মাদক নিরাময় কেন্দ্রে নেওয়ার পথে যুবকের মৃত্যু

বরিশালে মাদক নিরাময় কেন্দ্রে নেওয়ার পথে ধস্তাধস্তি এবং মারধরে এক যুবকের মৃত্যু হওয়ার অভিযোগ পাওয়া গেছে। এ ঘটনায় ড্রীম লাইফ মাদক নিরাময় কেন্দ্রের মালিকসহ ৫ জনকে আটক করেছে পুলিশ।

বুধবার সন্ধ্যা সাড়ে ৬ টার দিকে নগরীর রূপাতলী বাংলাদেশ বেতার কেন্দ্র এলাকায় ওই ঘটনা ঘটে।

নিহত যুবক সুমন খান (৩৫) একই এলাকার মৃত ছত্তার খানের ছেলে। সে মাদকসক্ত হওয়ায় গত ৬ মাস ধরে ওই কেন্দ্রে চিকিৎসাধীন ছিল বলে জানিয়েছেন তার স্বজনরা।

আটককৃতরা হলো উজ্জ্বল সমাদ্দার, মো. রায়হান, ফজলে রাব্বি, বায়জিদ হোসেন ও আবুল কালাম।

বরিশাল সিটি করপোরেশনের ২৫ নম্বর ওয়ার্ড কাউন্সিলর জাকির মোল্লা জানান, সুমন একই এলাকায় ড্রীমলাইন নামে একটি মাদক নিরাময় কেন্দ্রে দির্ঘদিন ধরে চিকিৎসাধীন ছিল। বুধবার ওই কেন্দ্র থেকে পালিয়ে বাড়িতে যায়। খবর পেয়ে মাদক নিরাময় কেন্দ্রের লোকজন তাকে ধরে নিতে গেলে সুমনের সঙ্গে তাদের বাকবিতন্ডা এবং ধস্তাধস্তি হয়। এক পর্যায়ে তারা সুমনকে শারীরিক নির্যাতন করে। এ সময় নিস্তেজ হয়ে যায় সুমন। স্বজনরা তাকে বরিশাল শের-ই-বাংলা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের জরুরী বিভাগে নিয়ে গেলে কর্তব্যরত চিকিৎসক সুমনকে মৃত ঘোষণা করেন।

সুমনের মৃত্যুর খবর ছড়িয়ে পড়লে এলাকাবাসী মাদক নিরাময় কেন্দ্রের ৫ জনকে ঘিরে রাখে। পরে পুলিশ তাদের আটক করে।   

নিহত সুমনের মা ও বোন জানায়, সুমনকে চিকিৎসার জন্য নিরাময় কেন্দ্রে দেওয়া হয়েছিল। বুধবার সুমন বাড়ি এলে তাকে ধরে নেওয়ার নামে বেধে চ্যাংদোলা করে নির্যাতন করা হয়। সে কারণেই সুমনের মৃত্যু হয়েছে। তারা অভিযুক্তদের বিচার দাবি করেছেন।

বরিশাল কোতয়ালী মডেল থানার পরিদর্শক (তদন্ত) আব্দুর রহমান মুকুল জানান, ময়না তদন্তর জন্য সুমনের লাশ মর্গে পাঠানো হয়েছে। এ ঘটনায় জিজ্ঞাসাবাদের জন্য মাদক নিরাময় কেন্দ্রের ৫ কর্মচারীকে আটক করা হয়েছে। এ ঘটনায় মামলা দায়েরসহ আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার কথা বলেন তিনি।