সৌদি সাংবাদিক জামাল খাশোগি হত্যাকাণ্ডে মৃত্যুদণ্ড দেওয়া পাঁচ ব্যক্তির সাজা পরিবর্তন করে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড দিয়েছে সৌদি আরবের একটি আদালত। একে ‘বিচারের নামে তামাশা’ বলে উল্লেখ করলেন খাশোগির বান্ধবী।
২০১৮ সালের ওই হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় পাঁচ ব্যক্তিকে মৃত্যুদণ্ডসহ মোট আটজনকে বিভিন্ন মেয়াদের সাজা দেওয়া হয়েছিল। তবে কৌঁসুলিরা বলছেন, খাশোগির পরিবার তাদের ক্ষমা করে দেওয়ায় মৃত্যুদণ্ড পরিবর্তন করে ২০ বছরের কারাদণ্ড দেওয়া হয়েছে।
তবে জামাল খাশোগির বান্ধবী হেতিস চেঙ্গিস একটি বিবৃতিতে বলছেন, সৌদি আরবে যে রায় দেওয়া হলো, সেটার মাধ্যমে আবারও বিচার নিয়ে তামাশা করা হলো।
৫৯ বছর বয়সী সাংবাদিক জামাল খাশোগি ২০১৭ সাল থেকে যুক্তরাষ্ট্রে স্বেচ্ছা নির্বাসনে ছিলেন।
তাকে ২০১৮ সালের ২ অক্টোবর সর্বশেষ তুরস্কের ইস্তাম্বুলে সৌদি কনস্যুলেটে ঢুকতে দেওয়া যায়। তিনি সেখানে গিয়েছিলেন চেঙ্গিসকে বিয়ে করার জন্য প্রয়োজনীয় কাগজপত্র জোগাড় করতে। কনস্যুলেটের বাইরে খাশোগি জন্য অপেক্ষায় করছিলেন চেঙ্গিস।
ওই বছর মে মাসে ইস্তাম্বুলের একটি কনফারেন্সে খাশোগি ও চেঙ্গিসের পরিচয়। এর কয়েক মাস পর তারা বিয়ের সিদ্ধান্ত নেন।
সৌদি সরকার বলেছে, একটি ‘বেপরোয়া অভিযানে’ ওই সাংবাদিক খুন হন। পরের বছর ১১ জন ব্যক্তিকে বিচারের জন্য অভিযুক্ত করে সৌদি কৌঁসুলিরা, যদিও তাদের নাম প্রকাশ করা হয়নি।
তবে সেই বিচার প্রক্রিয়াকে সেই সময় ‘ন্যায়বিচার বিরোধী’ বর্ণনা করে প্রত্যাখ্যান করেন জাতিসংঘের স্পেশাল র্যাপোটিয়ার অ্যাগনেস ক্যালামার্ড। বলেছিলেন, খাশোগিকে ‘উদ্দেশ্যপ্রণোদিত, সুপরিকল্পিত খুন’, যার জন্য সৌদি আরব রাষ্ট্র দায়ী। ওই হত্যাকাণ্ডে দেশটির উচ্চপদস্থ কর্মকর্তারা দায়ী, যাদের মধ্যে যুবরাজ মোহাম্মদ বিন সালমানও রয়েছেন।
এই ঘটনায় সংশ্লিষ্ট থাকার অভিযোগ নাকচ করেছেন যুবরাজ। তবে পূর্ব পরিকল্পিতভাবে খাশোগি হত্যার অভিযোগে অনুপস্থিতিতেই যুবরাজের সাবেক দুই সহকারীকে অভিযুক্ত করেছে তুরস্ক। ওই হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় তুরস্কে আরও ১৮ জনের বিচার চলছে।
বলা হচ্ছে, সেখানে খাশোগিকে হত্যার সময়ের কথাবার্তা গোপনে রেকর্ড করেছিল তুর্কি গোয়েন্দা সংস্থা।
সৌদি আরবে এ ঘটনায় মোট ১৮ জনকে গ্রেপ্তার করা হয়। গত বছরের ডিসেম্বরে এদের মধ্যে হত্যা করা এবং হত্যায় সরাসরি অংশ নেওয়ার অভিযোগে পাঁচজনকে মৃত্যুদণ্ড দেয় সৌদি আরবের একটি আদালত। ‘হত্যার তথ্য গোপন এবং আইন ভঙ্গের অভিযোগে’ অন্যদের ২৪ বছর পর্যন্ত কারাদণ্ড দেওয়া হয়।
তিনজন ব্যক্তির দোষ প্রমাণিত হয়নি, যাদের মধ্যে রয়েছেন সৌদি আরবের গোয়েন্দা সংস্থার সাবেক উপ-প্রধান আহমেদ আসিরি। যুবরাজ মোহাম্মদের ঘনিষ্ঠ একজন সহযোগী সাউদ আল-কাহতানির বিরুদ্ধেও তদন্ত করা হয়, কিন্তু তার অপরাধ খুঁজে পাওয়া যায়নি।
গত মে মাসে খাশোগির ছেলে সালাহ মোহাম্মদ ঘোষণা করেন, তার বাবাকে যারা হত্যা করেছেন, তাদের তিনি এবং তার ভাই ক্ষমা করে দিয়েছেন। ওই হত্যাকাণ্ড পূর্বপরিকল্পিত ছিল না বলেও মেনে নিয়েছেন।
সোমবার সৌদি আরবের সরকারি কৌঁসুলিরা জানান, রিয়াদের আদালত মৃত্যুদণ্ড পাওয়া পাঁচ ব্যক্তিকে ২০ বছর ক রে কারাদণ্ড দিয়েছেন। বাকি তিনজনকে ১০ বছর করে সাজা দেওয়া হয়েছে। অভিযুক্তদের ক্ষেত্রে এই সাজাই চূড়ান্ত। এর মাধ্যমে সৌদি আরবে এই হত্যাকাণ্ডের বিচার কার্যক্রমও শেষ হলো।