গ্রামজুড়ে নয়নাভিরাম নীল-সাদা-হলুদ পদ্ম

কুমিল্লা বুড়িচং উপজেলার দক্ষিণ গ্রামের বিশাল এক বিলে নয়নাভিরাম পদ্মফুলের সমারোহ। পানির ওপর ভেসে থাকা নীল-সাদা তো বটেই বিশেষ করে হলুদ রঙের পদ্মের রূপ শোভা মুগ্ধ করছে সকলকে।

মঙ্গলবার সরেজমিনে দক্ষিণ গ্রামের বিলটিতে গিয়ে দেখা যায়, পদ্মফুলের সৌন্দর্য উপভোগ করতে ভিড় করছে অগণিত মানুষ। গ্রামের রেললাইন ঘেঁষা বিলে পদ্মের নৈসর্গিক সমারোহ হাতছানি দিয়ে ডাকছে। পদ্মবিলের মাঝে নানান প্রজাতির পাখি ওড়াউড়ি করছে। ডাহুক, সারস, বালিহাঁস খাবারের খুঁজে ঘুরে ফিরছে।

দূর-দূরান্ত থেকে মানুষ বুড়িচংয়ের দক্ষিণ গ্রামের পদ্মবিলের সৌন্দর্য দেখতে প্রতিদিনই ছুটে আসছেন। পরিবার-পরিজন নিয়ে বা দল বেঁধে ছেলে মেয়েরা সবাই মুগ্ধ মনে দেখেন নীল, সাদা ও হলুদ পদ্মের রূপ। ভোর থেকে রাত পর্যন্ত পদ্মবিলে রয়েছে মানুষের আনাগোনা।

দক্ষিণ গ্রামের পদ্মবিলের এ সৌন্দর্য শুধু প্রকৃতিপ্রেমীর কাছে নয়, পরিবেশ সচেতন ব্যক্তিরাও মুগ্ধ। প্রতিদিন নানা বয়সের মানুষ আসছে এ সৌন্দর্য উপভোগ করতে। দিন দিন বিলটি সৌন্দর্য প্রিয় মানুষের কাছে জনপ্রিয় হয়ে উঠছে।

স্থানীয় ইউপি সদস্য মো. শাহিন জানান, কিছুদিন আগে এখানে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের একদল গবেষক এসেছেন। তারা এখানে পদ্মফুলের ওপর গবেষণা করেছেন। বুড়িচং উপজেলার দক্ষিণ গ্রামে বিলের যে সব পদ্ম ফুটে সেসব পদ্ম আকারে বেশ বড়। তিন রঙের পদ্ম বাংলাদেশে এটাই প্রথম। তবে রক্ষণাবেক্ষণের অভাবে তা এখন হুমকির মুখে আছে।

দক্ষিণ গ্রামের বাসিন্দারা জানান, বিলটিতে বর্ষার সময় থেকেই পদ্মফুল তার পসরা ছড়াতে থাকে। আশ্বিনের শেষ পর্যন্ত দক্ষিণ গ্রামের এ বিলে পদ্মফুলের সমারোহ থাকে।

দক্ষিণ গ্রামের এ বিলে নৈসর্গিক পদ্মফুলের সমারোহকে কেন্দ্র করে জমে উঠেছে ছোট ছোট ব্যবসা। গ্রামের বেকার যুবকরা বেড়াতে আসা মানুষদের নৌকায় ঘুরিয়ে আয় করছেন।

বিলের পাশেই বাড়ি মমিন মিয়ার, বয়স ৩৫, দুটি ছোট নৌকা কিনেছেন, সকাল থেকে সন্ধ্যা পর্যন্ত হাজার টাকা রোজগার হয় তার।

এলাকাবাসীর দাবি বিলটিকে সংরক্ষণ করে পর্যটকদের জন্য সুযোগ-সুবিধা বাড়ানো হোক। কুমিল্লা জেলা প্রশাসক মো. আবুল ফজল মীর জানান, এই বিলটি সংরক্ষণে যথাযথ পদক্ষেপ নেওয়া হবে।