সিলেটের বেসরকারি নর্থ ইস্ট মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে শ্বাসকষ্ট নিয়ে ভর্তি হওয়া এক রোগীর এক দিন ও এক রাতের বিল হয়েছে ৭৭ হাজার ৪৭২ টাকা। চিকিৎসাধীন অবস্থায় ওই রোগী মারা যাওয়ার পর বিলের টাকা আদায়ের জন্য প্রায় চার ঘণ্টা লাশ আটকে রাখা হয়। পরে বিল পরিশোধ করে লাশ নেন স্বজনরা।
সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা যায়, সিলেটের দক্ষিণ সুরমা উপজেলার সিলামের নাছির উদ্দিন (৬০) শ্বাসকষ্ট নিয়ে গত বৃহস্পতিবার রাত ২টার দিকে নর্থ ইস্ট মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি হন। রোগীর স্বজনদের আপত্তি সত্ত্বেও তাকে করোনা কেয়ার ইউনিটে ভর্তি করা হয়। ওই সময় রোগীর স্বজনরা হাসপাতাল কর্তৃপক্ষকে জানান, ইতিমধ্যে রোগীর করোনা পরীক্ষা করা হয়েছে এবং ফল নেগেটিভ এসেছে। সিলেট ওসমানী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে গত ৩০ আগস্ট করা পরীক্ষার কাগজপত্রও তারা দেখান। কিন্তু নর্থ ইস্ট হাসপাতালের সংশ্লিষ্টরা এই রিপোর্ট না মেনে জানান, ভর্তি করোনা ইউনিটেই করতে হবে। এরপর বাধ্য হয়ে নাছির উদ্দিনকে করোনা কেয়ার ইউনিটে ভর্তি করা হয়। গত শুক্রবার রাতে তার অবস্থার অবনতি হলে সংশ্লিষ্টরা তাকে করোনা রোগীদের চিকিৎসায় ব্যবহৃত প্লাজমা দেওয়ার উদ্যোগ নেন। পরে স্বজনদের আপত্তিতে তা আর দেওয়া হয়নি। এরপর রাত ৩টার দিকে নাছির উদ্দিনের মৃত্যু হয়।
মৃত্যুর পর হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ ৭৭ হাজার ৪৭২ টাকার বিল ধরিয়ে দিয়ে তা পরিশোধ করে লাশ নিতে বলে। এত টাকা তাৎক্ষণিকভাবে দেওয়া সম্ভব নয় জানালে লাশ আটকে রাখা হয়। এরপর গতকাল শনিবার সকাল ৭টার দিকে বিলের টাকা পরিশোধ করে লাশ নেওয়া হয়।
বিলের কপিতে দেখা যায়, ডায়াগনস্টিক বিল ৯ হাজার ৬৪০ টাকা, কভিড-১৯ আইসিইউ বিল ১০ হাজার টাকা, কভিড বায়োসেপ বিল ২৪ হাজার ৭২ টাকা, অক্সিজেন বিল ১৫ হাজার ৩৪৫ টাকা, পিপিই বিল ৮ হাজার ৫শ টাকা উল্লেখ রয়েছে।
মারা যাওয়া নাছির উদ্দিনের পরিচিতজন এবং সিলেটে গরিব রোগীদের বিনামূল্যে অক্সিজেন সেবা দানের উদ্যোক্তা, ব্যবসায়ী আবদুল জব্বার জলিল দেশ রূপান্তরকে বলেন, নাছির উদ্দিন একজন নিঃসন্তান মানুষ। মহরির কাজ করে তিনি সংসার চালাতেন। শ্বাসকষ্ট নিয়ে নর্থ ইস্ট হাসপাতালে গেলে তাকে করোনা ইউনিটে ভর্তি করা হয়। আবদুল জব্বার জলিল বলেন, ওই সময় আমি নিজেও হাসপাতালের সংশ্লিষ্টদের সঙ্গে কথা বলে নাছির উদ্দিন করোনা রোগী নয় এবং তার পরীক্ষার কাগজপত্র দেখতে বলি। কিন্তু তারা এতে সায় না দিয়ে করোনা ইউনিটে ভর্তি করেন। মৃত্যুর পর নাছির উদ্দিনের স্বজনদের কাছে মোটা অঙ্কের বিল ধরিয়ে দিলে তারা নিরুপায় হয়ে পড়েন। তখন তিনি হাসপাতালের সংশ্লিষ্টদের লাশ পরিবারের কাছে দেওয়ার অনুরোধ জানিয়ে বিলের টাকা তিনি পরিশোধ করবেন বলে জানান। কিন্তু এতেও তারা রাজি হয়নি। শনিবার সকাল ৭টার দিকে তিনি বিলের পুরো টাকা পরিশোধ করে লাশ নেওয়ার ব্যবস্থা করেন।
আবদুল জব্বার জলিল বলেন, করোনার এই মহামারীর সময় হাসপাতালে চিকিৎসার নামে অসহায় মানুষদের এভাবে গলাকাটা বিল ধরিয়ে দিলে মানুষ যাবে কোথায়। তিনি চিকিৎসার নামে যারা অমানবিক ব্যবসায় মেতেছে তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানান।
এ ব্যাপারে বক্তব্য জানার জন্য নর্থ ইস্ট মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের প্রশাসনিক শাখায় মোবাইল ফোনে যোগাযোগ করলে নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক ওই কর্মকর্তা এ ব্যাপারে ঊর্ধ্বতন কর্র্তৃপক্ষের সঙ্গে যোগাযোগের পরামর্শ দিয়ে ফোন কেটে দেন।