মুক্তিযুদ্ধের সেক্টর কমান্ডার লে. কর্নেল (অব) আবু ওসমান চৌধুরী শনিবার সকালে রাজধানীর সম্মিলিত সামরিক হাসপাতালে (সিএমএইচ) মারা গেছেন। একাত্তরের ঘাতক দালাল নির্মূল কমিটির অন্যতম এ সদস্য মুক্তিযুদ্ধে বীরত্বপূর্ণ অবদানের স্বীকৃতি হিসেবে ২০১৪ সালে স্বাধীনতা পুরস্কার পান।
আবু ওসমান চৌধুরী ১৯৩৬ সালের ১ জানুয়ারি চাঁদপুরের ফরিদগঞ্জ থানার মদনেরগাঁও গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন। তার বাবার নাম আব্দুল আজিজ চৌধুরী ও মা মাজেদা খাতুন। তিনি চান্দ্রা ইমাম আলী উচ্চ বিদ্যালয় ও কলেজ থেকে ১৯৫১ সালে প্রথম বিভাগে এসএসসি পাস করেন। পরে ঢাকা কলেজে বিজ্ঞান বিভাগে এইচএসসি ভর্তি হন। কিন্তু ভাষা আন্দোলনে সক্রিয় অংশগ্রহণ, শারীরিক অসুস্থতা ও পারিবারিক নানা সমস্যার কারণে ঢাকা কলেজে এইচএসসি সম্পন্ন করতে পারেননি। ১৯৫৪ সালে চাঁদপুর সরকারি কলেজ থেকে এইচএসসি ও ১৯৫৭ সালে কুমিল্লা ভিক্টোরিয়া কলেজ থেকে তিনি বিএ পাস করেন।
১৯৫৭ সালে আবু ওসমান ঢাকা এয়ারপোর্টে অফিসার হিসেবে নিয়োগ লাভ করেন। এই পদের প্রশিক্ষণে থাকাকালেই সেনাবাহিনীর কমিশন পরীক্ষায় পাস করে আন্তবাহিনী নির্বাচন বোর্ডে উপস্থিত হওয়ার আহ্বান পান। ১৯৫৮ সালের জানুয়ারি মাসে তিনি তত্কালীন পশ্চিম পাকিস্তানের কোহাটে অবস্থিত অফিসার্স ট্রেনিং স্কুলে (ওটিএস) যোগ দেন। সেখানে ৯ মাস প্রশিক্ষণের পর ১৯৫৮ সালের ১৩ সেপ্টেম্বর পাকিস্তান সেনাবাহিনীতে কমিশনপ্রাপ্ত হন। ১৯৬৮ সালের এপ্রিল মাসে তিনি মেজর পদে পদোন্নতি লাভ করেন।
মুক্তিযুদ্ধ চলাকালে আবু ওসমান চৌধুরী পাকিস্তান সেনাবাহিনীর একজন মেজর পদে কুষ্টিয়ায় কর্মরত ছিলেন। অপারেশন সার্চলাইট-এর সংবাদ পেয়ে চুয়াডাঙার ঘাঁটিতে পৌঁছে বিদ্রোহ ঘোষণা করেন ও মুক্তিযুদ্ধে সসৈন্য যোগ দেন। ১০ এপ্রিল বাংলাদেশ সরকার তাকে দক্ষিণ-পশ্চিমাংশের আঞ্চলিক কমান্ডার হিসেবে নিযুক্ত করে। নিচে তার আংশিক বর্ণনা তুলে ধরা হলো।
২৫ মার্চ দিবাগত রাতে পাকিস্তানি বাহিনী অপারেশন সার্চ লাইট পরিকল্পনা অনুয়ায়ী বাঙালি হত্যায় মেতে ওঠে। পরদিন সকালে ঢাকার গণহত্যার খবর চুয়াডাঙ্গায় ছড়িয়ে পড়লে সবার মধ্যে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে। এ দিকে আগের রাতেই যশোর সেনানিবাস হতে একদল সৈন্য কুষ্টিয়া শহর দখল করে নেওয়ায় চুয়াডাঙ্গাবাসী শহরকে রক্ষার জন্য প্রবেশ পথগুলোতে গাছের ডাল কেটে প্রতিবন্ধকতা সৃষ্টি করে। সেই সঙ্গে মহকুমার বিভিন্ন এলাকা থেকে আনসার, মুজাহিদ ও স্বেচ্ছাসেবকদের শ্রীমন্ত টাউন হলে একত্রিত করে চুয়াডাঙ্গা ট্রেজারির সব অস্ত্র তাদের মধ্যে বিলিয়ে দিয়ে প্রতিরোধ ব্যবস্থা মজবুত করা হয়।
১৯৭১ সালে ইপিআর ৪নং উইং-এর সদর দপ্তর চুয়াডাঙ্গায় ছিল। উইং অধিনায়ক মেজর আবু ওসমান চৌধুরীসহ কয়েকজন বাঙালি অফিসার সেখানে কর্মরত ছিলেন। এর আগে ৬ মার্চ প্রাদেশিক পরিষদের সদস্য অ্যাডভোকেট ইউনুস আলীর সঙ্গে মেজর আবু ওসমান চৌধুরীর গোপন বৈঠক হয় এবং তিনি ভবিষ্যতে সব ধরনের সহযোগিতার আশ্বাস দেন।
২৫ মার্চ রাতে অফিসের কাজে তিনি কুষ্টিয়ায় অবস্থান করছিলেন। পরদিন পাকিস্তানি বাহিনীর নজর এড়িয়ে চুয়াডাঙ্গায় ফিরে আসেন। এ দিকে ঢাকার পিলখানা ও রাজারবাগের মর্মান্তিক ঘটনা জানার পর উইং হাবিলদার মেজর মজিবর চুয়াডাঙ্গা ইপিআর সদর দপ্তরের সকল অবাঙালি সৈনিকদের বন্দী করে অস্ত্রাগার অস্ত্র-গোলাবারুদ সরিয়ে রাখেন। সেই দিন বিকেলেই স্থানীয় এক জরুরি সভায় মেজর আবু ওসমান চৌধুরীকে অধিনায়ক, প্রাদেশিক পরিষদের সদস্য ডা. আসহাব-উল হককে প্রধান উপদেষ্টা এবং ব্যারিস্টার বাদল রশীদ ও অ্যাডভোকেট ইউনুস আলীকে উপদেষ্টা করে বাংলাদেশ সশস্ত্র বাহিনীর দক্ষিণ-পশ্চিম কমান্ড গঠন করা হয়।
পরদিন সকালে ইপিআর হেড কোয়ার্টারে মেজর আবু ওসমান চৌধুরীর নেতৃত্বে পাকিস্তানি পতাকা নামিয়ে সম্পূর্ণ সামরিক কায়দায় বাংলাদেশের পতাকা উত্তোলন করা হয়। পরে এ নিয়ে তিনি লেখেন, “আমাদের বর্তমান করণীয় ও ভবিষ্যৎ কর্মপন্থা নিয়ে দীর্ঘ আলোচনা শেষে বাইরে অপেক্ষমাণ উত্তাল জনসমুদ্রের হুংকার আমাকে বুঝিয়ে দিল আমার মূলধন শুধু ইপিআর বাহিনী ও তাদের ৩০৩ রাইফেলই নয়, আমার চূড়ান্ত হাতিয়ার বাংলার স্বাধীনতাকামী আপামর জনসাধারণ, যা পাকিস্তান সেনাবাহিনীর নেই।”
চুয়াডাঙ্গায় সংঘর্ষ শুরু হয় ২৭ মার্চ। সেদিন চুয়াডাঙ্গা ইপিআর চতুর্থ উইং-এর পলায়নরত অবাঙালি ক্যাপ্টেন সাদেক হোসেন বাঙালি ইপিআর সৈন্যদের নিরস্ত্র করার উদ্দেশ্যে সরাসরি সীমান্তবর্তী যাদবপুর ফাঁড়িতে গিয়ে কর্তব্যরত প্রহরীদের সঙ্গে বচসায় লিপ্ত হয়। একপর্যায়ে ক্যাপ্টেন প্রহরী সিপাহিকে মেরে ফেলায় প্রতিশোধপরায়ণ বাঙালি সৈন্যরা তাকে সদলবলে হত্যা করে।
চুয়াডাঙ্গায় যখন অত্যন্ত শক্তিশালী প্রতিরোধ ব্যবস্থা গড়ে উঠেছে, তখন পাশের জেলা কুষ্টিয়া পাকিস্তানি বাহিনীর হাতে পুরোপুরি অবরুদ্ধ। কিন্তু পার্শ্ববর্তী জেলাকে এভাবে শত্রুর দখলে রেখে চুয়াডাঙ্গা থেকে মুক্তিযুদ্ধের নেতৃত্ব দেওয়া সম্ভব নয়। তাই চুয়াডাঙ্গা থেকে কুষ্টিয়া শহরকে শত্রুমুক্ত করার জন্য স্বেচ্ছাসেবক বাহিনী দ্বারা চারদিক থেকে আক্রমণের পরিকল্পনা করা হয়। এই প্রস্তুতিতে মেহেরপুরের তৎকালীন মহকুমা প্রশাসক তৌফিক-ই-ইলাহী চৌধুরী মেহেরপুর এলাকার সকল বাহিনীকে একত্রিত করে সহযোগিতার হাত বাড়িয়ে দেন। সব প্রস্তুতি শেষ হলে ৩০ মার্চ ভোর থেকে ‘অপারেশন ফার্স্ট লেগ’ নামের কুষ্টিয়া শহর শত্রুমুক্ত করার আক্রমণ শুরু হয়। দিনভর যুদ্ধ শেষে অনেক হতাহতের পর পাকিস্তানি বাহিনী সন্ধ্যার পর পিছু হটে কুষ্টিয়া ত্যাগ করতে বাধ্য হয়। এই আক্রমণে স্বেচ্ছাসেবক বাহিনীর সহযোগিতায় কয়েক হাজার সাধারণ জনগণ এগিয়ে এসেছিল।
স্বাধীনতা যুদ্ধের শুরুতেই সীমান্তবর্তী জেলা হিসেবে মুক্ত থাকার সুবাদে ও প্রতিরোধ ব্যবস্থা শক্তিশালী হওয়ায় চুয়াডাঙ্গা হয়ে ওঠে বাংলাদেশের রণাঙ্গনের অন্যতম সংবাদ উৎস। বিদেশি সাংবাদিকদের মাধ্যমে চুয়াডাঙ্গা ডেটলাইনে বাংলাদেশের বাস্তব অবস্থা বিশ্বব্যাপী প্রচারিত হওয়ায় চুয়াডাঙ্গা পাকিস্তানি বাহিনীর টার্গেটে পরিণত হয়। ৩ এপ্রিল চুয়াডাঙ্গার ওপর প্রথম বিমান হামলা চালানো হয়।
এ দিকে ১৯৬৫ সালে পাক-ভারত যুদ্ধের কারণে বন্ধ থাকা দু-দেশের রেল যোগাযোগ ব্যবস্থা ৬ এপ্রিল চালু হয়। ওই দিন ভোরবেলা পাকিস্তানি বাহিনী যশোর সেনানিবাস থেকে বেরিয়ে বিষয়খালিতে অবস্থানরত মুক্তিযোদ্ধাদের ঘাঁটি আক্রমণ করে। পাল্টা আক্রমণ করলে পাকিস্তানি সেনারা ছত্রভঙ্গ হয়ে যায়। এর পর থেকে ক্ষিপ্রগতিতে পাকিস্তান সেনাবাহিনী আকাশ ও জলপথে ব্যাপকভাবে সৈন্য ও অস্ত্রশস্ত্র যশোর সেনানিবাসে আনতে শুরু করে। কিন্তু তখন পাকিস্তানি সেনাকে বাধা দেওয়ার মতো প্রয়োজনীয় অস্ত্র ও জলযান মুক্তিযোদ্ধাদের ছিল না।
আবু ওসমান চৌধুরী লেখেন, “বিষয়খালী সংঘর্ষের পর থেকেই পাকিস্তান সেনাবাহিনী ক্ষিপ্রগতিতে ব্যাপকভাবে সৈন্য ও অস্ত্রশস্ত্র যশোর সেনানিবাসে আনতে শুরু করে। সে সময় আকাশ ও জলপথে পাকিস্তানি বাহিনীকে বাধা দেওয়ার মতো প্রয়োজনীয় অস্ত্র, বিমান বা জলযান কোনটাই আমাদের ছিল না। অসহায়ের মতো দৈনন্দিন পরিস্থিতি ভারতের সমন্বয় অফিসারের কাছে টেলিফোনে জানিয়ে ভারী অস্ত্রের জন্য তাগিদ দেওয়া ছাড়া আমাদের আর কিছুই করণীয় ছিল না।”
এদিকে দক্ষিণ-পশ্চিম রণাঙ্গনে সামরিক অফিসারের শূন্যতা পূরণের জন্য আবু ওসমান চৌধুরী ৭ এপ্রিল সেক্টর অর্ডারের মাধ্যমে যুদ্ধের ময়দানে অফিসার হিসেবে কর্মরত মেহেরপুর মহকুমা প্রশাসক তৌফিক-ই-ইলাহী চৌধুরী, ঝিনাইদহের এসডিপিও মাহবুবউদ্দিন আহমদ ও ঝিনাইদহ ক্যাডেট কলেজের অধ্যাপক শফিকউল্লাহকে সরাসরি কমিশন দিয়ে র্যাঙ্ক পরিয়ে দেন।
১০ এপ্রিল আগরতলায় অনুষ্ঠিত ভারতে উপস্থিত ২৮ জন এমপিএ-এর উপস্থিতিতে এক সভায় অস্থায়ী সরকারের রাজধানী ও শপথগ্রহণ অনুষ্ঠান বাংলাদেশের মুক্তাঞ্চল চুয়াডাঙ্গায় করার ব্যাপারে সিদ্ধান্ত গৃহীত হয়। সিদ্ধান্তটি নিরাপত্তাজনিত কারণে গোপন রাখার চেষ্টা করা হয়। কিন্তু দ্রুতই তা বিভিন্ন সংবাদমাধ্যমে পরিবেশিত হয়। যার ফলশ্রুতিতে পাকিস্তানি বাহিনীর জঙ্গি বিমান চুয়াডাঙ্গার ওপর ব্যাপকভাবে হামলা চালাতে শুরু করে, সেই সঙ্গে যশোর সেনানিবাস থেকে শক্তিশালী একটি দল ১৬ এপ্রিল চুয়াডাঙ্গায় প্রবেশ করে নির্বিচারে গুলি চালিয়ে অনেক লোককে হত্যা করে শহর দখল করে নেয়। দ্রুতই দক্ষিণ-পশ্চিম রণাঙ্গনের সদর দপ্তর চুয়াডাঙ্গা থেকে অন্যত্র সরিয়ে নেওয়া হয়।
এ বিষয়ে স্বাধীনতা যুদ্ধের দলিলপত্র পঞ্চদশ খণ্ডে প্রকাশিত সাক্ষাৎকারে ব্যারিস্টার আমীর-উল-ইসলাম বলেন, “মন্ত্রিসভার আনুষ্ঠানিক শপথের জন্য ১৪ এপ্রিল দিনটি নির্ধারণ করা হয়েছিল। শপথের স্থানের জন্য আমরা চুয়াডাঙ্গার কথা চিন্তা করি। কিন্তু পাক হানাদার বাহিনী সেখানে বিমান থেকে বোমাবর্ষণ করে। আমরা চুয়াডাঙ্গা রাজধানী করার যে সিদ্ধান্ত নিয়েছিলাম, শেষ পর্যন্ত তা আর গোপন থাকেনি। চুয়াডাঙ্গার কথা বাদ দিয়ে আমাদের নতুন স্থানের কথা ভাবতে হলো।”
১৭ এপ্রিল চুয়াডাঙ্গার ইপিআর ৪নং উইংয়ের অধীন মেহেরপুরের বৈদ্যনাথতলা বিওপি সন্নিকটে আম্রকুঞ্জে চুয়াডাঙ্গা ও মেহেরপুরের মুক্তিযুদ্ধের সংগঠক ও মুক্তিযোদ্ধাদের ব্যবস্থাপনায় স্বাধীন বাংলাদেশের অস্থায়ী সরকার শপথ গ্রহণ করেন এবং বিশ্ব সম্প্রদায়ের কাছে বাংলাদেশকে স্বীকৃতি ও সহযোগিতার আহ্বান জানান। প্রাথমিক অবস্থায় ইপিআর, বেঙ্গল রেজিমেন্ট, পুলিশ, আনসার, মুজাহিদ, জনতার বাংলাদেশি যোদ্ধারা বিচ্ছিন্নভাবে প্রতিরোধ গড়ে তুললেও ক্রমে পাকিস্তানি বাহিনীর আক্রমণ তীব্র হলে পরিকল্পিত আক্রমণ ও গোলা বারুদের প্রয়োজন হয়ে পড়ে। প্রয়োজন হয়ে পড়ে সুনির্দিষ্ট লক্ষ্য অর্জনে মুক্তিযুদ্ধকে সুসংহত করার জন্য একক কমান্ড, সেই সঙ্গে গেরিলা যুদ্ধের জন্য যুদ্ধ শিবির ও প্রশিক্ষণ কেন্দ্র গোড়ে তোলা। নেতৃবৃন্দের নির্দেশে যুবকদের সংগঠিত করে সীমান্তের ওপারে নিয়ে ভারতীয় বাহিনীর সহযোগিতায় যুব প্রশিক্ষণ ক্যাম্প চালু করা হয়। শুরু হয় পরিকল্পিত প্রতিরোধের প্রস্তুতি।
মে মাসের শেষার্ধে প্রধান সেনাপতি এম এ জি ওসমানী দক্ষিণ-পশ্চিম রণাঙ্গনকে দুই ভাগ করে ৮নং ও ৯নং সেক্টরদ্বয় গঠন করেন এবং ৮নং সেক্টরের দায়িত্বে আবু ওসমান চৌধুরীকে নিয়োগ করা হয়৷ প্রাথমিকভাবে সে সময় ওই সেক্টরের অপারেশন এলাকা ছিল কুষ্টিয়া, যশোর, খুলনা, বরিশাল, ফরিদপুর ও পটুয়াখালী জেলা৷ মে মাসের শেষে অপারেশন এলাকা সংকুচিত করে কুষ্টিয়া ও যশোর, খুলনা জেলা সদর, সাতক্ষীরা মহকুমা এবং ফরিদপুরের উত্তরাংশ নিয়ে এই এলাকা পুনর্গঠন করা হয়৷ এই সেক্টরের প্রধান ছিলেন আবু ওসমান চৌধুরী এবং পরে মেজর এম এ মঞ্জুর৷
চুয়াডাঙ্গা জেলার সরকারি তথ্যভান্ডার অবলম্বনে