সেবা প্রকাশনীর ‘মাসুদ রানা’ সিরিজের ২৬০ এবং ‘কুয়াশা’ সিরিজের ৫০ বইয়ের লেখক হিসেবে শেখ আবদুল হাকিমকে স্বত্ব দিয়ে কপিরাইট অফিসের সিদ্ধান্ত এক মাস স্থগিত করেছে হাইকোর্ট। লেখক কাজী আনোয়ার হোসেনের করা এ-সংক্রান্ত একটি রিট আবেদনের ওপর শুনানি নিয়ে বৃহস্পতিবার বিচারপতি মো. আশফাকুল ইসলাম ও বিচারপতি মোহাম্মদ আলীর ভার্চুয়াল হাইকোর্ট বেঞ্চ রুলসহ এ স্থগিতাদেশ দেয়।
এখতিয়ার বহির্ভূত হওয়ায় কপিরাইট অফিসের ওই সিদ্ধান্ত কেন বেআইনি ঘোষণা করা হবে না- রুলে তা জানতে চাওয়া হয়েছে।
সংস্কৃতি সচিব, কপিরাইট অফিস, রেজিস্ট্রার অব কপিরাইটস এবং কপিরাইট বোর্ডকে রুলের জবাব দিতে বলা হয়েছে আদেশে।
‘মাসুদ রানা’ ও কুয়াশা’ সিরিজের মোট ৩১০টি বইয়ের লেখক হিসেবে শেখ আবদুল হাকিমকে স্বত্ব দিয়ে গত ১৪ জুন সিদ্ধান্ত দেয় কপিরাইট অফিস। পরে এমন সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে হাইকোর্টে আবেদন করেন কাজী আনোয়ার হোসেন। আবেদনের পক্ষে শুনানিতে ছিলেন আইনজীবী এ এম আমিন উদ্দিন ও এ বি এম হামিদুল মিসবাহ। রাষ্ট্রপক্ষে ছিলেন ডেপুটি অ্যাটর্নি জেনারেল দেবাশীষ ভট্টাচার্য।
গত বছরের ২৯ জুলাই ‘মাসুদ রানা’ সিরিজের ২৬০ এবং ‘কুয়াশা’ সিরিজের ৫০ বইয়ের লেখক হিসেবে স্বত্ব বা মালিকানা দাবি করে সেবা প্রকাশনীর স্বত্বাধিকারী কাজী আনোয়ার হোসেনের বিরুদ্ধে বাংলাদেশ কপিরাইট আইনের ৭১ ও ৮৯ ধারা লঙ্ঘনের অভিযোগ বাংলাদেশ কপিরাইট অফিসে দাখিল করেন শেখ আব্দুল হাকিম। ১৪ জুন বাংলাদেশ কপিরাইট অফিস শেখ আবদুল হাকিমের পক্ষে সিদ্ধান্ত দেয়।
এ বিষয়ে বাংলাদেশ কপিরাইট অফিস থেকে জানানো হয়, শেখ আবদুল হাকিমের দাবি করা ২৬০টি মাসুদ রানা বইয়ের মধ্যে একটি এবং কুয়াশার ৫০টি বইয়ের মধ্যে ছয়টিতে লেখক হিসেবে তার নামে কপিরাইট করা আছে। অন্যগুলোর কপিরাইট করা নেই। তবে সেগুলো তার লেখা এটি তিনি প্রমাণ করেছেন। কপিরাইট অন্তর্ভুক্তির কারণে তাকে প্রতিটি বইয়ের জন্য আলাদা করে আবেদন করতে হবে। এরপর প্রতিটি বইয়ের লেখক হিসেবে তার নাম যাওয়ার পাশাপাশি, কপিরাইটও তার হয়ে যাবে।