১৮ মাস বয়সী শিফাত মোল্লা কথা বলতে পারে না। তবে আব্বু-আম্মু ডাক শিখেছে। শিফাতকে কাছে রেখে বাবা-মায়ের কাছে মোবাইল ফোনে টাকা দাবি করছে অপহরণকারী। এ বিষয়ে কাউকে জানালে শিফাতকে মেরে ফেলারও হুমকি দেয়া হচ্ছে।
ব্রাহ্মণবাড়িয়ার আখাউড়া পৌর এলাকার দেবগ্রামের শিব বাড়ি সংলগ্ন বাসায় ভাড়া থাকে শিফাতের পরিবার। বাবা শিপন মোল্লা রাজমিস্ত্রি, মা লাকী বেগম গৃহিণী। তাদের সঙ্গে এক বাসাতে ভাড়া থাকা মো. ফারুক ও তার স্ত্রী। তারা রবিবার দুপুরে শিফাতকে কৌশলে অপহরণ করে নিয়ে যায়। শিশুকে ফেরত দেয়ার বদলে তার বাবা-মায়ের কাছে মাত্র পাঁচ হাজার টাকা দাবি করা হচ্ছে। এ ঘটনায় থানায় লিখিত অভিযোগও করা হয়েছে।
সোমবার দুপুরে শিফাতের বাড়িতে গিয়ে জানা যায়, দুই বোন এক ভাইয়ের মধ্যে শিফাত ছোট। খলিলুর রহমানের বাড়ির আরেক ভাড়াটিয়া ফারুক ও তার স্ত্রী প্রায় ছয়-সাত মাস ধরে এখানে ভাড়া থাকেন। ফারুক শ্রমিকের কাজ করে। রবিবার দুপুরে ফারুকের স্ত্রী রুপা বেগম বেশ কিছু সময় শিফাতকে কোলে নিয়ে রাখে। এরই মধ্যে সুযোগ বুঝে ফারুক ও তার স্ত্রী সটকে পড়ে। কিছুক্ষণ পর তাদেরকে না পেয়ে সন্দেহ হয় শিফাতের পরিবারের। ঘরে গিয়ে দেখে দু’টি মোবাইল ফোন সেটও নেই। পরে বিষয়টি পুলিশ ও স্থানীয়দের অবহিত করা হয়।
শিফাতের মা ছেলের কথা মনে করে বারবার কেঁদে উঠছিলেন। ছেলের চলন বলনের বর্ণনা দেন তিনি। জানান, নিয়ে যাওয়ার কয়েক ঘণ্টা পর ফারুক মোবাইল ফোনে পাঁচ হাজার টাকা দাবি করে। এ সময় তিনি ফোনের অপর প্রান্তে ছেলে আব্বু-আম্মু বলে ডাকছে শুনতে পান। ফারুক তখন জানায়, যদি এসব বিষয় কাউকে জানানো হয় তাহলে শিফাতকে মেরে ফেলা হবে।
বাড়ির মালিক খলিলুর রহমান জানান, ফারুক তার বাড়ি নোয়াখালীর সোনাইমুড়ি বলে জানিয়েছে। সে প্রায়ই নেশা করত। টাকার জন্যই সে ওই শিশুটিকে অপহরণ করেছে। পুলিশের পরামর্শে তার কথা অনুযায়ী সোনাইমুড়ির একটি দোকানের নম্বরে বিকাশে টাকা পাঠানো হয়। কিন্তু পুলিশে জানানোর বিষয়টি বুঝতে পেরে ফারুক শেষ পর্যন্ত ওই দোকানে যায়নি।
আখাউড়া থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মো. রসুল আহমেদ নিজামী জানান, অপহরণকারীদের অবস্থান সম্পর্কে অনেকটা নিশ্চিত হওয়া গেছে। এ বিষয়ে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেয়া হচ্ছে। আশা করছি শিশুটিকে উদ্ধার করা যাবে।