মাস্ক, গ্লাভস আর স্যানিটাইজার-করোনাকালে এই তিন পণ্যের ব্যবসা এখন জেঁকে বসেছে। করোনা থেকে রেহাই পেতে এখন মানুষের পকেটে পকেটে হ্যান্ড স্যানিটাইজারের শিশি বা বোতল।
প্রতি ১৫ মিনিট অন্তর স্যানিটাইজার ব্যবহার করলে অনেকটাই সুরক্ষিত থাকা যায় বলে বিশেষজ্ঞদের মত। ফলে পণ্যটির চাহিদা দিন দিন বাড়ছে।
এর মধ্যে গোমূত্রের তৈরি শতভাগ প্রাকৃতিক স্যানিটাইজার আনল ভারতের গুজরাটের একটি সমবায় সংস্থা। দেশটির সংবাদমাধ্যম টাইমস অব ইন্ডিয়া এ খবর জানায়।
জামনগরের কামধেনু দিব্যা ওষধি মহিলা মণ্ডলী নামে সংস্থাটির দাবি, করোনাকালে এমন প্রাকৃতিক স্যানিটাইজার খুব দ্রুত জীবাণুমুক্ত করতে পারবে।
এর আগে, রাজস্থানের একটি ফার্ম গোবর দিয়ে তৈরি ইকো-ফ্রেন্ডলি পেপার বানিয়ে, তা দিয়ে ফেস মাস্ক বানিয়েছিল। শুধু তাই নয়, বাজারে বিক্রিও করেছিলেন ওই ডিসপসিবল ফেস মাস্ক।
গো-রক্ষায় মোদি সরকারের রাষ্ট্রীয় কামধেনু আয়োগ মঙ্গলবার একটি অনলাইন আয়োজনে হ্যান্ড স্যানিটাইজারটি প্রকাশ্যে আনে।
গো-সেফ নামে হ্যান্ড স্যানিটাইজারটি শিগগিরই বাজারজাত করবে কামধেনু দিব্যা ওষুধি মহিলা মণ্ডলী। এর আগে এ সমবায় সংস্থাটি গোমূত্র দিয়ে তৈরি গো প্রটেক্ট নামে একটি সারফেস স্যানিটাইজার ও গো ক্লিন নামে ঘর জীবাণুমুক্ত করার তরল ক্লিনার বাজারজাত করেছিল।
সংস্থাটির ডিরেক্টর মনীষা শাহ বলেন, ‘কর্তৃপক্ষ থেকে গো-সেফের লাইসেন্স পাওয়ার আশায় রয়েছি আমরা। আগামী সপ্তাহের মধ্যে সেই লাইসেন্স আমরা হাতে পেয়ে যাব। তারপরই বাজারে ছাড়া হবে এই স্যানিটাইজার।’
শুধু গো-মূত্র দিয়েই নয় এই স্যানিটাইজারে রয়েছে নিম ও তুলসীর মতো কিছু প্রাকৃতিক উপাদানের গুণও। সমবায় সংস্থাটির বিশ্বাস, গোমূত্রের ঔষধি মূল্য এই স্যানিটাইজারে বজায় থাকবে।
গুজরাট কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রাক্তন প্রিন্সিপাল ড. হিতেশ জানি স্যানিটাইজারটির বানানোর রিসার্চের কাজে নেতৃত্ব দিয়েছিলেন। তার মতে, এই দেশে গরু, গ্রাম ও নারীরা হলেন লাইফলাইন। এই প্রোডাক্ট তৈরির পেছনে রয়েছে অনেক পরিশ্রম ও ত্যাগ।
রাষ্ট্রীয় কামধেণু আয়োগের চেয়ারম্যান বল্লভ কাথিরিয়া বলেন, ‘হ্যান্ড স্যানিটাইজার ও মাস্ক- দুটোই গোমূত্র ও গোবর থেকে তৈরির প্রচেষ্টা চালানো হয়েছে। করোনাকালে এই অসাধারণ প্রচেষ্টা সত্যিই অনুপ্রেরণার। এই সংস্থা ভবিষ্যতে দুটো প্রোডাক্টই সারা দেশে বিক্রি করবে।’