পুলিশের পক্ষেই ট্রাম্প কৃষ্ণাঙ্গ হত্যা

বর্ণবাদবিরোধী আন্দোলনে মুখরিত যুক্তরাষ্ট্রের উইসকনসিনের কেনোশা শহরে এক ঢিলে দুই পাখি মারতে গিয়েছিলেন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প প্রেসিডেন্ট নির্বাচনকে সামনে রেখে জনসমর্থন আদায় ও বিক্ষোভকারীদের নিষ্ক্রিয় করার চিন্তা ছিল তার। কিন্তু বিশ্লেষকরা বলছেন, ট্রাম্প তার সফরে কোনো লক্ষ্যই অর্জন করতে পারেননি, উল্টো পুলিশের পক্ষে মন্তব্য করে গোটা পরিস্থিতি উত্তপ্ত করে দিয়েছেন।

রিপাবলিকান এ প্রেসিডেন্টকে কেনোশা থেকে দূরে থাকতে অনেকে আহ্বান জানালেও গত মঙ্গলবার তিনি শহরটি সফর করেন বলে জানিয়েছে একাধিক আন্তর্জাতিক বার্তা সংস্থা। পর্যবেক্ষকরা বলছেন, আসন্ন প্রেসিডেন্ট নির্বাচনের আগে যুক্তরাষ্ট্র যখন বর্ণবাদ ও পুলিশি নির্যাতনের মতো ইস্যুগুলোতে দ্বিধাবিভক্ত, ট্রাম্প তখন শ্বেতাঙ্গ সমর্থকদের ঘাঁটিগুলোতে গিয়ে ‘আইন ও শৃঙ্খলার’ বার্তা নিয়ে হাজির হচ্ছেন। বিভিন্ন জনমত জরিপেও ডেমোক্রেটিক প্রতিদ্বন্দ্বী জো বাইডেনের সঙ্গে তার ব্যবধান কমতে দেখা যাচ্ছে।

যুক্তরাষ্ট্রের আইনপ্রয়োগকারী বাহিনীর মধ্যে পদ্ধতিগত বর্ণবাদ নিয়ে অনেক দিন ধরেই সমালোচনা চলছিল দেশটিতে। কিন্তু ট্রাম্প তার বক্তব্যে আইনপ্রয়োগকারী বাহিনীর মধ্যে এমন কোনো চিহ্ন নেই বলে দাবি করেছেন। মঙ্গলবার বিক্ষোভে উত্তপ্ত কেনোশা সফরে গিয়ে সেখানকার সাম্প্রতিক সহিংসতাকে ‘অভ্যন্তরীণ সন্ত্রাস’ বলেও মন্তব্য করেছেন তিনি।

গত ২৩ আগস্ট উইসকনসিনের কেনোশা শহরে জ্যাকব ব্লেক নামে এক কৃষ্ণাঙ্গকে পরপর সাতটি গুলি করে স্থানীয় পুলিশ। এরপর থেকে আবারও বর্ণবাদবিরোধী বিক্ষোভে উত্তাল হয়ে ওঠে গোটা শহর। বিক্ষোভ ধীরে ধীরে সহিংসতায় রূপ নেয় এবং এতে গত সপ্তাহে অন্তত দুই বিক্ষোভকারী প্রাণ হারিয়েছেন। ওই দুই বিক্ষোভকারী নিহতের ঘটনা হামলাকারীদের পক্ষ নিতে দেখা যায় বিচারব্যবস্থাকে। আদালতের দাবি, আত্মরক্ষার্থে ছোড়া গুলিতে ওই দুজনের প্রাণ যায়।

প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প এ বিষয়ে কিছু বললে বা কোনো ব্যবস্থা নিতে গেলে ঘটনা আরও জট পাকাবে আশঙ্কায় তাকে এসব থেকে দূরে থাকার আহ্বান জানিয়েছে ব্লেকের পরিবার। তবে নির্বাচনের আগ মুহূর্তে সেই অনুরোধ রক্ষা করার তেমন কোনো আগ্রই দেখা যায়নি এ রিপাবলিকান নেতার মধ্যে। ডেমোক্র্যাট শাসিত উইসকনসিনে কেউই নিরাপদ নয় দাবি করে সেখানে আইনের শাসন প্রতিষ্ঠার ঘোষণা দিয়েছেন ট্রাম্প।

মঙ্গলবার উইসকনসিনে পা রেখেই সহিংসতার আগুনে পোড়া বিভিন্ন স্থানের ধ্বংসাবশেষ দেখতে যান ডোনাল্ড ট্রাম্প। পুরোপুরি ধ্বংস হয়ে যাওয়া শতবর্ষী একটি আবসাবপত্রের দোকান মালিকের সঙ্গে কথাও বলেন তিনি। স্থানীয় আইনশৃঙ্খলা বাহিনী সদস্যদের সঙ্গে সাক্ষাৎকালে ট্রাম্প আবারও সহিংসতা উসকে দেওয়ায় ডেমোক্র্যাটদের দায়ী করেন এবং শহরটিতে যুক্তরাষ্ট্রের ন্যাশনাল গার্ড সদস্য মোতায়েনের কৃতিত্ব দাবি করেন। যদিও সহিংসতা রোধে উইসকনসিনের গভর্নর কেন্দ্রীয় বাহিনীর আগেই স্থানীয় নিরাপত্তা সদস্যদের মাঠে নামান এবং পরিস্থিতি মোকাবিলায় পার্শ্ববর্তী অঙ্গরাজ্যগুলোর সহযোগিতা চান। ট্রাম্প বলেন ‘এগুলো শান্তিপূর্ণ বিক্ষোভ নয়, অভ্যন্তরীণ সন্ত্রাস। বেপরোয়া বাম রাজনীতিবিদরা আমাদের জাতি ও আইন প্রয়োগকারীদের নিপীড়ক বা বর্ণবাদী হিসেবে প্রচারের ধ্বংসাত্মক বার্তা ছড়িয়ে চলেছে।’

গত মে মাসে মিনেসোটায় পুলিশি নির্যাতনে কৃষাঙ্গ জর্জ ফ্লয়েডের মৃত্যুর পর বর্ণবাদবিরোধী বিক্ষোভ ছড়িয়ে পড়ে গোটা যুক্তরাষ্ট্রে। এতে সমর্থন জানায় সারা বিশ্বের মানুষ। এরপরও দেশটিতে বন্ধ হয়নি পুলিশের হাতে কৃষ্ণাঙ্গ নির্যাতন বা হত্যার ঘটনা। ফ্লয়েডের মৃত্যুর পর আরও অন্তত দুই কৃষ্ণাঙ্গ পুলিশের গুলিতে প্রাণ হারিয়েছেন। শেষ পর্যন্ত প্রাণে বেঁচে গেলেও এমন ঘটনার সবশেষ নজির হচ্ছে জ্যাকব বেবলক। তবে ঘটনার এখানেই শেষ নয়, সম্প্রতি লস অ্যাঞ্জেলেসে পুলিশের গুলিতে আরও এক কৃষ্ণাঙ্গ নিহত হয়েছে।