েছেন, সোমবার থেকে আরও ২০০ বন্দীকে ছেড়েছে সরকার। তালেবান যোদ্ধাদের ছাড়ার বিনিময়ে চারজন আফগান কমান্ডোকে মুক্তি দেওয়া হয়েছে। বুধবার আরও দুই কমান্ডোকে ছাড় দেওয়া হবে।
আফগানিস্তান সরকারের এক কর্মকর্তা এএফপিকে বলেন, “সোমবার কয়েক ডজন তালেবান বন্দীকে ছাড়া হয়েছে। বন্দী বাকি সদস্যদেরও কয়েক দিনের মধ্যে ছেড়ে দেওয়া হবে।”
ফেব্রুয়ারিতে যুক্তরাষ্ট্র-তালেবান বাহিনীর মধ্যে চুক্তি অনুযায়ী শান্তি আলোচনা শুরুর আগে ৫ হাজার তালেবান যোদ্ধাকে ছাড়ার কথা আফগানিস্তান সরকারের। বিনিময়ে তালেবান মুক্তি দেবে ১ হাজার আফগান সেনা সদস্য।
এই পর্যায়ে যেসব তালেবান বন্দী আফগান সরকারের কারাগার থেকে ছাড়া পাচ্ছেন তাদের বিরুদ্ধে গুরুতর অনেক অভিযোগ ছিল। মৃত্যুদণ্ড প্রাপ্ত ১৫০ জনের বেশি। এর মধ্যে ৪৪ জনের একটি দল রয়েছে, যাদের বিরুদ্ধে যুক্তরাষ্ট্র ও অন্যান্য দেশের বিরুদ্ধে ‘বড় মাপের’ আক্রমণের অভিযোগ রয়েছে।