নরসিংদী থেকে যে বাসে চড়ে রাজধানীর বনানীতে এসেছিলেন, সেই বাসের চাপায় পা হারালেন পরমাণু শক্তি গবেষণা প্রতিষ্ঠানের কারিগরি কর্মকর্তা আফরোজা পারভীন (৫৯)। শুক্রবার সকাল সাড়ে ১১টার দিকে রাজধানী বনানীর ১১ নম্বর সৈনিক ক্লাব সংলগ্ন ট্রাফিক সিগন্যালের সামনে এ ঘটনা ঘটে।
আহত আফরোজা পারভীনকে বনানী থানা পুলিশ উদ্ধার করে প্রথমে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নিয়ে যায়। পরে সেখান থেকে তাকে জাতীয় অর্থোপেডিক হাসপাতাল ও পুনর্বাসন প্রতিষ্ঠানে (নিটোর) ভর্তি করা হয়।
চিকিৎসকদের বরাত দিয়ে আফরোজা পারভীনের ছেলে আল-আমিন দেশ রূপান্তরকে বলেন, মায়ের পা আর জোড়া লাগানো সম্ভব হবে না। চিকিৎসকরা অস্ত্রোপচারের জন্য অপারেশন থিয়েটারে নিয়ে গেছেন।
বনানী থানার এস আই আবদুল কাইয়ুম দেশ রূপান্তরকে বলেন, নরসিংদী টু মহাখালীগামী পিপিএল সুপার বাসের চাপায় আফরোজা পারভীনের ডান পায়ের গোড়ালির নিচ থেকে একেবারে থেঁতলে গেছে। ঘটনায় জড়িত বাসটি জব্দ করা হলেও চালক ও হেলপার পালিয়ে গেছে। ওই অবস্থায় তাকে উদ্ধার করে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নিয়ে যাই। সেখানে গিয়ে পরিবারের সদস্যদের ফোনে অবহিত করি।
তিনি আরো বলেন, আফরোজা পারভীন যে বাসের চাপায় পা হারানোর পথে, সেই বাসে চড়েই নরসিংদী থেকে বনানীতে নেমে বাসের সামনে দিয়েই রাস্তা পার হওয়ার চেষ্টা করছিলেন। বাসের চালক তাকে (আফরোজা পারভীন) না দেখেই গাড়ি চালানো শুরু করলে এ দুর্ঘটনা ঘটে। এ ঘটনায় এখন পর্যন্ত ( সন্ধ্যা ৭টা) থানায় কোনো লিখিত অভিযোগ বা মামলা দায়ের হয়নি।
পরমাণু শক্তি গবেষণা প্রতিষ্ঠানের এক বৈজ্ঞানিক কর্মকর্তা দেশ রূপান্তরকে বলেন, আফরোজা পারভীন নিনমাস (ন্যাশনাল ইনস্টিটিউট আব নিউক্লিয়ার মেডিসিন অ্যান্ড এলাইড সায়েন্সেস) এর শাহবাগের বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয় হাসপাতাল শাখার কারিগরি কর্মকর্তা হিসাবে কাজ করছিলেন। প্রায় দুই মাস পরই তার অবসরে যাওয়া কথা রয়েছে।
আফরোজা বেগমের বড় ছেলে আল আমিন দেশ রূপান্তরকে বলেন, শুক্রবার সকালে তিনি নরসিংদীর চরবুড্ডির গ্রামের বাড়ি থেকে বাসযোগে রাজধানী মিরপুরে বাসায় ফেরার জন্য বনানীর ১১ নম্বরে নামেন। ট্র্যাফিক সিগন্যালের সামনে দিয়ে রাস্তা পার হওয়ার চেষ্টা করলে একই বাসের চাকায় পিষ্ট হয়ে তার ডান পায়ের হাঁটুর নিচ থেকে থেঁতলে যায়। পায়ের হাড়, আঙুল ছিন্নভিন্ন হয়ে যায়। মাংসপিণ্ড রাস্তায় ছড়িয়ে পড়ে।
আল আমিন বলেন, দুপুরের দিকে পুলিশের ফোন পেয়ে আমি ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে যাই। সেখানে যাওয়ার পর চিকিৎসক মাকে পঙ্গু হাসপাতালে নেয়ার পরামর্শ দেন। তারপর সেখান থেকে মাকে নিয়ে পঙ্গু হাসপাতালে যাই।
সংশ্লিষ্টরা জানান, প্রয়াত মুক্তিযোদ্ধা আনিসুর রহমানের স্ত্রী আফরোজা পারভীন। তার দুই ছেলে নিয়ে রাজধানী মিরপুরের ইব্রাহিমপুরের বাসায় থাকতেন। সেখান থেকেই বঙ্গবন্ধু মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল শাখার পরমাণু শক্তি গবেষণা প্রতিষ্ঠানের কর্মস্থলে যেতেন।