যাত্রাকালে এক শিশুর মুখে মাস্ক না থাকায় পুরো ফ্লাইট বাতিল করেছে কানাডার একটি এয়ারলাইনস, এমনকি পুলিশও ডাকে তারা।
বিবিসি জানায়, মঙ্গলবার কানাডার ক্যালগারি থেকে টরেন্টো অভিমুখী ছিল ওয়েস্টজেট কোম্পানির ফ্লাইটটি।
একটি পরিবার যাত্রাকালে মাস্ক পরতে অস্বীকৃতি জানালে ফ্লাইটটি বাতিল করা হয়েছে বলে দাবি করে ওয়েস্টজেট।
দুই বছরের বেশি বয়সী যাত্রীদের মাস্ক পরা বাধ্যতামূলক করে কোম্পানিটি।
তবে শিশুটির বাবা সাফওয়ান চৌধুরীর দাবি, ওয়েস্টজেট তার ১৯ মাস বয়সী মেয়েকে জোর করে মাস্ক পরাতে চেয়েছিল। কিন্তু তার মেয়ের কান্না থামছিল না তখন।
সাফওয়ান চৌধুরী বলেন, ‘চেক ইন করার সময় কোনও সমস্যা হয়নি, কিন্তু ফ্লাইটটি যাত্রার আগমুহূর্তে ওয়েস্ট জেটের একাধিক কর্মী তার স্ত্রীর কাছে এসে জানান উভয় বাচ্চাকেই মাস্ক পরতে হবে।’
স্ত্রী ও দুই মেয়েকে তিনি ফ্লাইটের জন্য অপেক্ষা করছিলেন। সে সময় তার ৩ বছর বাচ্চাটি মাস্ক খুলে নাস্তা খাচ্ছিল।
তিনি বলেন, ‘তিন বছর বয়সী মেয়েকে মাস্ক পরিয়েছিলাম। কিন্তু সে মুহূর্তে মাস্ক খুলে সে নাস্তা খাচ্ছিল। এটা বোঝানোর পরেও ওয়েস্টজেটের কর্মীরা আমাদের সাথে কঠোর আচরণ করেন। তারা আমার ১৯ বছর বয়সী বাচ্চার দিকে ফিরে বলে যে-ফ্লাইটের প্রত্যেক যাত্রীকে মাস্ক পরতে হবে নয়ত ফ্লাইট ছাড়বে না।’
এ যাত্রী আরও বলেন, ‘আমরা অবাক হলাম ১৯ মাস বয়সী বাচ্চাকেও তারা মাস্ক পরতে বলায়, যেটি তাদের বিধিনিষেধের অন্তর্ভুক্ত না।’
সাফওয়ান চৌধুরীর অভিযোগ, ওয়েস্টজেটের কর্মীরা আগ্রাসী আচরণ করেছিল তাদের সঙ্গে। তারা পুলিশ ডাকে। এমনকি বাচ্চার মুখে মাস্ক না থাকায় তাদের এয়ারপোর্ট ত্যাগ করতে বলা হয়। নয়তো গ্রেপ্তার করিয়ে কারাগারে পাঠানোর হুমকিও দেয়।
এ সময় তিনি ও তার স্ত্রী কোনো ধরনের তর্ক-বিতর্কে না গিয়ে সম্মানের সঙ্গে এয়ারপোর্ট থেকে বেরিয়ে যান।
পুরো ঘটনায় অন্য যাত্রীরা বিরক্তি প্রকাশ করেন। তিন বছরের কম বয়সী শিশুকে মাস্ক পরানো নিয়ে ওয়েস্টজেটের এ আচরণকে বাড়াবাড়ি হিসেবেই দেখেন তারা। শুধু এ ঘটনার জন্য পুরো ফ্লাইট বাতিলের কারণে তাদের ভুক্তভোগী হতে হয়েছে।