‘মসজিদে বিস্ফোরণে দগ্ধদের চিকিৎসায় ঘাটতি পাইনি’

নারায়ণগঞ্জে মসজিদে বিস্ফোরণে দগ্ধদের চিকিৎসার সার্বিক খোঁজখবর নিতে শেখ হাসিনা জাতীয় বার্ন ও প্লাস্টিক সার্জারি ইনস্টিটিউট পরিদর্শন করেছেন প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের সাবেক পরিচালক ডা. জুলফিকার লেনিন।

তিনি বলেন, “আমি আজ এখানে চিকিৎসা, স্বাস্থ্যকর্মীর কোনো ঘাটতি রয়েছে কি-না এটি দেখার জন্যই এসেছি। তবে এ রকম কোনো ঘাটতি দেখতে পাইনি।”

বৃহস্পতিবার সকাল ১১টার দিকে ডা. জুলফিকার লেনিন হাসপাতালে আসেন। তিনি রোগী ও তাদের স্বজনদের সঙ্গে কথা বলেন। এরপর চিকিৎসকদের সঙ্গে কথা বলে সার্বিক চিকিৎসা পরিস্থিতি জানার চেষ্টা করেন।

হাসপাতাল থেকে বেরিয়ে ডা. লেনিন সাংবাদিকদের বলেন, “পোড়া রোগীদের চিকিৎসার জন্যই এই বার্ন ইনস্টিটিউট করা হয়েছে। নারায়ণগঞ্জে মসজিদ যে মর্মান্তিক ঘটনাটি ঘটেছে এতে দগ্ধদের অধিকাংশ মোটামুটি ৯০ শতাংশ পুড়ে গেছে। তাদের চিকিৎসার জন্য যা যা প্রয়োজন সব সাপোর্টই এই হাসপাতালের রয়েছে।”

আরও বলেন, “প্রথম থেকেই প্রধানমন্ত্রী তাদের চিকিৎসার বিষয়ে খোঁজখবর রাখছেন। ওষুধ থেকে শুরু করে সবই কিছুই সরকারিভাবে দেওয়ার নির্দেশ দিয়েছেন এবং সেই নির্দেশ অনুযায়ীই কাজ করা হচ্ছে। আমি আজ এখানে চিকিৎসা, স্বাস্থ্যকর্মীর কোনো ঘাটতি রয়েছে কি-না এটি দেখার জন্যই এসেছি। তবে এ রকম কোনো ঘাটতি দেখতে পাইনি। হাসপাতালের কর্তৃপক্ষ, চিকিৎসকেরা সবকিছুরই ব্যবস্থা করে দিচ্ছেন। রোগীর স্বজনদের আবেগের জায়গায় হয়তো কিছুটা সমস্যা রয়েছে যে, তারা তাদের রোগীকে দেখতে পারছে না, আইসিইউর ভেতরে ঢুকতে পারছে না।”

ডা. জুলফিকার লেনিন জানান, উপজেলা ও জেলা প্রশাসনের মাধ্যমে প্রধানমন্ত্রী সব তথ্য নিচ্ছেন। আরও যা যা প্রয়োজন সে বিষয়ে ব্যবস্থার প্রক্রিয়া চলছে।

তিনি বলেন, “এখানে কোনো চিকিৎসা ঘাটতি রয়েছে এমন কোনো অভিযোগ পাইনি। এখান থেকে রোগীকে বাইরে নিয়ে চিকিৎসা করবে এমন কোনো ব্যবস্থা নেই। বরং বাইরে থেকে রোগী এখানে আসবে। ইনফেকশনের ভয়ে রোগীদের কাছে বারবার স্বজনদের যেতে না দেওয়াতে বিভিন্ন অভিযোগ থাকতে পারে। তবে দিনে দু একবার যাওয়ার সুযোগ দেন চিকিৎসকেরা।”

এ দিকে ইনস্টিটিউটের সমন্বয়ক ডা. সামন্ত লাল সেন বলেন, “এই ঘটনায় এখন পর্যন্ত ২৯ জনের মৃত্যু হয়েছে। আজ সকাল সাড়ে ৯টায় আবদুস সাত্তার নামে সর্বশেষ একজনের মৃত্যু হয়েছে। ইতিমধ্যে একজন চিকিৎসা নিয়ে বাড়ি ফিরেছেন। এখন ৭ জন ভর্তি রয়েছে। সবার আইসিইউতে চিকিৎসা চলছে। সবাই মেজর বার্ন, শঙ্কামুক্ত নন। রাষ্ট্রের নির্দেশে সর্বোচ্চ চেষ্টা করছি।”

৪ সেপ্টেম্বর এশার নামাজের সময় তল্লায় বায়তুস সালাত জামে মসজিদে বিকট শব্দে বিস্ফোরণ ঘটে। এতে ৪০ জনের বেশি মুসল্লি দগ্ধ হন। দগ্ধদের মধ্যে ৩৭ জনকে গুরুতর অবস্থায় ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়।

বিস্ফোরণে মসজিদের ছয়টি এসি পুড়ে যায়। ফায়ার সার্ভিসের পাঁচটি ইউনিট ঘটনাস্থলে এসে আধা ঘণ্টা চেষ্টা চালিয়ে আগুন নিয়ন্ত্রণে আনে।

মসজিদের নিচ দিয়ে যাওয়া তিতাস গ্যাস লাইনের লিকেজ থেকে এ বিস্ফোরণ হতে পারে বলে ধারণা করেছিল ফায়ার সার্ভিস। পরবর্তীতে কিছু লিকেজ পাওয়াও গেছে। বিষয়টি তদন্তে জেলা প্রশাসন ও তিতাস কর্তৃপক্ষ কয়েকটি তদন্ত কমিটি গঠন করেছে।