গত ৭ বছরের বেশি সময় ধরে তৈরি পোশাক খাতে ব্যবসা পরিচালনা করে আসছে যুক্তরাজ্যভিত্তিক প্রতিষ্ঠান ডেবেনহ্যামস। প্রতিষ্ঠানটি বিশ্বের প্রায় ১৫০টি স্টোরের মাধ্যমে ব্যবসা পরিচালনা করছে। বছরে ৯০০ কোটি টাকার বেশি ব্যবসা করা প্রতিষ্ঠানটি করোনাকালে বাংলাদেশের লিয়াজোঁ অফিসের ৬৯ কর্মীকে ছাঁটাই করে।
তাদের বিরুদ্ধে অভিযোগ উঠেছে, শ্রমিকদের পাওনা পরিশোধ ও শ্রম অধিকারকে সম্মান না করেই তৃতীয় পক্ষের মাধ্যমে অবৈধভাবে ব্যবসা পরিচালনায় অভিনব প্রতারণার আশ্রয় নিয়েছে তারা।
শনিবার রাজধানীর ঢাকা রিপোর্টার্স ইউনিটিতে (ডিআরইউ) আয়োজিত “অবৈধভাবে চাকরিচ্যুত ও ন্যায্য পাওনার দাবিতে” শিরোনামে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে এসব অভিযোগ জানানো হয়।
ডেবেনহ্যামসের বাংলাদেশে লিয়াজোঁ অফিসের সাবেক কর্মকর্তাদের সংগঠন ডেবেনহ্যামস বাংলাদেশ এমপ্লয়িজ ইউনিয়ন (ডিবিইইউ) এ সংবাদ সম্মেলনের আয়োজন করে।
সংগঠনটির সাধারণ সম্পাদক ফেরদৌস আমহেদ তানভিরের সঞ্চালনায় বক্তব্য রাখেন বাংলাদেশ শ্রম ইনস্টিটিউটের (বাশি) ট্রাস্টি গোলাম মোর্শেদ। সংবাদ সম্মেলনে ডিবিইইউ এর নেতৃবৃন্দ, চাকরিচ্যুত ও ক্ষতিগ্রস্ত কর্মীরা উপস্থিত ছিলেন।
অনুষ্ঠানে লিখিত বক্তব্যে ডিবিইইউ সভাপতি বাহাউদ্দিন মোহাম্মদ আতাউল্লাহ বলেন, ডেবেনহ্যামস বছরে বাংলাদেশ লিয়াজোঁ অফিসের মাধ্যমে প্রায় ৯০০ কোটি টাকার ব্যবসা পরিচালনা করে আসছে। কিন্তু বৈশ্বিক মহামারি কভিড-১৯ চলাকালীন এপ্রিল মাসের ১৫ তারিখে বাংলাদেশের ৬৯ কর্মকর্তা ও কর্মচারীকে সম্পূর্ণ আইনবহির্ভূতভাবে চাকরিচ্যুত করেছে। কার্যক্রম বন্ধে বাংলাদেশে রেগুলেটরি প্রতিষ্ঠানের অনুমতি ও আইনি প্রক্রিয়া অনুসরণ করা হয়নি। তা ছাড়া কর্মীদের কোনো ধরনের পাওনা পরিশোধ ও শ্রম অধিকারকে সম্মান না করেই তৃতীয় পক্ষের মাধ্যমে পুনরায় ব্যবসা শুরু করেছে বলে আমরা জানতে পেরেছি।
অভিযোগে বলা হয়, প্রতিষ্ঠানটির এ ধরনের কর্মকাণ্ড আন্তর্জাতিক শ্রম আইন পরিপন্থী। তা ছাড়া দেশের বিদ্যমান রেগুলেটরি প্রতিষ্ঠানের নিয়ম না মানে বৃদ্ধাঙ্গুলি দেখাচ্ছে প্রতিষ্ঠানটি। অভিনব এ প্রতারণা এখনই বন্ধের দাবি করছি।
স্থানীয় লিয়াজোঁ অফিস বন্ধে বাংলাদেশ বিনিয়োগ উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের (বিডা) কোনো নিয়ম মানা হয়নি জানিয়ে অভিযোগে আরো বলা হয়, কর্তৃপক্ষের অনুমতি সাপেক্ষে বন্ধের জন্য কাট-অফ তারিখ নির্ধারণ করা, অফিস বন্ধের বিষয়টি একটি সর্বাধিক প্রচলিত সংবাদপত্রে কমপক্ষে তিন মাস আগে প্রকাশ করা, লিয়াজোঁ অফিস বন্ধ করার জন্য প্রধান কার্যালয় থেকে একটি বোর্ড রেজুলেশন দেখান- এ সব আইনি প্রক্রিয়া না মানার কারণে বাংলাদেশের সরবরাহকারী ও ভেন্ডররা এখন আমাদের বিরুদ্ধে নামে-বেনামে মামলা করে রেখেছে। ফলে আমরা একদিকে আর্থিক সংকটের মধ্যে পড়েছি, পাশাপাশি সামাজিক ও আইনি জটিলতার মধ্যে পড়ে যাচ্ছি।
চাকরিচ্যুত এসব কর্মকর্তা ও কর্মচারীদের অনেকে মানবেতর জীবন-যাবন করছে জানিয়ে সংবাদ সম্মেলনে বলা হয়, এ অবস্থায় বাংলাদেশ সরকার ও রেগুলেটরি প্রতিষ্ঠান বিশেষ করে বিডা, এনবিআর, বাংলাদেশ ব্যাংক এবং বাংলাদেশে নিযুক্ত ব্রিটিশ রাষ্ট্রদূতের সদয় দৃষ্টি ও সহানুভূতি কামনা করছি। বিশেষ করে এপ্রিল মাসের বেতনসহ চার মাসের নোটিশ পিরিয়ডের বেতন, দু'টি উৎসব বোনাস, আর্ন লিভ ও গ্র্যাচুইটির সমুদয় অর্থ প্রদানের দাবি করছি। এটি আমাদের শ্রম ও পরিশ্রমের ন্যায্য অধিকার। প্রতিটির কর্মীর এ ন্যায্য অধিকার আদায়ে রেগুলেটরি প্রতিষ্ঠানের সহযোগিতা কামনা করছি।
বাংলাদেশে বিদেশি প্রতিষ্ঠানের কার্যক্রম পরিচালনায় সুশাসন প্রতিষ্ঠায় গণমাধ্যমের গুরুত্ব তুলে ধরে গোলাম মোর্শেদ বলেন, বাংলাদেশে ব্যবসা পরিচালনার ক্ষেত্রে ব্রিটিশ কোম্পানিটি আইন ও নিয়ম মানবে না এটি কোনোভাবে কাম্য নয়।