মিয়ানমার সেনাবাহিনীর বৈশ্বিক ব্যবসা থেকে ‘রোহিঙ্গা নিধনের তহবিল’

রোহিঙ্গাদের ওপর দমন-নিপীড়ন চালাতে মিয়ানমারের সেনাবাহিনী লাভজনক একটি গোপন সংস্থা থেকে প্রচুর অর্থ নিয়েছে বলে জানিয়েছে অ্যামনেস্টি ইন্টারন্যাশনাল।

সংস্থাটির তদন্ত প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, দেশটির সেনাবাহিনী মিয়ানমার ইকোনমিক হোল্ডিংস লিমিটেড (এমইএইচএল) নামের সংস্থা থেকে কয়েক বছর ধরে অর্থ নিয়েছে।

অ্যামনেস্টি বলছে, ‘এমইএইচএল দেশি-বিদেশি নানা কোম্পানির সঙ্গে ব্যবসা করে। সেনাবাহিনী এখান থেকে অর্থ নিয়ে অনেক অভিযান চালিয়েছে। তাদের বিরুদ্ধে আন্তর্জাতিক অপরাধে সরাসরি জড়িত হওয়ার প্রমাণ মিলেছে।’

‘সামরিক লিমিটেড কোম্পানির অর্থে মিয়ানমারে মানবাধিকার লঙ্ঘন’ শিরোনামের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ফাঁস হওয়া কিছু নথি থেকে এসব তথ্য সংগ্রহ করা হয়েছে।

এই কোম্পানির শেয়ার হোল্ডারদের মধ্যে মিয়ানমার মিলিটারি ইউনিটের যুদ্ধবিভাগের মালিকানাই এক তৃতীয়াংশ।

২০১৭ সালে মিয়ানমারের সেনাবাহিনী রোহিঙ্গা গণহত্যা ও মানবতাবিরোধী অপরাধ করে ৭ লাখ ৩০ হাজারের বেশি রোহিঙ্গাকে বাংলাদেশে পালিয়ে যেতে বাধ্য করে। মিয়ানমার গণহত্যার বিষয়টি অস্বীকার করেছে। তারা বলছে, অস্ত্রধারী সন্ত্রাসীদের বিরুদ্ধে সেনারা অভিযান চালিয়েছে।

কিন্তু এই দাবি আন্তর্জাতিক মহলে কখনোই পাত্তা পায়নি। জাতিসংঘের মানবাধিকার কাউন্সিল ২০১৮ সালে আইআইএমএম প্রতিষ্ঠা করে, যাতে মিয়ানমারের আন্তর্জাতিক অপরাধের প্রমাণ জোগাড় করে ভবিষ্যৎ শুনানিতে ব্যবহার করা যায়। দেশটির বিরুদ্ধে গাম্বিয়ার মামলাও চলমান রয়েছে।